Connect with us

ক্রিকেট

ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ফাইনাল! সুপার ওভার টাই করে প্রথম বার বিশ্বকাপ ঘরে আনল ক্রিকেটের জনকরা

নিউজিল্যান্ড: ২৪১-৮ (নিকোল্‌স ৫৫, ল্যাথাম ৪৭, ওক্স ৩-৩৭) [সুপার ওভার-১৫-০]

ইংল্যান্ড: ২৪১ (স্টোক্স ৮৪ অপরাজিত, বাটলার ৫৯, নিশাম ৩-৪৩) [সুপার ওভার- ১৫-০]

লন্ডন: ক্রিকেটের জনক তারাই। অথচ ক্রিকেটের সেরা মুকুটটি এত দিন পর্যন্ত অধরাই রয়ে গিয়েছিল তাদের। তিন বার ফাইনালে এসেও ব্যর্থ হয়েছিল তারা। অবশেষে সেই অপ্রাপ্তির জ্বালা কাটিয়ে উঠল ইংল্যান্ড ক্রিকেট। ‘হোম অব ক্রিকেট’-এ বিশ্বকাপ ঘরে তুলল মর্গ্যান বাহিনী। আর যাঁর অবদানের জন্য ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ পেল, তিনি বেন স্টোক্স।

কিন্তু ক্রিকেটে সেরা মঞ্চের সেরা ফাইনাল যে এ রকম জায়গায় যাবে কে জানত। শেষমেশ কি না বিশ্বকাপ ফাইনাল টাই হয়ে গেল। আর দু’দলের মধ্যে তফাত গড়ার জন্য দরকার হয়ে পড়ল সুপার ওভার। সুপার ওভারও হল টাই। শেষমেশ বেশি বাউন্ডারি মারার সুবাদে বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তুলে নিল ইংল্যান্ড। টি২০ ছাড়িয়ে এই প্রথম ৫০ ওভারের মঞ্চে ঢুকে পড়ল সুপার ওভার। ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ ফাইনালের এটা যে আরও এক বড়ো প্রাপ্তি।

স্কোরবোর্ড সব সময় সত্যি কথা বলে না। কারণ আপনি যদি প্রথম ইনিংসের স্কোরবোর্ডের দিকে তাকান তা হলে দেখবেন ইংল্যান্ডের সব থেকে সফল বোলার ক্রিস ওক্স। কিন্তু ব্রিটিশ বোলারদের মধ্যে যাঁর প্রভাব সব থেকে বেশি ছিল তিনি লিয়াম প্লাঙ্কেট। কারণ মোক্ষম সময়ে তিনটে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তিনি না তুললে, নিউজিল্যান্ডের ইনিংস আরও অনেকটাই যেতে পারত।

লর্ডসের পিচে সবুজ আভা দেখে অনেকের মধ্যেই দোটানা ছিল। টসে জয়ী অধিনায়ককে ঠিক কী করা উচিত। পিচ রিপোর্টের সময়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়া ছাড়া অন্য কিছুই ভাবা উচিত নয়। তাঁর যুক্তি, এই ঘাস সাংঘাতিক ঘাতক কিছু নয়। ধীরে ধীরে খেলে প্রথম দশ ওভার সামলে নিলে আর কোনো সমস্যা হবে না। ফাইনালে সব সময় আগে ব্যাট করে স্কোর তুলে নিতে বিপক্ষ চাপে পড়বে বলেও যুক্তি দেন সৌরভ।

তা কেন উইলিয়ামসনও যে সৌরভের মতোই ভাবছিলেন, তা বোঝা গেল ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস দেখে। অন্য দিকে মর্গ্যান বললেন, টসে হেরে তিনি খুশি, কারণ তাঁকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হল না।

সৌরভের কথামতোই কিন্তু নিউজিল্যান্ড ব্যাটিং শুরু করল। দলের দুর্বল জায়গাটি হচ্ছে ওপেনিং জুটি। কারণ মার্টিন গাপ্টিল এবং হেনরি নিকোল্‌স, দুই ওপেনারেরই রান নেই বিশেষ। গাপ্টিল এ দিনও কিছু করতে পারলেন না। তবে শুরুর দিকে বেশি উজ্জ্বল ছিলেন। কিন্তু কুড়ি বল খেলার আগেই প্যাভিলিয়নের পথ দেখেন। এর পর যাবতীয় দায়িত্ব ছিল উইলিয়ামসন এবং নিকোল্‌সের ওপরে।

স্কোরবোর্ড সচল রাখার দায়িত্বটি দুর্দান্ত ভাবে পালন করছিলেন কেন এবং হেনরি। তবে যত ইনিংস এগিয়েছে নিকোল্‌সকে যতটা ছন্দে দেখা গিয়েছে, উইলিয়ামসনকে ততই মনে হয়েছে, তিনি ছন্দ হারাচ্ছেন। এর মধ্যে ভালো ভাবে ১০০ পেরিয়ে গেল দল। কিন্তু তার পর থেকেই হঠাৎ করে ছন্দপতন।

কিউয়ি ব্যাটিংয়ের দুই স্তম্ভকে ভাঙার দায়িত্ব দিলেন প্লাঙ্কেট। উইলিয়ামসন এবং অর্ধশতরান করে আরও জাঁকিয়ে বসা নিকোল্‌স ফিরলেন তাঁরই দৌলতে। একটু পরেই ফিরলেন রস টেলরও। যদিও তাঁর আউট নিয়েও যথেষ্ট প্রশ্নচিহ্ন থেকে যায়। এই যে ধাক্কাটা নিউজিল্যান্ড খেল, আর সে ভাবে সেখান থেকে বেরোতে পারল না।

প্লাঙ্কেট-ওক্স-আর্চার-উড সমৃদ্ধ ইংল্যান্ডের পেস ব্যাটারি নিউজিল্যান্ডের মারকাটারি ব্যাটসম্যানদেরও চাপে রেখে দিল। একমাত্র টম ল্যাথাম রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তাতেও বিশেষ লাভ হয়নি। শেষমেশ নিউজিল্যান্ড যে স্কোরটায় পৌঁছোল, সেটাও ফাইনালের পক্ষে যথেষ্ট ভালোই বলে মত প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ঠিক যে ভাবে বোলিং শুরু করেছিল কিউয়িরা, ফাইনালে তার অনেকটা পুনরাবৃত্তিই দেখা গেল। চাপা বোলিংয়ের জেরে এক দিকে যেমন ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারকে হাত খুলতে দেননি বোল্ট-হনরিরা, তেমনই উইকেটও তুলেছেন পটাপট। প্রথমেই ফিরে যান এই বিশ্বকাপে চূড়ান্ত ফর্মে থাকা জেসন রয়। তিন নম্বরে নামা জো রুট, যিনি ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান করেছেন, তাঁকেই আটকে রেখেছিলেন কিউয়ি বোলাররা। ফলে কার্যত ধৈর্যচ্যুতি ঘটে তাঁর এবং উইকেটটি নিউজিল্যান্ডকে দিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন এই প্রথমবার একক ভাবে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আয়োজক হতে চলেছে ভারত

এর পর পালা ছিল জনি বেয়ারস্টোর, টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রহকারী। ১৫ ওভারের মধ্যে তিনিও ফিরলেন। এর বেশ কিছু ওভার পর যখন প্যাভিলিয়নের পথ দেখলেন ওইন মর্গ্যানও, তখন ম্যাচের একটাই ভবিতব্য! তা হল নিউজিল্যান্ডের হাতে ট্রফি।

এর পর যে কাণ্ডটি ঘটবে, সেটা অতি বড়ো ইংল্যান্ড ভক্তও আন্দাজ করতে পারেননি। দুর্দান্ত জুটি তৈরি করে ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিলেন বেন স্টোক্স এবং জস বাটলার। দাঁত কামড়ে পড়ে থাকলেন ব্যাটিংয়ের পক্ষে কঠিন হয়ে আসা পিচে। সেই সঙ্গে ধীরে ধীরে বাড়ালেন রানের গতিও।

গত দেড় বছর, খুব অসহায় পরিস্থিতি গিয়েছে স্টোক্সের। ক্রিকেটের বাইরে নানা ঝামেলায় জড়িয়ে কোর্ট-কাছারি-হাজতবাস, কত কিছুই না করতে হয়েছে তাঁকে। নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে দরকার ছিল এমনই এক মঞ্চ। সেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই নিজের জাত চেনালেন, এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। আর অন্য দিকে বাটলারও সহজাত দক্ষতায় নিজেদের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন। ধীরে ধীরে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ঢুকতে শুরু করল ইংল্যান্ডের মধ্যে।

তবুও কিউয়ি ভক্তরা আশা ছাড়েননি। নিজেদের দলের লড়াকু মানসিকতার প্রতি তাঁদের পুরো আস্থা ছিল। ভরসা ছিল শেষ মুহূর্তে আবার নাটকীয় কিছু হবেই। এবং হলও। মোক্ষম সময়ে বাটলারকে ফিরিয়ে দিলেন লকি ফার্গুসন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওক্সের উইকেটও তুলে নিলেন তিনি।

শেষ তিন ওভারে দরকার ৩৪। ক্রিজে তখন স্টোক্স। ইংল্যান্ডের যাবতীয় আশা এবং ভরসা তিনিই। শেষ দু’ওভারে প্রয়োজনীয় রান দাঁড়াল ২৪। প্লাঙ্কেটকে সঙ্গে নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যাচ্ছেন স্টোক্স। শেষ ওভারে হিসেব গিয়ে দাঁড়াল ১৫। আবার একটা বিশ্বকাপের শেষ ওভার আবার স্টোক্স। ২০১৬ সালে বল হাতে ১৯ রান বাঁচাতে পারেননি, এ বার কি পারবেন ১৫ রান করতে!

শেষ ওভারেই কামাল করলেন স্টোক্স। একটি ছয় এবং ভাগ্যের সাহায্য পেয়ে শেষ ২ বলে হিসেব কমে দাঁড়াল ৩ রানে। আবার ম্যাচের মোড় ঘুরে গেল। শেষ বলে দরকার ছিল ২। স্ট্রাইকে তখন স্টোক্স। বোল্টের বলে এক রান করলেন কিন্তু দ্বিতীয় রান নেওয়ার সঙ্গে বিপরীত ব্যাটসম্যানটি রান আউট হতেই সুপার ওভারে ঢুকে গেল ম্যাচ।

সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড তুলল ১৫। এর পর ইংল্যান্ডের যাবতীয় ভরসা ছিলেন জোফরা আর্চার। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগেই যিনি ইংল্যান্ড দলে সুযোগ পেয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন জমাটি বিশ্বকাপ ফাইনাল হয়নি। সব ম্যাচই হয়েছে একপেশে। এ বারের ফাইনাল যে সে অর্থে অনন্য এবং মানুষের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে তা বলাই বাহুল্য। আর বিশ্বকাপের সেরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে ক্রিকেটে সেরা ট্রফিটি তুলে ইতিহাসে ঢুকে পড়লেন ওইন মর্গ্যান। অন্য দিকে ট্র্যাজিক হিরো হিসেবেই থেকে গেলেন কেন উইলিয়ামসন। আবার অপেক্ষা চার বছরের।

ক্রিকেট

১১৬ দিন পর শুরু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, হাঁটু গেড়ে বসে জর্জ ফ্লয়েডকে স্মরণ ক্রিকেটারদের

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ১১৬ দিন পর ফিরল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। সেই মাহেন্দ্রক্ষণে স্মরণ করা হল জর্জ ফ্লয়েডকে। হাঁটু গেড়ে বসে ‘ব্ল্যাক লাইভ্‌স ম্যাটার’কে মনে করালেন দুই দলের ক্রিকেটাররা।

গত ১৩ মার্চ সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পরেই ক্রিকেটের মঞ্চে পর্দা পড়ে যায়। করোনার দাপটে স্তব্ধ হয়ে যায় সব কিছু। বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের মতোই ঘরবন্দি হয়ে যান ক্রিকেটাররাও।

ফের ক্রিকেট ফেরানোর জন্য আলাপ আলোচনা শুরু হয় ইংল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে। গত মে মাসে ইংল্যান্ড সফরে আসার জন্য রাজি হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে তাদের বেশ কিছু সর্ত পূরণ করতে হত।

