২৩ বছর পর নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতে চলেছে ক্রিকেট বিশ্ব

0

অস্ট্রেলিয়া: ২২৩ (স্মিথ ৮৫, ক্যারি ৪৬, ওক্স ৩-২০)

ইংল্যান্ড: ২২৬-২ (রয় ৮৫, রুট ৪৯ অপরাজিত, কামিন্স ১-৩৪)

বার্মিংহাম: শেষ বার এমনটা ঘটেছিল ১৯৯৬ সালে। সে বার নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শ্রীলঙ্কাকে পেয়েছিল ক্রিকেটবিশ্ব। তার পর যত বারই বিশ্বকাপ হয়েছে, তত বারই যারা ট্রফি জিতেছে, তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ আগেও পেয়েছে। টানা কুড়ি বছরের সেই ধারা এ বার ভেঙে যেতে চলেছে। রবিবার লর্ডসে যে-ই চ্যাম্পিয়ন হোক, তাদের হাতে প্রথম বার বিশ্বকাপের ট্রফি উঠতে চলেছে।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড কার্যত নজিরবিহীন ভাবে অস্ট্রেলিয়াকে চুরমার করে দিল। প্রথম বল হাতে দাপট, তার পর ব্যাট হারে ডবল দাপট। সব মিলিয়ে যে ভাবে চরম কৃতিত্ব নিয়ে ইংল্যান্ড ফাইনালে পৌঁছে গেল, তাতে এখন থেকেই তাদের হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি দেখতে পাচ্ছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।

প্রথম সেমিফাইনালের মতোই কি দ্বিতীয় সেমিফাইনালেও পিচ পড়তে ভুল করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। নইলে যে পিচে রানের ফোয়ারা ওঠার কথা ছিল, সেখানে কি করে মুখ থুবড়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং?

টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত তুখোড় খেলে গিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যান অ্যারন ফিঞ্চ এবং ডেভিড ওয়ার্নার। মনে করা হচ্ছিল ইংল্যান্ডের বোলারদের ঠেঙিয়ে প্রথম দশ ওভারেই বিপক্ষের মনোবল ভেঙে দেবে এই ব্যাটিং-জুটি। সে রকম ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল ম্যাচের প্রথম বলেই, যখন ক্রিস ওক্সকে দুরন্ত ওফ-ড্রাইভে মাঠের বাইরে পাঠালেন ওয়ার্নার। কিন্তু তার পর থেকেই কেমন যেন ঘোল খেয়ে গেল অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং।

৪ রানে ১ উইকেট, ১০ রানে ২ উইকেট, ১৪ রানে ৩ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারকে পুরো ধসিয়ে দিলেন ওক্স এবং জোফ্রা আর্চার। এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার যাবতীয় ভরসা ছিলেন সেই কলঙ্কিত নায়ক স্টিভ স্মিথ। এবং অস্ট্রেলিয়ার পরিস্থিতি কিছুটা ভালো করার যাবতীয় দায়িত্বভার তিনিই নিজের কাঁধে নিয়ে নিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার নতুন উইকেট কিপার অ্যালেক্স ক্যারির ব্যাটিং দক্ষতা ক্রমশ উন্নত হচ্ছে। সেই ক্যারিকে সঙ্গে নিয়ে দুরন্ত পার্টনারশিপের মধ্যে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্য ঘোরাতে থাকলেন তিনি। কিন্তু দু’জনের মধ্যে একশো রানের জুটিটা ভাঙতেই আবার ম্যাচে প্রত্যাবর্তন করলেন ইংল্যান্ডের বোলাররা।

একটা দিক স্মিথ ধরে রেখেছিলেন, কিন্তু উলটো দিকে মিডিল অর্ডারের সাহায্য পাননি। তবে অষ্টম উইকেটে মিচেল স্টার্কের সঙ্গে ভালো একটি জুটি তৈরি করেন স্মিথ। ফলে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর যেটা এক সময় মনে হচ্ছিল ২০০ পেরোবে না, সেটা স্বচ্ছন্দেই দুশো পেরিয়ে যায়।

স্মিথের শতরানও প্রায় পাকাই ছিল। খেলছিলেন ভালো। কিন্তু শেষ দিকে দলের জন্য নিজের স্বার্থ বিসর্জন দেন তিনি। রান আউট হয়ে যান শতরান থেকে মাত্র ১৫ রান দূরে।

কম রানের পুঁজি নিয়েও অস্ট্রেলিয়া লড়াই দিতে পারে সব সময়। এই বার্মিংহামের মাঠেই তো কুড়ি বছর আগে অসাধারণ এবং নাটকীয় একটি সেমিফাইনালে সাউথ আফ্রিকা হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তাই মনে করা হচ্ছিল অজি বোলাররা সহজে হাল ছাড়বেন না। কিন্তু ব্রিটিশ ওপেনারদের হাতেই তাদের যাবতীয় প্রতিরোধ শেষ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন আবেগঘন বার্তা দিয়ে ভারতীয় দলকে বিদায় জানালেন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য

এক দিকে বিধ্বংসী ছিলেন জেসন রয় এবং অন্য দিকে সন্তর্পণে খেলে যাচ্ছিলেন জনি বেয়ারস্টো। ওই জুটির শতরানোর্ধ রানের দাপটেই কার্যত শেষ হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। ওপেনাররা এমন ভিতে ইংল্যান্ডকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন, যে বাকিটা শুধুমাত্র নিয়মরক্ষারই হয়ে দাঁড়ায়।

তবুও এরই মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হল জেসন রয়ের আউটটি নিয়ে। উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান রয়। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায় ব্যাটে বলে কোনো সংযোগই হয়নি। অন্য দিকে রিভিউও অবশিষ্ট না থাকায় মাঠের মধ্যেই আম্পায়ারদের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা যায় রয়কে। এই ম্যাচে যদি ইংল্যান্ড হেরে যেত, তা হলে রয়ের আউট যে অন্য মাত্রা বহন করত তা বলাই বাহুল্য।

কিন্তু এ সবের পরেও কোথাও যেন মনে হয় ক্রিকেটদেবতা বড়ো অন্যায় করলেন। লিগ পর্বের শেষে টেবিল শীর্ষে থাকা দুই দলকেই বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন তিনি। এ বার ফাইনাল খেলবে কি না, তিন আর চারে থাকা দুই দল। এটা কি মেনে নেওয়া যায়?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.