ব্যাটে-বলে বেঙ্গালুরু শাসন দিল্লির

0

দিল্লি: ১৯৬-৪ (স্টয়নিস ৫৩ অপরাজিত, পৃথ্বী ৪২, সিরাজ ২-৩৪)

বেঙ্গালুরু ১৩৭-৯ (বিরাট ৪৩, ওয়াশিংটন ১৭, রাবাদা ৪-২৪)

খবরঅনলাইন ডেস্ক: লড়াইটা ছিল এই আইপিএলে এখনও পর্যন্ত দুই সেরা দলের মধ্যে। সেই লড়াইয়ে জিতে টুর্নামেন্টে নিজেদের জমি আরও শক্তিশালী করল দিল্লি ক্যাপিটাল্‌স। অন্য দিকে হেরে গিয়ে কিছু চাপে পড়ল বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরু শিবির।

দুবাইয়ের পিচে দুর্দান্ত ভাবে ইনিংস শুরু করা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং একটা ব্যাপার। সেই জিনিসটা সোমবার খুব ভালো ভাবেই পালন করলেন দিল্লির দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ানে এবং পৃথ্বী শ। তুলনামূলক ভাবে পৃথ্বীর দাপট অনেকটাই বেশি ছিল। আর সেই কারণে প্রথম পাঁচ ওভারেই পঞ্চাশ পেরিয়ে যায় তারা।

শিখর ধাওয়ানকে ইদানীং খুব একটা আগ্রাসী শুরু করতে দেখা যায় না। তিনি কিছুটা সময়ে নিয়ে ধুমধাড়াক্কা না খেলে বরং স্ট্রাইক পালটানোর দিকেই বেশি নজর দেন। দু’ জনের জুটি এ দিন ভালোই চলছিল। কিন্তু তাতে তাল কেটে দিলেন মহম্মদ সিরাজ।

আরসিবির পেস বোলিং বিভাগে ঐতিহ্যবাহী ভাবেই রান ফসকানোর একটা প্রবণতা দেখা যায়। সিরাজ গত বছর আইপিএলে যখনই সুযোগ পয়েছেন দলকে ডুবিয়েছেন। কিন্তু এ দিন এক্কেবারে অন্য সিরাজকে দেখা গেল। বাউন্সারে পৃথ্বীকে আউট করাই শুধু নয়, একাধিকবার ধাওয়ানকে বিপাকে ফেলেছেন। দুবাইয়ের শুকনো পিচে কোনো ভারতীয় বোলার নিখুঁত ভাবে বাউন্সার দিচ্ছেন, তা দেখতেও খুব ভালো লাগে।

মাঝের ওভারগুলোকে দিল্লিতে বেশ চাপেই ফেলে দিয়েছিল বেঙ্গালুরু। তাদের চাপ আরও হয়তো বাড়ত, যদি না তখন আবির্ভাব হত অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিসের। পঞ্জাবের বিরুদ্ধে দিল্লি যে প্রথম ম্যাচটা জিতেছিল, তার কৃতিত্ব একমাত্র ছিল স্টয়নিসের। এ দিনও সেই স্টয়নিসকেই দেখা গেল। দুশোর ওপরে স্ট্রাইক রেট রেখে ২৬ বলে ৫৩ রানের অসাধারণ একটা ইনিংস খেললেন তিনি।

রবিবার চেন্নাইয়ের রান তাড়া দেখেই এ দিন টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। কিন্তু রোজ একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে, সেটাও তো নয়। তাই এ দিন ফের নিজের পুরোনো ফর্মে ফিরে এল দুবাইয়ের পিচ।

রান তাড়া করতে নেমে শুধুমাত্র প্রথম দু’টো ওভার ভালো খেলেছিল বেঙ্গালুরু। তার পরেই ভেঙে পড়তে শুরু করে তারা। দেবদত্ত পাড়িক্কাল আর অ্যারন ফিঞ্চকে দ্রুত হারিয়ে বিরাট আর ডেভিলিয়ার্সের ওপরে পুরো দায়িত্বটা এসে পড়ে। ডেভিলিয়ার্স শুরু করেছিলেন ভালোই, কিন্তু পুল শটে ছক্কা মারতে গিয়ে খোঁচা লেগে ধরা পড়ে যান তিনি।

এর মধ্যে বেঙ্গালুরুর ওপরে চাপ বাড়াতে শুরু করেন দিল্লির দুই স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং অক্ষর পটেল। সব মিলিয়ে বেঙ্গালুরুর ইনিংস পুরো লাইনচ্যুত হয়ে যায়। সঠিক লাইনে আর কখনোই তাদের ব্যাটিং ফিরতে পারেনি।

শেষ ভরসা বলে ছিলেন বিরাট নিজে। কিন্তু একের পর এক সঙ্গী হারালে তিনিই বা কতটা টানবেন। তবুও চেষ্টা একটা করছিলেন। কিন্তু যখন মনে হচ্ছিল বিরাটের বিমান এ বার উড়তে শুরু করবে, তখনই সেটাকে টেনে নামিয়ে দিলেন কাগিসো রাবাদা।

একশোর নীচে পাঁচটা উইকেট পড়ে গিয়ে আর কোন দলের জয়ের আশা থাকে! বেঙ্গালুরুর যাবতীয় আশায় সেখানেই শেষ হয়ে গেল। বিশাল বড়ো একটা জয় পেয়ে গেলেন শ্রেয়স আইয়ারের দিল্লি। স্টয়নিস ছাড়াও এই জয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করলেন বোলাররা, বিশেষ করে রাবাদা। কার্যত ম্যাড়ম্যাড়ে একটা পিচে চার ওভারে ৪ উইকেট নিয়ে নিলেন তিনি।

পঞ্চম ম্যাচে দু’ নম্বর হার বেঙ্গালুরুর। এখনও পর্যন্ত পরিসংখ্যান ভালোই। কিন্তু এই হার যাতে ফের একবার অভ্যাসে যাতে না পরিণত হয়ে যায়, সেই দিকে নজর থাকবে বিরাট কোহলির।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন