শ্রীলঙ্কা: ২৬৪-৭ (ম্যাথিউজ ১১৩, তিরিমান্নে ৫৩, বুমরাহ ৩-৩৭)

ভারত: ২৬৫-৩ (রাহুল ১১১, রোহিত ১০৩, কাসুন রজিতা ১-৪৭)

হেডিংলে: চার বছর আগে একটি রেকর্ড করেছিলেন শ্রীলঙ্কারই কিংবদন্তি কুমার সঙ্গাকারা। টানা চারটে ম্যাচে শতরান করেছিলেন তিনি। এই বিশ্বকাপ শুরুর আগে পর্যন্ত সেটাই ছিল একটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ শতরানের রেকর্ড। কাকতালীয় ভাবে সেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেই সঙ্গাকারার সেই রেকর্ড ভেঙে ফেললেন রোহিত শর্মা। ‘চার’ পেরিয়ে হল ‘পাঁচ,’ অর্থাৎ রোহিত এখন পাঁচটি শতরানের মালিক। এর মধ্যে ইংল্যান্ড, বাংলাদেশের পর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শতরান আসায় শতরানের হ্যাটট্রিকও করলেন তিনি।

একা রোহিতে যদি রক্ষে না হয় তা হলে দোসর হলেন রাহুল। ভারতের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখল তাঁর শতরানও। এই দুই ব্যাটসম্যানের কাঁধে চেপে বিশ্বকাপের রাউন্ড রবিন অভিযান শেষ করল ভারত। এ বার সেমিফাইনালের পরীক্ষা।

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে যে তথৈবচ অবস্থা শ্রীলঙ্কার ছিল, সেটা তারা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে এই বিশ্বকাপে। দু’টি পরিত্যক্ত ম্যাচ বাদ দিলে এই ম্যাচের আগে পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার জয়ের হার ছিল ৫০ শতাংশ, যা যথেষ্ট ভালো। বলাই যায় দিমুথ কুরুণারত্নের নেতৃত্বে বেশ ভালো ভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে লঙ্কাবাহিনী। সেই পরিবর্তিত শ্রীলঙ্কাই ভারতীয় বোলারদের সামনে নিজেদের ব্যাটিং মেলে ধরল।

অথচ শ্রীলঙ্কাকে ভারত এত সহজে হারাবে, সেটা প্রথম ইনিংসের পর মনেই হচ্ছিল না। কারণ তারা যথেষ্ট ভালো ব্যাটিং প্রদর্শন করেছিল। শ্রীলঙ্কাকে ঘুরে দাঁড়ানোয় যিনি সাহায্য করলেন তিনি কিন্তু সেই তথাকথিত ‘বুড়ো,’ যার প্রিয় প্রতিপক্ষ ভারত। আঞ্জেলো ম্যাথিউজ। আজকের আগে পর্যন্ত একদিনের কেরিয়ারে দু’টি শতরান ছিল ম্যাথিউজের, দুটিই ভারতের বিরুদ্ধে। সেই তালিকায় আরও একটি সংযোজন হল এ দিন।

অবশ্য শুরুতেই ভারতীয় বোলারদের দাপট ছিল দেখার মতো। ৫০ রান পেরোতেই চারটে উইকেট খুইয়ে ফেলল তারা। ফিরে যান ফর্মে থাকা চার ব্যাটসম্যান করুণারত্নে, কুশল পেরেলা, কুশল মেন্ডিজ এবং অবিষ্কা ফার্নান্ডো। এই চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে যে দু’জন ক্রিজে ছিলেন, তাদের ফর্ম ততটা ভালো ছিল না এই টুর্নামেন্টে। কিন্তু প্রতিরোধ গড়ে তুললেন তাঁরাই। লহিরু তিরিমান্নেকে সঙ্গে নিয়ে দুর্দান্ত জুটি তৈরি করলেন ম্যাথিউজ।

গত কয়েক মাস খুব খারাপ সময় গিয়েছে ম্যাথিউজের। ব্যাটে রান তো ছিলই না, এমনকি ফিল্ডিং এবং খারাপ রানিংয়ের জন্য যথেষ্ট সমালোচিতও হতে হয়েছে তাঁকে। দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ারও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কেরিয়ারের এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসেই কথা বলতে শুরু করল ম্যাথিউজের ব্যাট। আসল খেলাটা ম্যাথিউজই করলেন। তিরিমান্নে তাঁকে যোগ্য সংগত করলেন। সব মিলিয়ে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং স্কোরে পৌঁছল শ্রীলঙ্কা।

আরও পড়ুন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ৯৩ রান তুলতে হাড়ে জ্বর বয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার!

কিন্তু ভারতের কাছে কোনো স্কোরই চ্যালেঞ্জিং নয়, বিশেষ করে রোহিত শর্মা ব্যাট যদি চলতে শুরু করে।এই টুর্নামেন্টে যেটা হয়ে আসছে, সেটাই আবার হল। অর্থাৎ দুর্দান্ত ভাবে কথা বলা শুরু করল রোহিতের ব্যাট। আর সেই সঙ্গে রাহুলেরও। রাহুল কিন্তু কোনো ভাবেই পিছিয়ে ছিলেন না।

তবে আবার যাবতীয় নজর রোহিতের ওপরেই ছিল। কারণ তাঁর শতরানের ইনিংসের পথে যেতে একাধিক রেকর্ড তৈরি করেন রোহিত। প্রথমেই সচিনের একটি রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। ২০০৩-এর বিশ্বকাপে সচিন ছ’শো রানের গণ্ডি পেরোন। তার পর রোহিতই প্রথম তিনি সচিনকে ছুঁলেন। যে ভাবে তাঁর ফর্ম চলছে, তাতে সচিনের ৬৭৩ রানের রেকর্ডটাও যে ভেঙে যাবে তা বলাই বাহুল্য।

যা-ই হোক, রোহিত তো শতরান করা প্রায় অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন, কিন্তু এ দিন দেখার ছিল রাহুল শতরান পান কি না। তিনিও শতরানের গণ্ডি পেরিয়ে গেলেন। শেষ দিকে অবশ্য একটু তাড়াহুড়োর ফল ভুগতে হল ভারতকে। রাহুলের পাশাপাশি অল্প রানে ফিরলেন পন্থ। তবুও ম্যাচ জিততে বিশেষ কোনো সমস্যাই হয়নি ভারতের।

সব মিলিয়ে সেমিফাইনালে নামার আগে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এই জয় ভারতকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস তো দেবেই। এ বার দেখার শেষ চারের লড়াইয়ে কেমন করে বিরাটবাহিনী।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন