india vs england lord test
বিজয়ের উইকেটে অ্যান্ডারসনের উল্লাস। ছবি: টুইটার ইংল্যান্ড ক্রিকেট

ভারত: ১০৭ (অশ্বিন ২৯, বিরাট ২৩, অ্যান্ডারসন (৫-২০)

লন্ডন: মহম্মদ শামির ব্যাট থেকে বেরোনো চারে একশো পৌঁছোতেই যেন কিছুটা হাফ ছেড়ে বাঁচল বিরাটবাহিনী। আসলে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসের থেকেও বড়ো লজ্জা অপেক্ষা করেছিল লর্ডসের প্রথম ইনিংসে। কোনো রকম ভাবে একশো পেরোতেই শেষ হয়ে গেল ভারতীয় ব্যাটিং। 

ক্রিস ওক্‌সের বলে বিরাট কোহলি স্লিপে খোঁচা দিতেই সব কিছু ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল আর কফিনে শেষ পেরেকটা পোঁতা হয়ে গিয়েছিল রাহানের আউটে। ভারতের শেষ একটা আশা ছিল যতক্ষণ অশ্বিন এবং রাহানে ব্যাট করে যাচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিল চার বছর আগেই সেই স্মৃতি ফিরে আসবে কি না, যে দিন এ রকমই একটা পিচে দুর্ধর্ষ শতরান হাঁকিয়েছিলেন রাহানে। 

আসলে এই ভারতীয় দলের ব্যাপারটা হয়ে গিয়েছে, ‘যতক্ষণ বিরাট ততক্ষণ আশ।’ তাই তো ১৫ রানে তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেও ভালো ভাবে দিনের খেলা শেষ করার একটা আশা ভারতের হয়েছিল। কিন্তু বিরাট ফিরতেই…

প্রথম দিনের খেলার সম্পূর্ণ ভাবে পরিত্যক্ত হওয়ার পরে দ্বিতীয় দিনেও মাঝেমধ্যেই বাধ সেধেছে বৃষ্টি। কিন্তু যখনই খেলা হয়েছে তখনই যেন সেই একই ছবি। অর্থাৎ, ব্যাটসম্যানদের প্যাভিলিয়ন যাত্রা।

তবে এ দিনে দলে কিছু পরিবর্তন করেছিল ভারত। ধাওয়ানের জায়গায় এসেছেন পুজারা এবং উমেশ যাদবের জায়গায় এসেছেন কুলদীপ যাদব। তবে ওপেনিং কম্বিনেশন পালটালেও ভারতের ভাগ্য পালটায়নি। বিজয় এবং রাহুল, দু’জনেই অ্যান্ডারসনের শিকার হন। তিন নম্বরে নেমে এ দিন সুযোগ ছিল পুজারার কাছে। কিন্তু হায় ভাগ্য! রান আউট হয়ে গেলেন।

Run for cover! 🏃‍♂️🌧#ENGvIND #ShotOfTheDay pic.twitter.com/HEFWyewUpq— ICC (@ICC) August 10, 2018

পুজারার ওই বিশ্রী রানআউটে বিরাটও নিজের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। তিনি পুজারাকে ডেকে পিছিয়ে যান। তবে সত্যি কথা বলতে কী, যে ২৫টা বল পুজারা খেলেছিলেন, বেশ সাবলীল দেখিয়েছিল তাঁকে।

চতুর্থ উইকেটে রাহানেকে সঙ্গে নিয়ে ভাঙা ইনিংস কিছুটা জোড়া লাগাতে শুরু করেন বিরাট। কিন্তু বিরাট আউট হতেই আবার যে কে সেই। একটু পরেই ফেরেন হার্দিক পাণ্ড্য। দীনেশ কার্তিকের ব্যাট আর প্যাডের মধ্যে ফাঁক কবে জোড়া লাগবে কেউ জানে না। ঋদ্ধির অনুপস্থিতিতে তাঁর কাছে একটা সোনার সুযোগ ছিল, কিন্তু আপাতত তিনি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ।

তবুও যতক্ষণ রাহানে ছিলেন ততক্ষণ ক্ষীণ আশা ছিলই। কারণ অতীত বলে এই রকম পরিস্থিতিতেই জ্বলে ওঠে তাঁর ব্যাট। এ দিনও খারাপ খেলছিলেন না তিনি যদিও। কিন্তু ১৮-এ পৌঁছোতেই তাঁর মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটল, খোঁচা দিলেন স্লিপে।

ভারতের এই করুণ ব্যাটিং দশাকে তাদের বোলাররা কতটা মেকআপ করবে সেটা এখনই বলা যাবে না। ক্রিকেট ঘোর অনিশ্চয়তার খেলা। হতেই পারে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং-ও মুখ থুবড়ে পড়ল। কিন্তু বর্তমান যা পরিস্থিতি তাতে বৃষ্টি প্রার্থনা করা ছাড়া অন্য কোনো রাস্তা খোলা নেই বিরাটবাহিনীর।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন