ধোনি ফিরতেই চনমনে চেন্নাই হেলায় হারাল দায়িত্বজ্ঞানহীন দিল্লিকে

0

চেন্নাই: ১৭৯-৪ (রায়না ৫৯ ধোনি ৪৪, সুচিত ২-২৮)

দিল্লি: ৯৯ (আইয়ার ৪৪, ধাওয়ান ১৯, জাদেজা ৩-৯)

চেন্নাই: অনেকের মতে এ বারের আইপিএলের সম্ভাব্য ফাইনাল ম্যাচের স্টেজ রিহার্সাল অনুষ্ঠিত হল চেন্নাইয়ে। সেই ম্যাচে দিল্লিকে নিয়ে কার্যত ছিনিমিনি খেলল চেন্নাই। ধোনি ফিরতেই ফের জয়ের মুখ দেখল হলুদ জার্সিধারীরা।

প্রথম ইনিংসে যথারীতি ছোটোখাটো একটা ধোনি ধামাকা দেখল চেন্নাই। এ দিনের ধোনি ধামাকার মাহাত্ম্য অনেক বেশি। কারণ টসেই ধোনি জানিয়ে দিয়েছিলেন ভাইরাল জ্বর কাটিয়ে উঠলেও এখনও দুর্বলতা রয়েছে তাঁর। তা এই ‘দুর্বল’ ধোনি এ দিন যা করলেন, ফিট ধোনির থেকে বিশ্বকাপে অনেক বড়ো কিছু আশা করতেই পারে ভারত।

ধোনির ইনিংসের মাহাত্ম্য কতটা? দেড়শো আর ১৮০-এর মধ্যে ফারাক যতটা ঠিক ততটাই। প্রথম তিন ওভারে চার, প্রথম দশ ওভারে ৫২ তোলা চেন্নাইয়ের তরফ থেকে কী-ই বা আশা করা হচ্ছিল! ১৪তম ওভার থেকে ধোনি ব্যাটিং সামলালেও কোনো ভাবেই চেন্নাই দেড়শো পেরোতে পারে, তা ভাবা যায়নি। এটা সম্ভব হল ধোনির জন্যই। তাঁর ২২ বলের ৪৪ রানের ইনিংসটার জন্যই। আর এই ছোটো ইনিংসটাই বুঝিয়ে দিল এই চেন্নাই দলের কাছে তিনি কতটা অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন।

তবে ধোনি ধামাকা শুরু হওয়ার আগে প্রাথমিক কাজটা করে গিয়েছিলেন সুরেশ রায়না। প্রথম দিকে চেন্নাই যে রকম সমস্যায় ছিল, ওখান থেকে রায়না এমন ইনিংস না খেললে চেন্নাই ভালো জায়গায় পৌঁছোতেই পারত না।

আরও পড়ুন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে চমকপ্রদ ভবিষ্যদ্বাণী করলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

ধোনির ওই ধামার রেশ কিছু দিল্লি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। প্লে-অফে পৌঁছে গেলেও, সব ম্যাচ এখনও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রথম দুইয়ের মধ্যে থাকলে ফাইনালে যাওয়ার দু’টো সুযোগ পাওয়া যাবে। তা এই ম্যাচে কি কোনো ভাবে আত্মতুষ্ট হয়ে উঠেছিল দিল্লি? কারণ প্রথম দিকে তাদের ইনিংস দেখে মনে হচ্ছিল বড্ড যেন তাড়াহুড়ো করে ফেলছে তারা।

শিখর ধাওয়ান এবং শ্রেয়স আইয়ার যখন ব্যাট করছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল এই ম্যাচ দিল্লির কাছে জলভাত। কিন্তু তার পরেই সব কিছু যেন ঘুরে গেল। ঘূর্ণি উইকেট তো ছিলই, কিন্তু তার পরেও দিল্লির ওপরের ব্যাটসম্যানরা চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার মতো উইকেট দিয়ে এলেন। তার সঙ্গে যোগ হল হরভজন, ইমরান তাহির এবং জাদেজার স্পিন। সেই ঘূর্ণির জালেই জড়িয়ে গেল দিল্লি। এমনই দুর্দশা, যে একশো রানও পেরোতে পারল না তারা।

দিল্লির এই হারে তাদের প্লে-অফে যাওয়া কেউ আটকাতে পারবে না এটা ঠিক। কিন্তু এ ভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং করার পর ব্যাটসম্যানরা যে সৌরভ-পন্টিংয়ের কাছে ধমক খাবেন, তা বলাই বাহুল্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here