শিখর ধাওয়ানের শতরানে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে নাটকীয় জয় দিল্লির

0

চেন্নাই: ১৭৯-৪ (দু’প্লেসি ৫৮, রায়ুড়ু ৪৫, নোর্কিয়া ২-৪৪)

দিল্লি: ১৮৫-৫ (ধাওয়ান ১০১ অপরাজিত, স্টয়নিস ২৪, চাহর ২-১৮)

Loading videos...

খবরঅনলাইন ডেস্ক: একেই সম্ভবত বলে রাখে ফিল্ডার মারে কে! চার চারটে ক্যাচ পড়ল তাঁর। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দুরন্ত শতরান করে ফেললেন শিখর ধাওয়ান। শেষ ওভারে পর পর দু’টো ছয় মেরে রাতারাতি হিরো হয়ে গেলেন অক্ষর পটেল। সব মিলিয়ে চলতি আইপিএলে আরও একবার জিতল দিল্লি এবং আরও একবার হারল চেন্নাই।

স্কোরবোর্ড সব সময়ে ঠিক কথা বলে না। স্কোরবোর্ডে দেখাচ্ছে চেন্নাইয়ের হয়ে সব থেকে বেশি রান করেছেন ফাফ ফু’প্লসি এবং অম্বতি রায়ুড়ু। কিন্তু চেন্নাইয়ের ইনিংসে সব থেকে বেশি এ দিন প্রভাব ফেলে গিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা।

জাদেজা থাকা আর না-থাকার মধ্যে অন্তত কুড়ি রানের পার্থক্য হয়ে যেত চেন্নাইয়ের। এই যে ১৮০ রানের কার্যত দোরগোড়ায় চেন্নাই পৌঁছে গেল, জাদেজার ব্যাট না চললে হয়তো ১৬০ করত তারা। তবে জাদেজার ব্যাট চলার জন্য এ দিন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেন ফাফ দু’প্লেসি এবং অম্বতি রায়ুড়ু।

স্যাম কারানকে ওপেনিংয়ে পাঠানোর ফাটকাটা এ দিন কাজে লাগেনি। কিন্তু তিনি দ্রুত ফিরে যাওয়ার পরেও ইনিংস ধরে নেন দু’প্লেসি এবং শেন ওয়াটসন। এক দিকে অনেকটাই বেশি আগ্রাসী ছিলেন দু’প্লেসি, অন্য দিকটা নিজের উইকেট ধরে রেখেছিলেন ওয়াটসন।

ওয়াটসন ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে আসেন রায়ুড়ু। টুর্নামেন্টে মোটামুটি ভালো ফর্মেই রয়েছেন তিনি। এ দিনও তাঁর ব্যাট শুরু থেকেই চলতে শুরু করল। তবে ইনিংসের শেষ দিকে এসে রানরেটে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল চেন্নাই। সেখানেই খেলা ধরে নিলেন জাদেজা।

মাত্র ১৩টা বল খেলে ৩৩ রান করলেন জাড্ডু। ২৫৩-এর স্ট্রাইক রেট রাখা এই ইনিংস সাজানো ছিল চারটে ছয়ে।

গত কয়েকটা ম্যাচে রেড-হট ফর্মে রয়েছেন শিখর ধাওয়ান। তাই চেন্নাইয়ের রান তাড়া করার জন্য সেই ধাওয়ানকে এ দিনও দুর্দান্ত শুরু করতে হত। সেটাই তিনি করেছিলেন। কিন্তু প্রথম দিকে কোনো সঙ্গী পাননি তিনি। রান তাড়া শুরুর সময় প্রথম বলেই ফিরে যান পৃথ্বী শ। রাজস্থান ম্যাচের পর ফের একবার প্রথম বলেই আউট হলেন পৃথ্বী।

তৃতীয় সুযোগেও ব্যর্থ হলেন অজিঙ্ক রাহানে। এ দিকে ব্যাটেবলে করতে পারছিলেন না অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। এই শারজাতেই কেকেআরের বিরুদ্ধে কী রকম তুখোড় খেলেছিলেন তিনি। কিন্তু এ দিন থাকলেন ধাওয়ানের ছায়াসঙ্গী হিসেবে। তা-ও খুব একটা কিছু করতেই পারেননি।

ধাওয়ান যতই বড়ো রানের দিকে এগিয়ে যান না কেন, আস্কিং রেটও যে বাড়ছিল ক্রমশ। আর এখানেই হাজির হলেন মার্কাস স্টয়নিস। ধাওয়ানের থেকে চাপ তো কমালেনই, নিজেও ঝোড়ো একটা ইনিংস খেলে পরিস্থিতিটাকে অনেক সহজ করে দিলেন।

কথায় বলে ভাগ্য সাহসীদেরই সঙ্গে থাকে। ধাওয়ানের থাকে এ দিন সেটাই হয়েছে। ২৩, ২৭, ৫০ এবং ৮০ রানে থাকাকালীন তাঁর ক্যাচ ফেলেছে চেন্নাই। এর মধ্যে ধোনির হাতেও ধাওয়ানের ক্যাচ পড়েছে, যা খুব একটা দেখা যায় না।

অদ্ভুত ভাবে আস্কিং রেটটা দশের ওপরে যেতেই দেয়নি দিল্লি। সেই দশম ওভার থেকে কার্যত হিসেব করে দশ রান ওভারপ্রতি করা গিয়েছে তারা। ফলে শেষের দুই ওভারে তাদের প্রয়োজন দাঁড়ায় ২১-এ। তবে ১৯তম ওভারের প্রথম বলে অ্যালেক্স ক্যারি ফিরে যাওয়ায় ধাওয়ানের ওপরে চাপ বেড়ে যায়।

স্যাম কারান যে চেন্নাইয়ের কাছে এখন অপরিহার্য হয়ে পড়ছেন, সেটাই দেখা যাচ্ছেন। ১৯তম ওভারটাতেই মাত্র চারটে রান দিয়ে ম্যাচের মোড় পুরো ঘুরিয়ে দেন কারান। ধাওয়ানের শতরানটাও এই ওভারেই হয়ে যায়। কিন্তু পরিস্থিতি যে ততক্ষণে দিল্লির অনুকূলে আর নেই, সেটা ধাওয়ানের প্রতিক্রিয়াহীন শতরান উদযাপন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল।

শেষ ওভারে দিল্লির জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৭। জাদেজাকে বল দিয়ে বিশাল বড়ো একটা ফাটকা খেলেন ধোনি। কিন্তু এই ওভারে ধাওয়ানকে কিছু করতেই হল না। তিন খানা ছয় মেরে ম্যাচ জিতিয়ে দিলেন অক্ষর পটেল। সাতটা জয় নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে পৌঁছে গেল দিল্লি।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

এবিডি ম্যাজিকে কেল্লাফতে বেঙ্গালুরুর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.