কলকাতা: ১৭৮-৭ (শুভমান ৬৫, রাসেল ৪৫, ইশান্ত ২-২১)

দিল্লি: ১৮০-৩ (ধাওয়ান ৯৭ অপরাজিত, পন্থ ৪৬, রানা ১-১২)

কলকাতা: বদলা ‘রাউন্ড টু।’ এ বার আবার কেকেআরের গুহায়। টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় বার, শাহরুখ নয়, শেষ হাসি হাসলেন দাদা। কেকেআরকে আবার হারাল দিল্লি।

৫ মে ২০১২-এর পর আবার যেন ছোটোখাটো বঙ্গভঙ্গ হয়ে গিয়েছিল এ দিন। কেকেআরের সমর্থকরা যেমন ছিলেন, তেমনই যথেষ্ট সমর্থন ছিল দিল্লির জন্যও। আর সেই সমর্থন যে বঙ্গসন্তানের জন্য, তা তো বলাই বাহুল্য। তা এই আবহে ম্যাচের প্রথমেই স্বস্তির জায়গায় দিল্লি পৌঁছে যায়, টস জিতে কেকেআরকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে।

অ্যান্ড্রে রাসেল না থাকলে কেকেআরের এই ব্যাটিং লাইনআপ যে অনেকটাই অচল তা বোঝা যায়। শুক্রবারের ইডেনে ঝকঝকে একটা ইনিংস উপহার দিলেন শুভমান গিল। কিন্তু আসল তারকা আবার সেই রাসেল। তাঁর ২১ বলে ৪৫-এর ইনিংসটা না থাকলে কেকেআর দেড়শোও পেরোত কি না সন্দেহ।

চোট-আঘাতে বেশ জর্জরিত কেকেআর শিবির শুক্রবার তাদের ওপেনিং জুটিটাকেই পালটে ফেলেছিল। দুই ওপেনারের মধ্যে এক জন সুপারফ্লপ তো অন্য জন সুপারহিট। ইশান্তের বিষাক্ত ইনসুইং-এ জো ডেনলির স্টাম্প ছিটকে যেতেই উচ্ছ্বাস দিল্লি শিবিরে। তবে সেই উচ্ছাসের স্থায়িত্ব বেশিক্ষণ ছিল না, কারণ এ দিন অন্য রকম মুডে ছিলেন গিল।

অসম্ভব প্রতিভাধারী গিল নিজের প্রতিভার সঙ্গে কিছুতেই সুবিচার করতে পারছিলেন না, কারণ তিনি এত দিন নামতেন অনেক নীচে। এ দিন যখন সুযোগ এল পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করলেন। আইপিএল কেরিয়ারের প্রথম অর্ধশতরান এল গিলের ব্যাট থেকে। কিন্ত যতক্ষণ না রাসেল ব্যাট ধরলেন, কিছুই যেন ঠিকঠাক এগোচ্ছিল না কেকেআরের জন্য। রাসেল এলেন, বোলার পেটালেন আর কেকেআরের স্কোরকে পৌঁছে দিলেন ১৮০-এর কাছাকাছি।

তবুও রানটা যে খুব বেশি নয়, সেটা স্বীকার করে নিয়েছিলেন রবিন উথাপ্পা। রান তাড়াটা দুর্দান্ত ভাবে শুরু করে দিল্লি। প্রথম ছ’ সাত ওভার পর্যন্ত দশের ওপরে রানরেট রেখে এগোচ্ছিল তারা। কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় পৃথ্বী শ এবং শ্রেয়স আয়ারের দ্রুত উইকেট পতন। যার ফলে রান তোলার জন্য বড়ো চাপ এসে পড়ে শিখর ধাওয়ানের ওপরে। তবে এ দিন অন্য মুডে নেমেছিলেন ধাওয়ান। যে মারকাটারি মেজাজ আমরা দেখতে অভ্যস্ত সেটাই দেখা যাচ্ছিল না ধাওয়ানের ব্যাট থেকে। কিন্তু এ দিন অন্য ধাওয়ান।

দু’ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর যখন দিল্লি কিছুটা চাপে, তখন দরকার ছিল ধাওয়ানকে যোগ্য সংগত দেওয়া। সেটাই করা শুরু করলেন ঋষভ পন্থ। এক দিকে যখন ঝোড়ো ইনিংস খেলে চলেছেন ধাওয়ান, তখনই উলটো দিকে কিছুটা চরিত্রবিরোধী ইনিংস খেলে গিয়েছেন পন্থ। কিন্তু পন্থ মানেই অনিশ্চয়তা। তাই দিল্লি রানের ব্যবধান কমালেও, কিছুতেই নিশ্চিন্ত হতে পারছিল না তারা। কিন্তু পন্থের সঙ্গে দুর্দান্ত শতরানের জুটি তৈরি করে কেকেআরকে ম্যাচ থেকে বের করে দেন ধাওয়ান।

এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসই বলে দিচ্ছে, জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছেও ম্যাচ বিসর্জন দিয়ে এসেছে দিল্লি। তাই শেষ মুহূর্তে ঋষভ পন্থ আউট হওয়ার পরে সেই ভয়টা আবার ঢুকে পড়েছিল দিল্লি শিবিরে। তবে সেই ভয় কাটিয়ে দিলেন কলিন ইনগ্র্যাম। শিখর ধাওয়ানের কাছে শতরানের সুযোগ ছিল। কিন্তু ইনগ্র্যাম বেশি ভাবেননি। শেষ ওভারে খেলা পৌঁছোনোর আগেই ছয় মেরে দিল্লিকে জিতিয়ে দেন তিনি।

এই ম্যাচের সব থেকে উল্লেখযোগ্য ব্যাপারটি লক্ষ্য করেছেন? এক দিকে যখন কেকেআরে কোনো বাঙালি ক্রিকেটারই নেই তখন দিল্লির আইপিএল দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিলেন দুই দিল্লিওয়ালা। কেকেআরের কাছে এটাও যেন একটা নীরব বার্তা হিসেবে থেকে গেল!

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here