গত ৮ জুন ইংল্যান্ডে পা রাখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সবার কোভিড পরীক্ষা হয়। রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়ার পর ২১ দিনের কোয়ারান্টাইনে চলে যান ক্রিকেটাররা। সেই কোয়ারান্টাইন পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর নিজেদের মধ্যেই দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা।

এরই মধ্যে আমেরিকায় জর্জ ফ্লয়েডের নৃশংস হত্যার ঘটনাও ঘটে গেল। ‘ব্ল্যাক লাইভ্‌স ম্যাটার’ প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। এই প্রতিবাদে সামিল হন দুই দলের ক্রিকেটাররাও।

অবশেষে বুধবার বল গড়াল ক্রিকেটের। ১১৬ পর ফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দেখছে দুনিয়া। খুশি হয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। খেলা শুরুর ঠিক আগেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন দুই দলের ক্রিকেটাররা। স্মরণ করেন জর্জ ফ্লয়েডকে।

Continue Reading

ক্রিকেট

জন্মদিনের দিন দেখে নেওয়া যাক অধিনায়ক সৌরভের পাঁচটি কালজয়ী সিদ্ধান্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ৪৮-এ পড়লেন বিসিসিআই (BCCI) সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly)। এক দিনের ক্রিকেটে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান সৌরভ, ওপেনিংকে অন্যতম মাত্রা এনে দিয়েছেন।

একই সঙ্গে ভারতের অন্যতম সফল অধিনায়কও বটে। তবে যে পরিস্থিতিতে তিনি ভারতীয় দলের হাল ধরেছিলেন, তাতে তিনি যে ধোনি বা কোহলির থেকেও সেরা অধিনায়ক, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এক বার দেখা নিই অধিনায়ক সৌরভের এমন পাঁচটি সিদ্ধান্ত যা কালজয়ী হয়ে উঠেছে।

১) ২০০১-এর কলকাতা টেস্টে ভিভিএস লক্ষ্মণকে ৩ নম্বরে পাঠানো

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেই বিখ্যাত ইডেন টেস্টে ফলো-অন করতে হয় ভারতকে। প্রথম ইনিংসে ভারত মাত্র ১৭১ অল আউট হয়ে গেলেও শুধুমাত্র ভিভিএস লক্ষ্মণই (VVS Laxman) অস্ট্রেলীয় বোলারদের সামনে সাবলীল ছিলেন।

সে কারণে, দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রাবিড়ের বদলে লক্ষ্মণকে তিন নম্বরে ব্যাট করতে পাঠায় টিম ম্যানেজমেন্ট। এই সিদ্ধান্তটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ছয় নম্বরে নামা দ্রাবিড়কে সঙ্গে নিয়ে টেস্টে চতুর্থ দিন পুরো ব্যাট করে যান লক্ষ্মণ। ২৮১ রানের ঐতিহাসিক একটি ইনিংস খেলে ফেলেন তিনি।

এর ফলে নাটকীয় জয় পায় ভারত। বিশ্বের তৃতীয় দল হিসেবে ফলোঅন করার পর টেস্ট ম্যাচ জেতে ভারত। এর পর চেন্নাইয়ে তৃতীয় টেস্ট জিতে সিরিজ ২-১-এ জিতে নেয় সৌরভের ভারত। সিরিজটা ভারতীয় ক্রিকেটের পুরো ভাবমূর্তিই বদলে দেয়।

ইডেনে ফলোঅন করে ভারতের অত্যাশ্চর্য জয় ক্রিকেট-বিশ্বে রীতিমতো আলোড়ন তৈরি করেছিল। তার রেশ এখনও আছে। এখনও প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত ভাবে এগিয়ে থাকা দল প্রতিপক্ষকে ফলোঅন করাতে দু’ বার চিন্তা করে।

২) সহবাগকে দিয়ে ওপেন করানো

শুরু থেকেই মিডিল অর্ডার ব্যাটসম্যান ছিলেন বীরেন্দ্র সহবাগ (Virender Sehwag)। ২০০১-এ সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেকেও ছয় নম্বরে নেমে দুর্ধর্ষ শতরান করেছিলেন তিনি। এক দিনের ক্রিকেটেও পাঁচ বা ছয় নম্বরে নামতেন সহবাগ। এ হেন সহবাগের মধ্যেই অন্য কিছু ব্যাপার খুঁজে পেলেন সৌরভ। বুঝতে পারলেন সহবাগকে দিয়ে ওপেন করালে আরও ভালো ফল পেতে পারে ভারত।

