ঋতুরাজের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে ভর করে মুম্বইয়ের ফাঁড়া কাটাল চেন্নাই

0

চেন্নাই ১৫৬-৬ (ঋতুরাজ ৮৮ অপরাজিত, জাদেজা ২৬, মিলনে ২-২১)

মুম্বই ১৩৬-৮ (সৌরভ ৫০ অপরাজিত, পোলার্ড ১৫, ব্রাভো ৩-২৫)

দুবাই: অবশেষে মুম্বইয়ের ফাঁড়া কাটাল চেন্নাই। অবশেষে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে দুর্দান্ত শুরু করল হলুদ জার্সিধারীরা। আইপিএলের ১৪তম সংস্করণের দ্বিতীয় ভাগের শুরুর দিনই মুম্বইকে পরাস্ত করে প্লে অফের দিকে আরও এক কদম এগিয়ে গেল ধোনির চেন্নাই। চেন্নাইয়ের এই জয়ে মূল ভূমিকা পালন করলেন ওপেনার ঋতুরাজ গায়েকওয়াড়।

ম্যাচের শুরুতেই বড়ো চমক অপেক্ষা করে ছিল ক্রিকেট ফ্যানদের জন্য। রোহিত শর্মার বদলে এ দিন মুম্বইয়ের হয়ে টস করতে আসেন কায়রন পোলার্ড। রোহিতের চোট রয়েছে না কি অন্য কোনো কারণ, সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি পোলার্ড।

টসে হেরে ফিল্ডিং করতে নেমেই প্রথম ওভারেই চেন্নাইকে ঝটকা দেয় মুম্বই। সাজঘরে ফিরে যান ফাফ দু’প্লেসি। দ্বিতীয় ওভারে আউট হয়ে যান মঈন আলি। অ্যাডাম মিলনের বলে সৌরভ তিওয়ারির হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

এর পর আরও দুর্দশা নেমে আসে চেন্নাইয়ের কপালে। মিলনের প্রথম বল খেলতে গিয়েই কনুইয়ে সজোরে আঘাত খান অম্বাতি রায়ডু। মাঠের মধ্যেই চিকিৎসা চলে। শেষমেশ মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। পাঁচ নম্বরে নামা সুরেশ রায়না বাউন্ডারি মেরে ইনিংস শুরু করলেও তিনিও দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। দলকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক মহেন্দ্র ধোনিও। তিন রান করেই ড্রেসিং রুমের পথ দেখেন তিনি।

এর পর অবশ্য ম্যাচে ফেরার চেষ্টা শুরু করে চেন্নাই। ওপেনার ঋতুরাজ গায়েকওয়াড় এবং রবীন্দ্র জাদেজা চেন্নাইয়ের প্রত্যাবর্তনের লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ঋতুর ছক্কার সৌজন্যে পঞ্চাশ রান পেরোয় সিএসকে। তবে রান তোলার গতি ছিল অত্যন্ত কম।

কার্যত একাই লড়ে যাচ্ছিলেন ঋতুরাজ। দলের স্কোর একশো পেরোনোর আগেই অর্ধশতরান করে ফেলেন তিনি। জাদেজাকে সঙ্গে নিয়ে রানের গতি বাড়াতে থাকেন ঋতুরাজ। দু’জনের মধ্যে একশো রানের কাছাকাছি জুটিও তৈরি হয়।

জাদেজা আউট হয়ে যাওয়ার পর ক্রিজে আসেন ডোয়েন ব্রাভো। চেন্নাই যেন বাড়তি অক্সিজেন পেয়ে যায়। ট্রেন্ট বোল্টের এক ওভারে তিনটি ছক্কা মারেন ব্রাভো। দুরন্ত গতিতে এগোতে থাকে চেন্নাইয়ের ইনিংস। শেষমেশ প্রায় ১৬০ রানের কাছাকাছি গিয়ে নিজেদের ইনিংস শেষ করে চেন্নাই। আর কিছুক্ষণ ক্রিজে থাকলে হয়তো শতরানও করে ফেলতে পারতেন ঋতুরাজ।

মুম্বইয়ের জবাব

১৬০ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি মুম্বই। প্রথম ২ ওভারে ১৪ রান তোলে তারা। এর পরেই উইকেট হারাতে শুরু করে মুম্বই। প্রথম ধাক্কাটা দেন দীপক চাহর। তাঁর বলে ফিরে যান মারমুখী ডি’কক। কিছুক্ষণের মধ্যেই রোহিতের বদলে দলে আসা আনমোলপ্রীত সিংহকেও ফিরিয়ে দেন তিনি। এর পর শার্দূলের বলে যখন সূর্যকুমার যাদব ফিরে যান, ততক্ষণে চাপ বাড়তে থাকে মুম্বইয়ের ওপরে।

ঈশান কিষান এবং সৌরভ তিওয়ারি মিলে মুম্বইয়ের ইনিংসকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তবে ক্রমশ রানরেট কমতে থাকে মুম্বইয়ের। ৯ ওভারে ৫৪-এর বেশি তুলতে পারেনি আরব সাগরের পাড়ের দলটি। এরই মধ্যে ঈশানকে হারিয়ে আরও বড়ো একটা ধাক্কা খায় মুম্বই।

ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নামেন পোলার্ড। তবে ততক্ষণে মুম্বইয়ের আস্কিং রেট ক্রমশ চড়ছে। ১৪তম ওভারে জস হ্যাজেলউডের বলে পোলার্ডকে হারায় মুম্বই। পাঁচ উইকেট পড়ে যায় তাদের। একশোয় পৌঁছোনোর আগে আরও একটা উইকেট হারায় মুম্বই। প্রবল চাপ বাড়তে থাকে তাদের ওপরে।

আস্কিং রেট যে ভাবে চড়ছিল, তাতে কোনো ভাবেই আর ম্যাচে ফেরা সম্ভব ছিল না মুম্বইয়ের। তবে শেষ দিকে সৌরভ এবং অ্যাডাম মিলনে মিলে একটা চেষ্টা করছিলেন। যদিও সেই চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি। চেন্নাইয়ের রানের থেকে ২০ রান দূরেই শেষ করে মুম্বই। এই ম্যাচের পর ৮ ম্যাচ থেকে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষ উঠে গেল ধোনিবাহিনী।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন