md shami

ওয়েবডেস্ক: একের পর এক অভিযোগ। প্রাথমিক ভাবে তা সীমাবদ্ধ ছিল পরকীয়া এবং বধূ-নির্যাতনের গণ্ডিতে। কিন্তু এ বার সংবাদমাধ্যমকে খোলাখুলি জানালেন মহম্মদ শামির স্ত্রী হাসিন জাহান, শামি না কি যুক্ত রয়েছেন ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গেও।

সম্প্রতি জানা গিয়েছে, যে হাসিন জাহানের বয়ানের ভিত্তিতে যাদবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়েরও হয়েছে ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে। তার ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ, ৩২৩, ৩০৭, ৩৭৬, ৫০৬, ৩২৮ এবং ৩৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু করেছে শামি এবং অভিযুক্ত আরও চার জনের বিরুদ্ধে।

হাসিন জাহান অভিযোগ এনেছেন, জোর করে তাঁকে অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয়। শারীরিক ভাবে হেনস্থা করার পাশাপাশি তাঁকে মারার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ। উত্তরপ্রদেশে শামির গ্রামের বাড়িতে তাঁকে নিয়ে গিয়ে মারার চেষ্টাও করা হয় বলে তাঁর অভিযোগ।

খুনের চেষ্টার পাশাপাশি ধর্ষণের চেষ্টারও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে শামি ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। পুলিশের কাছে ইতিমধ্যে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন জাহান। শুক্রবার সকালে শামির যাদবপুরের বাড়িতে গিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাঁর পরিবারের লোকজনকে।

Shami’s wife has accused the cricketer from khaboronline on Vimeo.

এ ছাড়া অভিযোগ – এক নয়, একাধিক নারীর সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে শামির। তার মধ্যে একজন পাক-তরুণীও রয়েছেন। ‘শামিস এনজয়মেন্ট’, ‘শামিস গার্লফ্রেন্ডস’ শিরোনাম দিয়ে সে সব ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন জাহান। জানিয়েছেন, ক্রিকেটারের গাড়িতে লুকোনো অবস্থায় থাকা একটি ফোন থেকে তিনি এই সব ছবিগুলো পেয়েছেন। এ ছাড়া সেই বিএমডব্লিউ গাড়িতে লুকিয়ে রাখা ছিল পুরুষদের ব্যবহারের জন্মনিরোধক বড়িও।

স্ত্রী দাবি করেছেন, এই লুকিয়ে রাখা ফোনটা না কি ২০১৪ সালে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস-এর কাছ থেকে উপহার পেয়েছিলেন শামি। স্বাভাবিক ভাবেই তা লক করা ছিল। অনেক চেষ্টার পর তিনি সেই লক খুলতে সমর্থ হন এবং শামির বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের নমুনা দেখতে পান। জাহান এই অভিযোগও করেছেন যে শামি যেখানেই খেলার সূত্রে যান না কেন, কুলদীপ নামের জনৈক ব্যক্তি তাঁকে মেয়ে সরবরাহ করে। এ ছাড়া তাঁকে না জানিয়ে শামি এক পাকিস্তানি তরুণীকে বিয়েও করেছেন বলে দাবি জাহানের।

পাশাপাশি, শামি এবং তাঁর পরিবারের তরফে যে অকথ্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলেছে সেই বিষয়টিও জানাতে ভোলেননি জাহান। তাঁর দাবি, শামির পরিবার বিয়ের পর থেকেই তাঁর উপরে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালাত। “ওঁর মা এবং ভাই আমায় হত্যা পর্যন্ত করতে চেয়েছেন! দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরার পর শামি আমায় মারধরও করেছে। অনেক দিন এ সব সহ্য করলেও আর পারছি না”, বিস্ফোরক বয়ান জাহানের!

তবে জাহান যা-ই বলুন না কেন, শামি এই সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন। পালটা দাবি করেছেন, জাহান মানসিক ভাবে সুস্থ নন! “উনি মানসিক ভাবে ঠিক নেই! দয়া করে ওঁর কথার ভিত্তিতে আমায় যাচাই করবেন না। আর ম্যাচ ফিক্সিং? দেশের বিরুদ্ধে প্রতারণার আগে আমি মৃত্যুবরণ করাই পছন্দ করব”, সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন শামি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here