১৭ বছর আগের সেই দুঃস্বপ্নের স্মৃতি ফেরাল বেসিন রিজার্ভের সকাল

0

ভারত ১২২-৫ (রাহানে ৩৮, অগ্রবাল ৩৪, জেমিসন ৩-৩৮)

ওয়েলিংটন: বেসিন রিজার্ভ আর ভারতের দুঃস্বপ্ন কি ওতপ্রোত ভাবে জড়িত? না হলে, ১৭ বছর আগের একটা সকালে যে ঘটনাটি ঘটেছিল, হুবহু সেই এক ঘটনা এ বার ঘটল কী ভাবে?

সে বার সহবাগ, সচিন, লক্ষ্মণ, সৌরভকে নিয়ে গড়া ব্যাটিং লাইনআপ টেস্টের প্রথম দু’ঘন্টার মধ্যেই ভেঙে পড়েছিল। একা কুম্ভ হয়ে লড়েছিলেন শুধু রাহুল দ্রাবিড়। এ দিন নেহাৎ বৃষ্টি নামল তাই রক্ষে, নইলে দিনের শেষে ভারত ১৭ বছর আগের মতোই ১৭০-এর ঘরে অলআউট হত না কে বলতে পারে!

বেসিন রিজার্ভে টেস্টের প্রথম সকাল ব্যাট করা সব সময়ে চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। তার ওপর যদি আকাশ মেঘলা হয়, তা হলে তো সেটা ব্যাটসম্যানদের কাছে সাক্ষাৎ মৃত্যুর সমান। এই পরিমাণ হাওয়া বিশ্বের আর কোনো ক্রিকেট মাঠে দেয় কি না জানা নেই।

ফলে এখানে যদি সবুজ পিচ হয় আর আকাশ যদি মেঘলা হয়, তা হলে বোলারদের পাশাপাশি হাওয়ারও মোকাবিলা করতে হয় ব্যাটসম্যানদের। এ দিন যেমন নিউজিল্যান্ড বোলারদের পুরোপুরি সাহায্য করে গেল তীব্র হাওয়া।

টিম সাউদির যে আউটসুইং পৃথ্বী শ’য়ের স্টাম্প ছিটকে দিল তাতে যে হাওয়াও কলকাঠি নেড়েছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পৃথ্বীকে যথেষ্ট সাবলীল মনে হচ্ছিল শুরু থেকে। আগ্রাসীও ছিলেন। কিন্তু সাউদির ওই আউটসুইংটি সব স্বপ্ন ভেঙে দিল তাঁর।

এ বার ত্রাস হয়ে দেখা দিলেন কাইল জেমিসন। কে বলবে এই বোলারটি এ দিন তাঁর অভিষেক করছেন। নবাগত এই জেমিসনের কাছে হার মানলেন চেতেশ্বর পুজারা আর বিরাট কোহলি। ভারতের স্কোর তখন তিন উইকেটে ৫০।

পরবর্তী ৪৬ রানের মধ্যে ভারতের যে আর কোনো উইকেট পড়েনি, তার কারণ অজিঙ্ক রাহানে আর ময়াঙ্ক অগ্রবালের লড়াই। কিউয়ি বোলার আর হাওয়া, দু’টোর সঙ্গেই সমানে ঝুঝছিলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। মধ্যাহ্নভোজন পর্যন্ত দলকে নিরাপদে পৌঁছে দেন। তবে বিরতির পরে ফের ধাক্কা।

এ বার আসরে নামলেন ট্রেন্ট বোল্ট। নিউজিল্যান্ডের সব থেকে ভয়ংকর বোলার কী ভাবে প্রথম সেশন উইকেট পাননি, সেটাই আশ্চর্যের। ময়াঙ্ককে ফিরিয়ে সেই অপ্রাপ্তি মিটিয়ে নেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যে প্যাভিলিয়নে হনুমা বিহারীও।

আরও পড়ুন অনষ্টুপ ১৫৭, বাংলা ৩৩২

ভারতের স্কোর পাঁচ উইকেটে ১০১। এই পরিস্থিতিতে রাহানের সঙ্গে হাল ধরতে আসেন ঋষভ পন্থ। ব্যাটিংয়ের জোরেই যে তিনি ঋদ্ধিমান সাহার বদলে দলে ঢুকেছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বৃষ্টিটা এসে গেল বলে বেঁচে গেলেন পন্থও। কারণ নিজের উইকেটটা ছুড়ে না দিলেও, পন্থ যেটুকু সময় এ দিন ক্রিজে ছিলেন, অত্যন্ত নড়বড়ে লেগেছে।

যা-ই হোক, শুক্রবার পুরো খেলা হলে হয়তো দেড়শোর কাছাকাছি অলআউট হয়ে যেত ভারত। দ্বিতীয় দিনেও যে ভারতের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং দেখা যাবে সেটাই রক্ষা। আবহাওয়া যদি ভালো হয়, তা হলে পন্থের ব্যাট চলতেও পারে। কিন্তু শুক্রবার পুনরাবৃত্তি হলে, কী অবস্থা হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.