আবার এশিয়া জিতব আমরাই, শপথ ভারতের। ছবি: বিসিসিআই

বাংলাদেশ: ২২২ (লিটন ১২১, সৌম্য ৩৩, কুলদীপ ৩-৪৮)

ভারত: ২২৩-৭ (রোহিত ৪৮, কার্তিক ৩৭, রুবেল ২-২৬) 

দুবাই: রেকর্ড ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে সাম্প্রতিক কালে এশিয়ার সেরা দ্বৈরথ ভারত বনাম বাংলাদেশ। ফাইনালের আগে পর্যন্ত এই দু’দলের মধ্যে খেলা শেষ পাঁচটা একদিনের ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে তিনটে, বাংলাদেশ দু’টি। এই দ্বৈরথের ছাপ কিন্তু এশিয়া কাপের ফাইনালেও এসে পড়ল। ভারত জিতল ঠিকই, কিন্তু শেষ বল পর্যন্ত লড়ে গেল বাংলাদেশ। ভারতকে এক বিন্দুও জমি ছাড়ল না তারা।

বাংলাদেশকে হারিয়ে ভারত টানা দ্বিতীয় বার এশিয়া সেরা হবে, সেটা তো ভবিতব্য ছিল। কিন্তু ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের মনে হতে পারে, রানটা যদিও আড়াইশো পেরোত তা হলে হয়তো আজ রোহিত নয়, ট্রফি উঠত মাশরাফির হাতে। কিন্তু সেটা হল না, কারণ আবেগে গা না ভাসিয়ে চূড়ান্ত পেশাদারিত্ব নিয়ে খেলল ভারত। বাংলাদেশের প্রথম উইকেটে অত রান উঠলেও, ফের কামব্যাক করল রোহিত শর্মার দল।

তামিম ইকবাল চোটের জন্য বেরিয়ে যাওয়ার পরে এই টুর্নামেন্টে ওপেনিং নিয়ে ভুগেছে বাংলাদেশ। এ দিন লিটনের সঙ্গে স্পিনার মেহদিকে নামিয়ে ফাটকা খেলতে চেয়েছিল বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। এবং সেই ফাটকা এক্কেবারে লেগে গেল। জীবনে প্রথম ওপেন করতে নেমে দুর্দান্ত সঙ্গ দিয়ে গেলেন মেহদি। লিটন তখন রীতিমতো দাদাগিরি করে চলেছেন পিচে। এই টুর্নামেন্টে ভারতের যে বোলাররা বিপক্ষদের ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছেন, লিটন তাদের ঘাম ঝরিয়ে দিলেন। লিটনের ব্যাট থেকে তখন ‘চার ছক্কা হইহই বল গড়াইয়া গেল কই’।

স্কোরবোর্ডে বিনা উইকেটে ১২০ উঠে গিয়েছে। রোহিতের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। ঠিক তখনই মেহেদিকে তুলে নিয়ে প্রথম ঝটকা দিলেন কেদার যাদব। সেই যে উইকেট পড়ল, তার পর মাঠে শুধু একটা দলই খেলে গেল। ভারত। লিটন একটা দিক ধরে ছিলেন, দুর্দান্ত শতরান করলেন, কিন্তু কোনো সঙ্গী পেলেন না। যার ফলে ক্রমশ কমতে শুরু করল বাংলাদেশের রানরেট। একটা সময়ে তিনশোকে লক্ষ্য করা বাংলাদেশ শিবিরে তখন হঠাৎ চিন্তা শুরু, দু’শোটাও আদৌ হবে তো? শেষের দিকে সৌম্য সরকার কিছুটা না ধরলে দু’শোও হয়তো হত না বাংলাদেশের।

আরও পড়ুন ধোনির ঘরোয়া ক্রিকেট বেশি করে খেলা উচিত, পরামর্শ কিংবদন্তি ক্রিকেটারের

২২২-এর লক্ষ্যমাত্রা এমন কিছু নয়। কিন্তু এ দিন শুরু থেকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ভাবে বোলিং করেন বাংলাদেশের বোলাররা। সেই কারণে রোহিত এবং ধাওয়ান তাঁদের চিরাচরিত শুরু করতে পারেননি। দলের স্কোর ৮৩-এর মধ্যেই তিনটে উইকেট হারায় ভারত। ফিরে যান রোহিত, ধাওয়ান এবং রায়ুড়ু। এখান থেকে খেলা ধরলেন ধোনি এবং দীনেশ কার্তিক।

ধোনি এবং কার্তিক মিলে ভারতকে জয়ের দিকে নিয়ে গেলেও দু’জনের মধ্যে ৫০ রানের জুটি তৈরি হওয়ার পরে ফের ছন্দপতন। প্রথম কার্তিক এবং তার কিছু পরেই প্যাভিলিয়নের পথ দেখলেন ধোনি। এই ম্যাচে ধোনির ব্যাট জ্বলে উঠবে, এমন আশা করা গেলেও বিশেষ কিছু করেননি তিনি। এ দিকে কেদার যাদব চোট পেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে চাপ বাড়তে শুরু করে ভারতের ওপরে।

জাদেজা এবং ভুবনেশ্বর মিলে ভারতের রানটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিকই, কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং-এর ফলে আস্কিং রেট ক্রমশ বাড়তে শুরু করে। ম্যাচে আগাগোড়া ভালো বল করে যাচ্ছিলেন রুবেল। কিন্তু তাঁর একটা বলে ভুবনেশ্বর কুমারের মারা ছয়ের জেরে ম্যাচ ভারতের দিকে ঘুরলেও, ফের নাটক। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে যান জাদেজা এবং ভুবনেশ্বর। ক্রমশ বাড়তে শুরু করে নাটক।

শেষ ওভারে দরকার ছিল ছয়। ততক্ষণে আবার ফিরে এসেছেন কেদার। কিন্তু কুলদীপ যাদবই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেন। এই ফল প্রমাণ করল বিশ্বের বড়ো ক্রিকেট শক্তিগুলোর সঙ্গে সেয়ানে সেয়ানে লড়তে জানে বাংলাদেশ। তবুও শেষে বলতে হয় বাংলাদেশের আবেগ ছিল, কিন্তু সেই আবেগকে হারিয়ে দিল চূড়ান্ত পেশাদার ভারত। সেই সঙ্গে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারানোর সেই ‘স্বপ্নের লক্ষ্য’-এর জন্য অপেক্ষা আরও বাড়ল বাংলাদেশের।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন