মোরে থেকে মিয়াঁদাদ, ধোনি অবশ্য এ সবের ধার ধারেন না

0
M S Dhoni
অরুণাভ গুপ্ত

ক্রিকেটে স্লেজিং এখন জলভাত। টেলএন্ডারদের বেলায় যতটা না হয় তার হাজার গুণ বেশি হয় স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যানদের উপর। এর মূলে রয়েছে ভয়ঙ্কর পেশাদারিত্ব। প্রতিটা টিমের দর্শন, জিততে হবে, হার কথাটা অভিধানে থাকলে চলবে না। ব্যাটসম্যানদের মনোযোগে চিড় ধরানোর জন্য স্লেজিং মোক্ষম অস্ত্র। ১৯৯২ বিশ্বকাপ গ্রুপের খেলায় মুখোমুখি লড়ছে ভারত-পাকিস্তান।

বিশ্বকাপের বারান্দায়/১১

ব্যক্তিগত সম্পর্ক যতই ভালো থাক ক্রিকেট ময়দানে পুরো উল্টো ছবি, যেন সাপে-নেউলে সম্পর্ক। ভারতীয় টিমের তখন উইকেট কিপার কিরণ মোরে। ক্রিজে সদ্য এসেছেন পাকিস্তানের দুঁদে ব্যাটসম্যান জাভেদ মিয়াঁদাদ। ক্রিকেটাঙ্গনে তাঁর সর্ট-টেম্পারড স্বভাব, অর্থাৎ অল্পতে মেজাজ হারানো প্রায় সকলের জানা চ্যাপ্টার।

কিরণ মোরের কাছে এটা অজানা থাকবে, তা হতে পারে না। উনি সেই রাস্তাতেই হাঁটলেন যাতে জাভেদকে পরোক্ষ ভাবে চটিয়ে ওঁর খেলার বারোটা বাজানো যায়। শুরু হল লাগাতার আবেদন। ব্যাট খেলেছেন বা খেলেননি বয়ে গেল, মোরের আবেদনে খামতি নেই।

মোরের ট্র্যাপে পা দিলেন মিয়াঁদাদ, ঠিক করলেন ওঁকে হু-বহু নকল করবেন। মোরে যেই না অ্যাপিল করলেন জাভেদ তক্কে তক্কে ছিলেন, একেবারে যাকে বলে বাঁদরের নাচন শুরু করলেন। বিতিকিচ্ছিরি পরিস্থিতি, যা হোক কোনো রকমে সামলানো গিয়েছিল।

এখন অবশ্য এ রকম ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কোনো রকমেই নেই। বিশেষ করে উইকেটের পিছনে তো নয়-ই। যেহেতু উইকেট রক্ষকের শুভনাম মহেন্দ্র সিং ধোনি, যিনি ওসব ঠুনকো স্লেজিংয়ের ধার ধারেন না। তাঁর খেল-দর্শন বলে, আমার দস্তানা কথা বলবে, মুখ নয়। সেখানে হবে টক্কর।

জাভেদ মিঁয়াদাদ নিজেও ধোয়া তুলসীপাতা জল নন। স্লেজিং করার ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট এলেমদার, বরং বলা যায় অন্যতম গুরুদেবও। অস্ট্রেলিয়ার মার্ভ হিউজেসকে মিয়াঁদাদ সমানে ডেকে গিয়েছিলেন “বাস কন্ডাক্টর” বলে। মার্ভ হজম করেছেন, কিন্তু তখনই পাল্টা দেননি। দিলেন যখন তাঁকে আউট করলেন।

জাভেদ আউট হয়ে প্যাভিলিয়নের পথে চলেছেন, মার্ভ তাঁকে পিছন ধাওয়া করে গিয়ে বললেন, “টিকিট প্লিজ”। বুঝুন কি সপাটে রিটার্ন, একেবারে এস সার্ভিস, ও তো গুরুর গুরু।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন