অতিরিক্ত পরীক্ষানিরীক্ষার খেসারত দিল ভারত, ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

0
bangladesh wins t20

ভারত ১৪৮-৬ (ধাওয়ান ৪১, পন্থ ২৭, আমিনুল ইসলাম ২-২২, শফিউল ইসলাম ২-৩৬)

বাংলাদেশ ১৫৪-৩ (১৯.৩ ওভার) (মুসফিকুর ৬০, সৌম্য সরকার ৩৯, চহল ১-২৪)  

ওয়েবডেস্ক: টি২০ ক্রিকেটে এই প্রথম বার ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করল বাংলাদেশ। শাকিব-কাণ্ডের পরেও বাংলাদেশ যে এমন ভাবে ভারতকে হারাবে তা ভাবা যায়নি, যদিও ভারত-অধিনায়ক রোহিত শর্মা শনিবার বলেছিলেন, ক্রিকেটে বাংলাদেশ এত উন্নতি করেছে যে তারা যদি কাউকে হারায় তা হলে সেটাকে আর অঘটন বলা যায় না।

তবে ভারতের এই পরাজয়ের পিছনে দল নিয়ে অতিরিক্ত পরীক্ষানিরীক্ষাকেই দায়ী করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। এই দলে রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান ও কে এল রাহুল ছাড়া সিনিয়ার প্লেয়ার কেউই ছিলেন না। বাকিরা সবাই তুলনামূলক ভাবে কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তার মধ্যে শিবম দুবের এটি ছিল অভিষেক ম্যাচ।

তা বলে ভারতকে হারানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কৃতিত্ব কখনোই কম হয়ে যায় না। শাকিব-কাণ্ড যে তাদের খেলায় কোনো প্রভাব ফেলেনি, তার প্রমাণ এ দিন বাংলাদেশ দিয়েছে। আর বাংলাদেশের এই জয়ের পিছনে যাঁর অবদান সব চেয়ে বেশি, তিনি হলেন মুসফিকুর রহিম। ৪৩ বলে ৬০ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন।  

দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠায় বাংলাদেশ। কিন্তু ভারতের ব্যাটসম্যানরা প্রথম ব্যাটিংয়ের ফায়দা তুলতে পারেননি। প্রথম ওভারের শেষ বলেই ফিরে যান অধিনায়ক রোহিত। স্কোরবোর্ডে তখন ১০ রান, নিজের রান ৯। শফিউলের বলে এলবিডব্লিউ হন রোহিত। ধাওয়ানের সঙ্গী হন কে এল রাহুল।  

নিয়মিত ব্যবধানেই উইকেট পড়তে থাকে। দ্বিতীয় সিনিয়ার প্লেয়ার রাহুল বিদায় নেন দলের ৩৬ রানের মাথায়। আমিনুলের বলে মহমুদুল্লাহের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি। উইকেট পতন কিছুটা আটকে রাখার চেষ্টা করেন ধাওয়ান ও শ্রেয়স আইয়ার। ১৩ বলে ২২ রান করে শ্রেয়স বিদায় নেন দলের ৭০ রানের মাথায়।

আরও পড়ুন: ফের বল-বিকৃতিতে অভিযুক্ত পাকিস্তানি ক্রিকেটার, জরিমানা

দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী শিখর ধাওয়ান দলের ৯৫ রানের মাথায় রানআউট হয়ে গেলে ভারত অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যায়। ৭ রান পরেই নবাগত শিবম দুবে আফিফের বলে তাঁকেই ক্যাচ দিয়ে আউট হন। অভিষেক ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ১।

দলের ১২০ রানের মাথায় বিদায় ঋষভ পন্থের (২৭ রান)। এর পর ক্রুনাল পাণ্ড্য ও ওয়াশিংটন সুন্দর দলকে টেনে নিয়ে যান ১৪৮-এ। দু’ জনে যথাক্রমে ১৫ ও ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

১৪৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাট শুরু করেন। ভারতের কোনো বোলারই তাদের ব্যাটিংয়ে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে লিটন দাস আউট হয়তে গেলেও, মহম্মদ নাইম, সৌম্য সরকার, মুসফিকুর রহিম ও মহমুদুল্লাহের সৌজন্যে বাংলাদেশ ১৯.৩ ওভারে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যায়।

১৯তম ওভারে খলিল আহমেদকে পর পর চার বার সীমানার বাইরে পাঠিয়ে মুসফিকুর দলকে জয় থেকে মাত্র ৪ রান দূরে পৌঁছে দেন।

শেষ ৬ বলে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৪ রান। ভারতের হয়ে বল করতে আসেন নবাগত শিবম। ব্যাটে বাংলাদেশের অধিনায়ক মহমুদুল্লাহ। প্রথম বলে কোনো রান হল না। দ্বিতীয় বলে মিডউইকেটে পুল করে ২ রান। তৃতীয় বল ওয়াইড। দু’ দলের স্কোর সমান সমান। পরের বল শর্ট লেংথ, মিড উইকেটের উপর দিয়ে পুল করে ৬। বাংলাদেশের জয়। মহমুদুল্লাহের নেতৃত্বে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ মুসফিকুর রহিম।                 

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.