সহবাগকে ওপেনিংয়ে পাঠানোর সেই সিদ্ধান্তটা জে কালজয়ী ছিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। টেস্ট ওপেনিংয়ের নতুন সংজ্ঞা দিলেন তিনি। ৫০-এর ওপরে গড় আর দু’টি ত্রিশতরান করে ভারতের অন্যতম সফল ওপেনারদের মধ্যে একজন হয়ে যান সহবাগ।

৩) দ্রাবিড়কে উইকেটকিপার করা

কোচ জন রাইটের সমর্থনে সৌরভের আরও একটি মাস্টারস্ট্রোকীয় চাল। রাহুল দ্রাবিড়কে (Rahul Dravid) এক দিনের দলে উইকেটকিপার করে আনা। দ্রাবিড়ের ব্যাটিং ফর্ম কিছুটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল বলে ২০০২-এর গোড়ায় এক দিনের দল থেকে বাদ পড়েছিলেন।

কিন্তু সৌরভ বুঝতে পারেন, দ্রাবিড়ের মতো ব্যাটসম্যানকে এক দিনের দলের বাইরে রাখা উচিত নয়। এর ফলে এক ঢিলে দুই পাখি মরল। ভারতীয় দলে বাড়তি ব্যাটসম্যানও এল, আর উইকেটে পেছনে মোটামুটি নির্ভরযোগ্য একজনকে পাওয়াও গেল।

উইকেটকিপার হিসেবে দ্রাবিড় কতটা দক্ষ ছিলেন, সেটা তো ২০০৩ বিশ্বকাপেই দেখেছি আমরা। সেই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সময়েও ব্যাট হাতেও বিশাল ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

৪) ধোনিকে তিন নম্বরে পাঠানো

২০০৪-এর শেষ দিকে বাংলাদেশে অভিষেক হয় মহেন্দ্র সিংহ ধোনির (MS Dhoni)। তিনটে ম্যাচে আহামরি রান পাননি। ধোনিকে সাত নম্বরে পাঠিয়ে তাঁর ব্যাটিং প্রতিভাকে পুরোপুরি নষ্ট করা হচ্ছে, সেটা বুঝেছিলেন সৌরভ। সে কারণেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশাখাপত্তনমে তিন নম্বরে পাঠান ধোনিকে।

ওই ম্যাচেই ধোনি জানান দিয়ে যান তিনি কী! ১৪৮ রানের একটা ইনিংস খেলেন ধোনি। তার পর আর ধোনিকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

৫) তরুণদের তুলে আনা

সহবাগ, যুবরাজ, হরভজন, জাহির খান আর ধোনি – সৌরভের অধিনায়কত্বে উঠে এসেছেন সবাই। ২০০০ সালে গড়াপেটার জাল থেকে ভারতীয় দলকে বের করে আনার পেছনে সৌরভের অন্যতম কারিগর ছিলেন এই তরুণরা।

বিদেশের মাঠে অন্যতম সফল টেস্ট অধিনায়ক সৌরভ। ২৮ টেস্টে ১১টা জয় পেয়ে রয়েছেন বিরাট কোহলির পরেই। সৌরভের এই সাফল্যের পেছনে তরুণদের অবদান যে অনস্বীকার্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Continue Reading

ক্রিকেট

জন্মদিনে ফিরে দেখা মহেন্দ্র সিংহ ধোনির ম্যাচ জেতানো তিনটে সেরা ইনিংস

বিশ্বকাপ ফাইনালের ৯১ রানের ইনিংসটা নিঃসন্দেহে ধোনির সেরা।

dhoni

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ৩৯-এ পড়লেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি (MS Dhoni)। সকাল থেকেই শুভেচ্ছার বন্যায় ভেসে যাচ্ছেন মাহি।

ভারতীয় ক্রিকেটে (Indian Cricket) এক অন্য রকম বিপ্লব এনে দিয়েছেন ধোনি। বিশ্বের অন্যতম সেরা উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠেন তিনি। আর পরিসংখ্যান তো বলেই দেয় যে ভারতের সেরা অধিনায়ক তিনিই।

