india vs england oval test
শতরানের পরে পন্থকে অভিনন্দন রাহুলের। ছবি: আইসিসি

ইংল্যান্ড: ৩৩২ এবং ৪২৩-৮

ভারত: ২৯২ এবং ৩৪৫ (রাহুল ১৪৯, পন্থ ১১৪, অ্যান্ডারসন ৩-৪৫)

লন্ডন: ফলাফল তো ভবিতব্যই ছিল। কিন্তু যে ভাবে ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’র সূরে ঘুরে দাঁড়ালেন রাহুল এবং উইকেটকিপার ঋষভ পন্থ, তাতে ভবিষ্যতের অনেক চিন্তাই দূর হয়ে গেল। সত্যি কথা বলতে কী, অ্যালেস্টার কুকের বিদায়ী মঞ্চ স্মরণীয় হয়ে থাকল রাহুল এবং পন্থের কাছে।

রাহুল যে এই ইনিংসে অন্য সংকল্প নিয়ে নেমেছেন সেটা চতুর্থ দিনের বিকেলেই বোঝা গিয়েছিল। পঞ্চম দিনের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক তিনি। রাহানেও শুরুটা ভালোই করেছিলেন। কিন্তু মঈন আলিকে সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ উঠে যায় রাহানের। কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে যান বিহারীও। এর পরে ওভালের দখল নিয়ে নেন রাহুল এবং পন্থ।

মধ্যাহ্নভোজনের আগেই নিজের শতরান পূর্ণ করে ফেলেন রাহুল। বলা যেতে পারে রাহুলের কেরিয়ার বাঁচানোর ইনিংস। বিরতির পর আক্রমণাত্মক পন্থ। ঘরোয়া ক্রিকেটে মারকুটে ব্যাটিং-এর জন্য পরিচিত পন্থ, এ দিনও ঠিক সেই ঢঙেই ব্যাটিং করে গেলেন। বুঝিয়ে দিলেন ঋদ্ধিমান সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত দলের উইকেটকিপারের জায়গাটা তাঁরই।

পন্থের ব্যাটিং-এ একসঙ্গে সহবাগ এবং সৌরভের ছাপ পাওয়া যাচ্ছিল। এক দিকে যেমন অফ সাইডে কিছু চোখ ধাঁধানো শট মারছিলেন তিনি, ঠিক অন্য দিকে ৯৫ থেকে ছয় মেরে শতরানে পৌঁছোতেও দ্বিধা করেননি তিনি। রাহুল এবং পন্থের মধ্যে দুশো রানের জুটি তৈরি হল। দুর্ধর্ষ ইনিংস শেষ করার জন্য দুর্ধর্ষ কিছুই দরকার পড়ে। আদিল রশিদের এমনই এক লেগ স্টাম্প লাইনের বাইরে পড়া বলে ঘুরে গিয়ে রাহুলের অফ স্ট্যাম্পে ধাক্কা মারল। রাহুল বিদায় নেওয়ার কিছু পরেই ফিরলেন পন্থ। ম্যাচের ভাগ্য তখনই নিশ্চিত হয়ে গেল।

ঠিক এ ভাবেই ছক্কা হাঁকালেন পন্থ। ছবি: আইসিসি

১-৪। সংখ্যাটা ভারতের কাছে খুব লজ্জার, বলতে দ্বিধা নেই। কিন্তু এই সংখ্যা দিয়ে যেটা বোঝা হবে না তা হল, কী ভাবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর দিয়েছে ভারত। আসল কথা হল, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ভারত না হারলে হয়তো মঙ্গলবার সিরিজের ট্রফি উঠত বিরাটের হাতে। ১-৪-এর বদলে ফল হত ভারতের পক্ষে ৩-২।

এজবাস্টনের প্রথম এবং সাউদাম্পটনের চতুর্থ টেস্ট ভারতের জেতা উচিত ছিল। জিততে পারল না, কারণ ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং ইংল্যান্ডকে বাগে পেয়েও বোলারদের রাশ আলগা করে দেওয়া। যাই হোক, সিরিজের যে ফল হয়েছে সেটা তো পালটাবে না, কিন্তু এই সিরিজটা বিরাট কোহলির এবং ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে অনেক কিছু শিক্ষা দিয়ে গেল।

আরও পড়ুন “কোহলি সেরা ব্যাটসম্যান তবে সব চেয়ে খারাপ আবেদনকারী”: প্রাক্তন ক্রিকেটার

সব থেকে বড়ো শিক্ষা হল যে ধাওয়ানকে দিয়ে টেস্টে কিছু হবে না। হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সিরিজে খেললে আবার শতরান করবেন তিনি। কিন্তু তার পর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েই আবার ব্যর্থ হতে শুরু করবেন। তার থেকে ভালো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পৃথ্বী শ’কে নামিয়ে দেওয়া। ওভালের ইনিংস বুঝিয়ে দিয়েছে রাহুলের জায়গা এখন পাকা। সুতরাং রাহুল এবং পৃথ্বীর জুটি ভারতকে ভালো কিছু উপহার দিতেই পারে।

হার্দিক পটেলের কোনো প্রয়োজন নেই দলে। ভারতীয় বোলিং আক্রমণ যথেষ্ট শক্তিশালী। হার্দিকের জায়গায় হনুমা বিহারীকেই খেলানো উচিত। হনুমা ব্যর্থ হলে সে ক্ষেত্রে করুন নায়ারকে দেখা যেতে পারে। অন্য দিকে ঋদ্ধিমান সাহা যত দিন না সুস্থ হচ্ছেন তত দিন উইকেট সামলাক ঋষভ পন্থ।

ইংল্যান্ড সফরের দিকে এখন আর তাকিয়ে লাভ নেই। এখন শুধু ভবিষ্যতের চিন্তাভাবনা। মাস দুয়েক পরেই যে অস্ট্রেলিয়ায় উড়ে যাবে টিম বিরাট।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন