শেষ বলে স্যান্টনারের ছক্কাকে ছাপিয়ে ফের মাথাচাড়া দিল আম্পায়ারিং বিতর্ক

0

রাজস্থান: ১৫১-৭ (স্টোক্স ২৮, বাটলার ২৩, জাদেজা ২-২০)

চেন্নাই: ১৫৫-৬ (ধোনি ৫৮, রায়াড়ু ৫৭, স্টোক্স ২-৩৯)

Loading videos...

জয়পুর: অসুস্থ অবস্থাতেও ধোনির ধামাকা, রায়াড়ুর অসাধারণ ইনিংসকে ছাপিয়ে গেল নিউজিল্যন্ডের স্পিনার মিচেল স্যান্টনারের মারা শেষ বলে ছক্কা। সেই ছয়ের সুবাদে চেন্নাই জিতলেও ফের একবার মাথাচাড়া দিল আম্পায়ারিং বিতর্ক, যে বিতর্কের জন্য মাথা গরম করে ফেললেন স্বয়ং ধোনি।

প্রথম আইপিএলে হঠাৎ করে জিতে গিয়ে ক্রিকেট বোদ্ধাদের চমকে দিয়েছিল রাজস্থান। তার পর তাদের পারফরম্যান্স কখনোই আহামরি কিছু হয়নি, বার দুয়েক প্লে-অফে যাওয়া ছাড়া। এ বার তো তাদের অবস্থা আরও খারাপ। সপ্তম স্থানে রয়েছে তারা। একমাত্র লাস্ট বয় বেঙ্গালুরুকেই হারানোর সুযোগ হয়েছে। লিগ টেবিলের ‘ফার্স্ট বয়’ বনাম লিগ টেবিলের ‘সেকেন্ড লাস্ট বয়’-এর সেই লড়াই কী রকম হতে পারে, সেটা সহজে অনুমেয়। কিন্তু এই ম্যাচ যে এ রকম ভাবে হাড্ডাহাড্ডি হবে সেটা কোনো ভাবেই চিন্তা করা যায়নি।

বৃহস্পতিবারের জয়পুরেও অন্য রকম কিছু হল না। টসে জিতে রাজস্থানকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ধোনি। তার পর থেকেই হলুদ জার্সিওয়ালাদের দাপট। চেন্নাইয়ের বোলিং সামলে উঠতেই কালঘাম ছুটে গিয়েছে রাজস্থানের ব্যাটসম্যানদের।

গোটা ইনিংসে ৩০-এর বেশি কেউ করতে পারেননি। এর থেকেই প্রমাণিত হয়, ঠিক কতটা দাপট ছিল চেন্নাই বোলারদের। তা-ও দুই ব্রিটিশ কুড়ির গণ্ডি পেরিয়েছিলেন, সেটা না হলে আরও কমে আটকে যেতে পারত রাজস্থান। তবে শেষ দিকে শ্রেয়স গোপাল যদি ৭ বলে ১৯ রানের ঝোড়ো ইনিংসটি না খেলতেন তা হলে হয়তো ১৪০-ও পেরোতে পারত না পিঙ্ক জার্সিধারীরা।

আরও পড়ুন পোলার্ড ঝড়ে শেষ পঞ্জাব, তবে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যারও সমাধানসূত্র বেরোল

কিন্তু মাত্র দেড়শো তাড়া করতে গিয়ে চেন্নাই যে এ ভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে তা কে জানত! ইনিংসের শুরু থেকে একের পর এক ঝটকা। যখন ষষ্ঠ ওভার শুরু হল তখন চেন্নাইয়ের স্কোর চার উইকেটে ২৪। এই অবস্থায় চেন্নাইকে উদ্ধার করার জন্য দরকার ছিল একটা ধোনি ধামাকার।

সবাই যখন ধোনি ধামাকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তখন যেন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন অম্বাতি রায়াড়ু। বুধবার কেএল রাহুলের ইনিংস রায়াড়ুকে বাড়তি চাগিয়ে দিয়েছে কি না জানা নেই, কিন্তু তাঁর ইনিংসে আখেরে লাভ হল চেন্নাইয়েরই।

ধোনি এবং রায়াড়ুর মধ্যে দুর্দান্ত জুটি হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু মোক্ষম সময়ে আউট হয়ে যান রায়াড়ু। শেষ দু’ ওভারে চেন্নাইয়ের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩০। পুরো দায়িত্বই তখন ধোনির ঘাড়ে। তিনি যে কতটা লড়ে যাচ্ছিলেন, সেটা তাঁর মাঠের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা থেকেই প্রমাণ হয়ে যায়।

কিন্তু অঘটন ঘটে গেল শেষ ওভারে। ধোনির জন্য মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। কিন্তু তাঁর স্টাম্প উড়িয়ে দিলেন বেন স্টোক্স। তখনও বোঝা যায়নি, কী রুদ্রমূর্তি ধারণ করতে চলেছেন ধোনি। এক বল পর সেটাই হল, এবং সেই সঙ্গে ফের একবার আম্পায়ারিং বিতর্কও সামনে চলেছে এল।

মিচেল স্যান্টনারকে করা বেন স্টোক্সের একটি বল পরিষ্কার ভাবে কোমরের ওপরে ছিল। রিপ্লেতেও সেটা দেখা গিয়েছে। জাদেজা এবং স্যান্টনার নো-বলের দাবি জানালেও আম্পায়াররা কানে দেননি। তখনই দেখা গেল রাগত ধোনিকে। তিনি মাথা গরম করে যে ভাবে মাঠের মধ্যে চলে আসেন, সেটা আগে কখনও দেখা যায়নি। এর ফলে ধোনির ওপরে কোনো শাস্তির খাঁড়া নেমে আসবে কি না, সেটাও জানা নেই।

কিন্তু যা-ই হোক। এই বিতর্ক আড়ালে রেখেই জিতে গেল চেন্নাই। এবং চরম নাটকীয়তার মধ্যে। এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষ স্থানটিতে জায়গা আরও মজবুত করে ফেলল ধোনিবাহিনী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.