৪০তম জন্মদিনে ফিরে দেখা ধোনির কেরিয়ারের অন্যতম সেরা তিনটে ইনিংস।

১) ৯১ অপরাজিত, বিশ্বকাপ ফাইনাল ২০১১

মঞ্চ যে হেতু বিশ্বকাপ ফাইনাল তাই শতরান না করলেও, এটাই ধোনির কেরিয়ারে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। ২০১১-এর বিশ্বকাপ ফাইনালে মুম্বইয়ে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৭৯ বলে ৯১ রানের দুর্ধর্ষ একটি ইনিংস খেলেন তৎকালীন ভারত অধিনায়ক। ৮টি চার আর ২টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে সাহায্যে বিশ্বকাপের ট্রফি তোলে ভারত। ম্যাচের সেরা হন ধোনি।

২) ১৪৮ বনাম পাকিস্তান, ২০০৫

২০০৫-এর ৫ এপ্রিল বিশাখাপত্তনমে কেরিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক শতরান করেছিলেন ধোনি। পাকিস্তানের বিরদ্ধে ১২৩ বলে ১৪৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের মধ্যে দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের আবির্ভাব ঘটিয়েছিলেন তিনি।

৩) ১৮৩ অপরাজিত বনাম শ্রীলঙ্কা, জয়পুর ২০০৫

২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর জয়পুরে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচ খেলেছিল ভারত। ওই ম্যাচে ১৪৫ বলে ১৮৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন ধোনি। ১৫টি চার ও ১০টি ছক্কা দিয়ে সাজানো এই ইনিংসে মধ্যে দিয়ে একদিনের ক্রিকেটে উইকেটরক্ষক হিসেবে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি করে ফেলেন ধোনি।

Continue Reading
Advertisement
ক্রিকেট7 mins ago

১১৬ দিন পর শুরু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, হাঁটু গেড়ে বসে জর্জ ফ্লয়েডকে স্মরণ ক্রিকেটারদের

কলকাতা36 mins ago

কলকাতায় লকডাউনের আওতায় পড়া এলাকাগুলির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশিত

provident fund
শিল্প-বাণিজ্য1 hour ago

কেন্দ্রীয় সরকার আগস্ট মাস পর্যন্ত কর্মীদের ইপিএফ বকেয়া জমা করবে, অনুমোদন মন্ত্রিসভায়

CBSE
দেশ2 hours ago

সিবিএসইর সিলেবাস থেকে বাদ ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’, ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’, তীব্র বিতর্ক

রাজ্য2 hours ago

আগামী পাঁচ দিন উত্তরবঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির আশঙ্কা

BMS
দেশ3 hours ago

বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে সপ্তাহব্যাপী প্রতিবাদে নামছে আরএসএসের শ্রমিক সংগঠন

Currency
রাজ্য3 hours ago

ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারের আর্জি খারিজ স্যাটে

Hemant Soren
দেশ4 hours ago

মন্ত্রী করোনা আক্রান্ত! কোয়রান্টিনে গেলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন

কেনাকাটা

কেনাকাটা1 day ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিউ নর্মালে মাস্ক পরাটাই দস্তুর। তা সে ছোটো হোক বা বড়ো। বিরক্ত লাগলেও বড়োরা নিজেরাই নিজেদেরকে বোঝায়।...

কেনাকাটা2 days ago

রান্নাঘরের টুকিটাকি প্রয়োজনে এই ১০টি সামগ্রী খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক : লকডাউনের মধ্যে আনলক হলেও খুব দরকার ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভালো। আর বাইরে বেরোলেও নিউ নর্মালের সব...

কেনাকাটা3 days ago

হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

অনলাইনে খুচরো বিক্রেতা অ্যামাজন ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজিয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সম্ভার।

DIY DIY
কেনাকাটা1 week ago

সময় কাটছে না? ঘরে বসে এই সমস্ত সামগ্রী দিয়ে করুন ডিআইওয়াই আইটেম

খবর অনলাইন ডেস্ক :  এক ঘেয়ে সময় কাটছে না? ঘরে বসে করতে পারেন ডিআইওয়াই অর্থাৎ ডু ইট ইওরসেলফ। বাড়িতে পড়ে...

নজরে