ict

ওয়েবডেস্ক: চলতি মাসেই শেষ হয়েছে দ্বাদশ আইপিএল। আর এই মাসের ৩০ তারিখ থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে বিশ্বকাপের আসর। ইংল্যান্ডে হতে চলেছে বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টে অন্যতম ফেভারিট দল ভারত। তবে এই বিশ্বকাপে কি ক্লান্তি বড়ো ফাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে ভারতীয় দলের কাছে?

অতীতেও এমন ক্লান্তির সাক্ষী থেকেছিল ভারত। তবে সেই সময়য টি২০ ফরম্যাট ছিল না। ১৯৯২ ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাঁচটি টেস্ট এবং ত্রিদেশীয় এক দিনের সিরিজ খেলেছিল ভারত। তৎকালীন একজন ভারতীয় দলের ক্রিকেটার জানিয়েছিলেন, “আমাদের মধ্যে কয়েক জন কিছু দিনের জন্য ব্যাট ধরতে চাই না”।

আরও পড়ুন: এই তরুণ ফুটবলারকে দলে আনতে বদ্ধপরিকর ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড

অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে এমনটা হতে পারে। কারণ লাগাতার দেড় মাস ধরে টি২০ খেলা দেশ জুড়ে। টি২০-র সঙ্গে ৫০ ওভারের ম্যাচের বিস্তর ফারাক। টি২০ লিগ বেশ রাত পর্যন্ত চলেছে। ফলে ক্রিকেটাররা রাতে খুব একটা ঘুমাতে পারেননি। ফলে দেখা গিয়েছে বিমানবন্দের কিছুক্ষণের জন্য ঘুমিয়ে পড়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো খেলোয়াড়ও।

এমন ধকলের জেরে টুর্নামেন্টে সেরাটা না দেওয়া অতীতে দেখা গিয়েছে। ২০০৯ আইপিএল হওয়ার পর টি২০ বিশ্বকাপ ছিল। ক্লান্তির জেরে সেই টুর্নামেন্টের সুপার এইট স্টেজ থেকেই ছিটকে যায় ভারত। তবে আইপিএল খেলে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভালো ফল করেছে ভারত এমন উদাহরণও আছে। যেমন ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালেও উঠেছিল ভারত।

যদিও বিসিসিআই জানিয়েছিল, তারা আইপিএল ফ্রাঞ্চাইজিদের সঙ্গে কথা বলেছে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ওয়ার্কলোড নিয়ে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তেমন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। রেহাই পাননি পেস বোলাররাও।

বিশ্বকাপ নিয়ে ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক দিলীপ বেঙ্গসরকার জানান, “বিশ্বকাপ সম্পূর্ণ আলাদা ফরম্যাট। বোলারদের ১০ ওভার বল করতে হবে। টি২০ থেকে একদিনের ক্রিকেটে মাইন্ডসেট তৈরি করতে হবে”।

ভারতীয় দলের একজন সদস্য জানিয়েছেন, ক্লান্তি একটা বড়ো ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাঁর মতে, “ আইপিএল এবং বিশ্বকাপের মধ্যে বড়ো ব্যবধান। ক্রিকেটার হিসাবে খেলার মধ্যে থাকলেই আপনি সাহায্য পান। আমাদের সব খেলোয়াড়ই অভিজ্ঞ এবং খেলার জন্য প্রস্তুত। যেহেতু সদ্য আইপিএল শেষ হয়েছে তাই ওদের ইয়ো-ইয়ো টেস্ট হয়নি।  প্লে-অফের আগে কিছু ক্রিকেটার বেশি সুযোগ পেয়েছেন। খেলোয়াড়দের স্ত্রী এবং বান্ধবীদের সঙ্গে থাকার অনুমতি আছে ২১ দিনের। ফলে সেই দিক দিয়ে ক্লান্তির কোনো ব্যাপার নেই”।

প্রাক্তন জাতীয় ক্রিকেটার এবং নির্বাচক কিরন মোরে জানান, “আমার মনে হয় না ভারতীয় ক্রিকেটাররা ক্লান্তির মুখোমুখি হবে। সে দিন চলে গিয়েছে। এখন এরা সবাই ফিট। আইপিএল, জাতীয় দল সব জায়গাতেই ফিজিও রয়েছে। আগে ক্যাম্প করা হতো ফিটনেসের জন্য। এখনকার দিনে সব খেলোয়াড়ই ফিট। আইপিএল দলগুলি পেশাগত দিক দিয়ে খেলোয়াড়দের তৈরি করে। দু’সপ্তাহ বিশ্রাম যথেষ্ট”।

ভারতের বর্ষীয়ান উইকেটকিপার পার্থিব পটেল জানান, “এটা খুব ভালো যে ভারত তাড়াতাড়ি ইংল্যান্ড যাচ্ছে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে। ১৫ দিন যথেষ্ট আইপিএলের রেশ কাটিয়ে ফের ক্রিকেট মাঠে ফেরার জন্য”।

এই প্রসঙ্গে ভারতীয় নির্বাচকমণ্ডলীর প্রধান এম এস কে প্রসাদ জানান, “আমরা খুশি দলের প্রায় সবাই ফিট। আইপিএলের চাপ কাটিয়ে, নিজের সেরাটা দিয়ে জাতীয় দলের জার্সি চাপাবে। আইপিএলের ভালো ফর্ম খুব গুরুত্বপূর্ণ”।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here