ঋতুরাজ-দু’প্লেসির ব্যাটিং দাপটে ফের হারল হায়দরাবাদ

0

হায়দরাবাদ: ১৩৪-৭ (ঋদ্ধিমান ৪৪, অভিষেক ১৮, হ্যাজেলউড ৩-২৪)

চেন্নাই: ১৩৯-৪ (ঋতুরাজ ৪৫, দু’প্লেসি ৪১, হোল্ডার ৩-২৭)

শারজা ধোনির ছক্কায় জয়। বৃহস্পতিবার এমনই ঘটল শারজায়। ফলে ফের একবার জিতে গেল চেন্নাই সুপারকিংস। হারের সম্মুখীন হল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

এই মরশুমে শারজার পিচে সে ভাবে রানই উঠছে না। বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদের ব্যাটিং পারফরম্যান্স দেখেও মনে হচ্ছিল যে চেষ্টা করেও রানের গতি কিছুতেই বাড়াতে পারছে না তারা। ম্যাচের তৃতীয় ওভারে অবশ্য দীপক চাহরকে জোড়া ছক্কা হাঁকিয়ে দেন ঋদ্ধিমান সাহা। জেসন রয়কে সঙ্গে নিয়ে হায়দরাবাদকে ভালো স্টার্ট ঋদ্ধি দেন।

তবে চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলেই জেসন রয়কে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন জোস হ্যাজেলউড। ৭ বলে ২ রান করে ধোনির দস্তানায় ধরা পড়েন জেসন। হায়দরাবাদ দলগত ২৩ রানে ১ উইকেট হারায়। তিন নম্বরে নামা উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে দলের স্কোর এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন ঋদ্ধি।

পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ১ উইকেটের বিনিময়ে ৪১ রান তোলে। ততক্ষণে কুড়ি রানে পৌঁছে গিয়েছেন ঋদ্ধি। তবে স্ট্রাইক রেট একশোর নীচে ছিল। এ দিকে, বল হাতে নিয়েই কেন উইলিয়ামসনের উইকেট তুলে নেন ডোয়েন ব্র্যাভো। সানরাইজার্স ৪৩ রানে ২ উইকেট হারায়। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে আসেন প্রিয়ম গর্গ।

নবম ওভারে শার্দুল ঠাকুরের তৃতীয় বলে পয়েন্ট ফিল্ডারের হাতে ধরা পড়েন ঋদ্ধিমান সাহা। তবে নো-বল হওয়ায় এ যাত্রায় বেঁচে যান তিনি। যদিও পরের বলে ফ্রি-হিটের সুযোগ নিতে পারেননি ঋদ্ধি। সেই বলে ২ রান সংগ্রহ করেন তিনি।

নিজের প্রথম ওভারে কেন উইলিয়ামসনের উইকেট তুলে নিয়েছিলেন ডোয়েন ব্র্যাভো। দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে প্রিয়মকে ফেরালেন তিনি। ১০ বলে ৭ রান করে ধোনির দস্তানায় ধরা পড়েন গর্গ।

ধীরগতিতে খেললেও অর্ধশতরানের দিকে এগিয়েই যাচ্ছিলেন ঋদ্ধিমান সাহা। তবে রবীন্দ্র জাদেজা সেটা করতে দিলেন না ঋদ্ধিকে। ১টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৪৬ বলে ৪৪ রান করে জাদেজাকে উইকেট দেন ঋদ্ধি। ধোনির হাতে ধরা দেন ঋদ্ধিমান।

১৫ ওভার শেষে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ৪ উইকেটের বিনিময়ে ৯৭ রান ছিল। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন আব্দুল সামাদ এবং অভিষেক শর্মা। ১৭তম ওভারে হ্যাজেলউডের দ্বিতীয় বলে ছক্কা মারেন অভিষেক শর্মা। পরের বলেই ডু’প্লেসির হাতে ধরা পড়েন তিনি।

