চূড়ান্ত লড়াইয়েও দাদার দলকে হারিয়ে বাজিমাত ধোনির

0

দিল্লি: ১৪৭-৯ (ঋষভ ৩৮, মানরো ২৭, ব্রাভো ২-১৮)

চেন্নাই: ১৫১-৪ (ওয়াটসন ৫০, দু’প্লেসি ৫০, বোল্ট ১-২০)

বিশাখাপত্তনম: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যে দিন এই আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটাল্‌স দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন, সে দিন থেকেই তাঁর ভক্তদের দাবি ছিল শাহরুখের কেকেআরের বিরুদ্ধে ‘বদলা’ নেওয়া। পাশাপাশি ছোটো হলেও আরও একটা দাবিও চোরাগোপ্তা ঘুরছিল। তা হল ধোনির দলকে মাত করা। তা কেকেআরের বিরুদ্ধে বদলা তো আগেই চুকিয়ে নিয়েছেন তিনি, কিন্তু ধোনির কাছে আবার আটকা পড়ে গেলেন। এই নিয়ে এই আইপিএলে তিন বার চেষ্টা করেও চেন্নাইকে হারাতে পারল না দিল্লি। পরিণাম, তৃতীয় সেরা দল হয়েই আইপিএলের মঞ্চ ছেড়ে দিল্লির বিদায় নেওয়া।

অমিত মিশ্র, ট্রেন্ট বোল্ট এবং ইশান্ত শর্মা, এই তিন জন টেল এন্ডার মিলেই ন’বলে ২২ তোলার পরেও যদি কোনো রকমে দেড়শোর কাছাকাছি স্কোর পৌঁছোয়, তা হলে ভেবে দেখুন, এই তিন জনের ব্যাট না চললে দিল্লি কোথায় আটকে যেত? আসলে আজ দিল্লির ভাগ্য ও রকমই ছিল। কিছুতেই ক্লিক করছিল না তাদের ব্যাটিং। ব্যাটসম্যানদের ভুল শট খেলে আউট তো ছিলই। সেই সঙ্গে যোগ হল চেন্নাইয়ের চাপা বোলিং, যে বোলিংয়ের সুবাদে টুর্নামেন্টে এত দূর এসেছে তারা।

ম্যাচ শুরুর আগে ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন, দিল্লির ওপরে কোনো চাপ নেই। খোলা মনে খেলবে তারা। কিন্তু দেখা গেল অন্য রকম। চাপহীন ভাবে খেলে গেলে এ রকম ভুল শটের রাজত্ব দেখা যেত না। শুরু হয়েছিল পৃথ্বী শ’কে দিয়ে। তার পর সেই ভুল শটের রোগ গ্রাস করল কলিন মানরো, শ্রেয়স আইয়ারদেরও। আইয়ার তো কার্যত ক্ষমার অযোগ্য কাজ করে গেলেন। এই টুর্নামেন্টে সামনে থেকে দুর্দান্ত নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। কিন্তু এ দিন ম্যাচের গুরুত্ব অনুযায়ী তাঁর আরও দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেটা হল না।

শেষে দিল্লিকে তুলনায় ভালো স্কোরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সব দায়িত্ব এসে পড়ল আবার সেই পন্থের ঘাড়ে। হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে যেখানে শেষ করেছিলেন, এ দিন সেখান থেকে শুরু করার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু সে ভাবে টাইমিং পাচ্ছিলেন না। আসলে এ দিনে পিচের চরিত্রও অন্য রকম ছিল। মন্থর গতির উইকেটে পন্থ নিজের চরিত্রে ঢুকতে পাচ্ছিলেন না। তা-ও অনেক চেষ্টা করেছেন। তাঁর ব্যাট না চললে এ দিন দিল্লি যে কত কম স্কোরে থামত, তা ভাবা যাচ্ছে না।

আর এরই মধ্যে দাপট দেখিয়েছিলেন চেন্নাইয়ের বোলাররা। রবীন্দ্র জাদেজা, ইমরান তাহির এবং হরভজন সিংহের স্পিনের কাছেই কার্যত আটকে গেল দিল্লি।

তবুও দিল্লির ভক্তদের কাছে আশা ছিল। বোলিং যদি ভালো হয়, তা হলে চেন্নাইকে আটকে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু সেটাই এ দিন করতে দিলেন না দুই ওপেনার ফাফ দু’প্লেসি এবং শেন ওয়াটসন। ওয়াটসন এ দিনও শুরুর দিকে আটকে গিয়েছিলেন। উলটো দিক থেকে চাপ কমানোর কাজ করে যাচ্ছিলেন দু’প্লেসি। কিন্তু তার পরে আদতে খেলা ঘুরিয়ে দেন ওয়াটসনই। এক সময়ে ১২ বলে ৬-তে আটকে থাকা ওয়াটসন যখন প্যাভিলিয়নে ফিরলেন, তখন তাঁর নামের পাশে ৩২ বলে ৫০। দু’প্লেসিও অর্ধশতরান করে গিয়েছেন।

এত অল্প রান তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার ৫০ করে করলে, ওখানেই ম্যাচ অর্ধেক শেষ। এর পর আর কোনো ভাবেই ম্যাচে ফিরতে পারত না দিল্লি। তবুও, নিয়মরক্ষার খাতিরে শেষের দিকে গোটা চারেক উইকেট নিয়ে নেয় তারা। তবুও দিল্লির মনমরা হওয়ার কিছু নেই। ৭ বছর পর প্লে-অফে উঠে, এক্কেবারে তৃতীয় দল হওয়া কম কৃতিত্বের নয়। দিল্লির এই উত্থানে সৌরভ এবং পন্টিং-এর হাত যে অনস্বীকার্য তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।

আইপিএল ভক্তদের নজর এখন রবিবার। যে দিন আবার একটা ফাইনালে মুখোমুখি হবে চেন্নাই এবং মুম্বই। এই নিয়ে চতুর্থ ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে দু’দল। ‘হেড-টু-হেড’-এ যেখানে মুম্বই ২-১-এ এগিয়ে। আবার চেন্নাই যে দু’বারই হেরেছিল, অধিনায়ক ছিলেন রোহিত শর্মা। তা হলে আবার কি কোনো বদলা দেখা যাবে? ৪৮ ঘণ্টার অপেক্ষা শুরু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here