cskvssrh
চেন্নাইয়ে বিধ্বংসী মেজাজে ওয়াটসন।

হায়দরাবাদ: ১৭৫-৩ (পাণ্ডে ৮৩ অপরাজিত, ওয়ার্নার ৫৭, হরভজন ২-৩৯)

চেন্নাই: ১৭৬-৪ (ওয়াটসন ৯৬, রায়না ৩৮, ভুবনেশ্বর ১-১৮)

চেন্নাই: রান না পেতে পেতে যখন মনে হচ্ছিল, এ বার তাঁকে বাদ দিয়ে দেবে চেন্নাইয়ের টিম ম্যানেজমেন্ট, তখনই ঘুরে দাঁড়ালেন ওয়াটসন। অল্পের জন্য শতরান হাতছাড়া হলেও অনবদ্য এক ইনিংসে ভর করে ফের লিগ টেবিলের ওপরে উঠে পড়ল চেন্নাই।

এই আইপিএলে অন্যতম চর্চার বিষয় হল হায়দরাবাদের বেয়ারস্টো-ওয়ার্নার ওপেনিং জুটি। এখনও পর্যন্ত গোটা টুর্নামেন্টে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে খেলে গিয়েছেন দু’জনে। কিন্তু আজ এই দু’জনের কেউ নয়, নায়ক হিসেবে উদিত হল মনীশ পাণ্ডে।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য ইংল্যান্ডে ফিরে যেতে হবে বেয়ারস্টোকে। তার আগে এটিই ছিল আইপিএলে তাঁর শেষ ম্যাচ। অসাধারণ ইনিংস খেলে শেষ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হরভজনের একটি ঘূর্ণিতেই শেষ হয়ে গেল তাঁর সংক্ষিপ্ত ইনিংস। এর পরেই মাঠে নামলেন মনীশ এবং আলো জ্বালিয়ে দিলেন হায়দরাবাদের ইনিংসে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ পুরোনো নাম মনীশ। বিরাটদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলের সদস্য তিনি। আইপিএলেও অনেক সুন্দর ইনিংস রয়েছে তাঁর। শতরান রয়েছে, কেকেআরের হয়ে ২০১৪-এর ফাইনালে ম্যাচ জেতানো ইনিংসও রয়েছে। কিন্তু কখনোই এ দিনের মতো বিধ্বংসী মেজাজে দেখা যায়নি মনীশকে।

তাঁর বিধ্বংসী মেজাজের সামনে অনেকটাই ম্লান ছিলেন ওয়ার্নার। তবে বুদ্ধি করে তিনি মনীশকেই যাবতীয় মারার দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছেন। নিজে খেলছিলেন একটা সহকারী ভূমিকা। কিন্তু তাতেও ওয়ার্নারের অর্ধশতরান কেউ আটকাতে পারেনি। আবার অন্য দিকে দু’শোর স্ট্রাইক রেটে মনীশ যখন ৫০ পেরোলেন তখন মনে হচ্ছিল স্কোরটাকে দু’শোর কাছাকাছি নিয়ে যাবে হায়দরাবাদ।

কিন্তু সেই দু’শোর আকাঙ্ক্ষা যে পূরণ হল না তাঁর জন্য শেষ দিকে চেন্নাইয়ের চাপা বোলিংয়ের ভূমিকা যথেষ্ট। এই বোলিংয়ের জন্যই হাত খুলতে পারেননি সদ্য বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া বিজয় শংকর। সব মিলিয়ে প্রত্যাশামতো শেষ করতে পারেনি হায়দরাবাদ।

আরও পড়ুন ট্রফির লড়াইতে মেসিকে তাড়া করছেন সিআর সেভেন

রান তাড়ার শুরুটা বিশেষ ভালো হয়নি চেন্নাইয়ে। ইনিংসের প্রথম দশ বলে কোনো রান তো আসেইনি, তার পর রান আসা যখন শুরু হল তখনই রান আউট হয়ে গেলেন দু’প্লেসি। এ দিকে আবার ওয়ার্নারের রান নেই বিশেষ। সুতরাং সব দিক থেকেই চাপে পড়ে গেল চেন্নাই।

কিন্তু সেই চাপ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করল চেন্নাইয়ের ওপর থেকে। সৌজন্যে সেই ওয়াটসন এবং রায়না। গত কয়েক ম্যাচের অফ-ফর্ম এই ম্যাচেই কাটিয়ে নিয়ে রানে ফিরলেন ওয়াটসন। পেরিয়ে গেলেন সুন্দর একটা অর্ধশতরান। অন্য দিকে বড়ো ইনিংসের ঝলক দেখালেও মোক্ষম সময়ে আউট হয়ে গেলেন রায়না।

কিন্তু ওয়াটসন যে ছিলেন অন্য মেজাজে। গত আইপিএলের ফাইনালে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে যেখানে শেষ করেছিলেন তিনি, এ দিন যেন সেখান থেকেই শুরু করেন তিনি। প্রথম দিকের জড়তা অনবদ্য ভাবে কাটিয়ে উঠলেন তিনি। শেষ দিকে তো হায়দরাবাদ বোলারদের ‘ছেড়ে-দে-মা-কেঁদে-বাঁচি’ অবস্থা। তবে ওয়াটসন ফিরে যাওয়ার পর ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় হায়দরাবাদ।

শেষ ওভারে চেন্নাইয়ের দরকার ছিল ৯। এখানে চেন্নাইয়ের জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় কেদার যাদবের একটি ছক্কা। ঘরের মাঠে ফিরে ফের জয়ের মুখ দেখল চেন্নাই। প্লে-অফে যাওয়া কার্যত কোনো সমস্যাই নয় আর চেন্নাইয়ের।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here