অভিষেকের উইকেট তুলে নেওয়ার পর একই ওভারের পঞ্চম বলে আব্দুল সামাদকেও ফরত পাঠান হ্যাজেলউড। ততক্ষণে ফের ঝিমিয়ে পড়তে শুরু করে হায়দরাবাদের ইনিংস। এর পর কোনো রকমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ১৩৫ রান পর্যন্ত পৌঁছোতে সক্ষম হয় হায়দরাবাদ।

চেন্নাইয়ের জবাব

হায়দরাবাদের বোলিং বরাবরই শক্তিশালী। তাই মনে করা হচ্ছিল মন্থর পিচে রান তাড়া করতে নেমে পরতে পরতে ঠক্কর খাবে চেন্নাই। কিন্তু কোথায় কী! চূড়ান্ত আগ্রাসী ঢঙে ব্যাট কড়া শুরু করেন চেন্নাইয়ের দুই ওপেনার ঋতুরাজ গায়েকওয়াড় এবং ফাফ দু’প্লেসি।

পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে চেন্নাই সুপার কিংস কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৭ রান তুলে ফেলে। তখনই ম্যাচ কার্যত নিজেদের পকেটে এনে ফেলে চেন্নাই। পাওয়ার প্লে পর্যন্ত কিছুটা মন্থর ছিলেন দু’প্লেসি। বরং অনেক বেশি আগ্রাসী ছিলেন ঋতুরাজ। কিন্তু সপ্তম ওভার থেকেই গিয়ার বদল করেন সাউথ আফ্রিকার প্রাক্তন অধিনায়ক।

ঝড়ের গতিতে রান তুলতে শুরু করে চেন্নাই। কোনো সাফল্য না পেয়ে কার্যত মাথায় হাত উঠে যায় হায়দরাবাদের বোলারদের। তবে সাফল্য যখন আসে, তখন ম্যাচ এক্কেবারেই চেন্নাইয়ের দখলে এসে গিয়েছে। ১১তম ওভারে ঋতুরাজকে ফিরিয়ে দেন জেসন হোল্ডার। ঋদ্ধিমানের মতো ঋতুও নিশ্চিত অর্ধশতরান মাঠে ফেলে আসেন।

এর পর আচমকা খেলায় নাটকীয় একটা মোড় এসে হাজির হয়। একের পর এক উইকেট হারাতে শুরু করে চেন্নাই। প্রথমেই ১৫তম ওভারের চতুর্থ বলে মইন আলিকে বোল্ড করে দেন রশিদ খান। এর পর জেসন হোল্ডারের শিকার হন রায়না।

১৬তম ওভারের তৃতীয় বলে হোল্ডার এলবিডব্লিউর ফাঁদে জড়ান রায়নাকে। ৩ বলে ২ রান করে ক্রিজ ছাড়েন সুরেশ। দু’বল পরেই দু’প্লেসির উইকেটও তুলে নেন হোল্ডার। ক্রমশ চাপ বাড়তে থাকে চেন্নাইয়ের ওপরে। একটা সময় যে ম্যাচকে খুব সহজ মনে হচ্ছিল চেন্নাইয়ের জন্য, সেখানেই ক্রমে পড়তে শুরু করে তারা। বাড়তে থাকে আস্কিং রেট।

এই রকম মুহূর্তে ধোনির ইদানীংকালের মন্থর ব্যাটিং চাপ বাড়ায় চেন্নাইয়ের। যদিও এ দিন সেটা হতে দেননি অম্বতি রায়ুড়ু। আস্কিং রেট বাড়ছে দেখেই ম্যাচের রাশ নিজেদের দিকে টেনে নেন রায়ুড়ু। একের পর এক চার, ছক্কার সাহায্যে দলকে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে দেন তিনি। শেষের দিকে হাত খোলেন ধোনিও। ফলে ম্যাচ চলে আসে চেন্নাইয়ের পকেটে।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন