ভারত: ৩৫২-৫ (ধাওয়ান ১১৭, বিরাট ৮২, স্টয়নিস ২-৬২)

অস্ট্রেলিয়া: ৩১৬ (স্মিথ ৬৯, ওয়ার্নার ৫৬, ভুবনেশ্বর ৩-৫০)

Loading videos...

লন্ডন: হেরে যাওয়া ম্যাচ হঠাৎ করেই জমিয়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেছিলেন অ্যালেক্স ক্যারি। গোটা ইনিংস দুর্দান্ত বল করে আসার পর তখন যেন কিছুটা চিন্তার ভাঁজ বিরাট এবং তাঁর বোলারদের। কিন্তু শেষ ভালো যার সব ভালোর মতোই ব্যাগি গ্রিনদের হারাল বিরাটবাহিনী। এক স্মরণীয় এবং জমাটি ম্যাচের সাক্ষী থাকল রবিবাসরীয় ওভাল।

“তুমি টসে জিতলে কী করতে?” আজকাল এই প্রশ্ন টস হেরে যাওয়া সব অধিনায়ককেই শুনতে হয়। ব্যাতিক্রম হল না অ্যারন ফিঞ্চের ক্ষেত্রেও। টস সঞ্চালকের এ হেন প্রশ্ন শুনে ফিঞ্চের পত্রপাট উত্তর, “আমিও ব্যাটিংই নিতাম!”

এই একটা বাক্যই বুঝিয়ে দিল আগামী ৫০ ওভার ঠিক কী রকম হতে চলেছে ব্যাটিংয়ের জন্য। টসে হেরে বোলিং করতে নেমেও অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা খুব খারাপ শুরু করেননি। মিচেল স্টার্ক আর প্যাট কামিন্সের পেস জুটির সামনে প্রথমে কিছুটা সিঁটিয়ে ছিলেন শিখর ধাওয়ান এবং রোহিত শর্মা। একাদশ ওভারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের স্পিন শুরু হতেই ভারতের রানের গতি এক্কেবারে আকাশ ছুঁয়ে ফেলল।

সচিন-সৌরভ জুটির একটা অলিখিত ব্যাপার ছিল, যে দিন সৌরভ চালাবেন সে দিন ধরে খেলবেন সচিন আর যে দিন সচিন চালাবেন সে দিন হবে উলটোটা। রোহিত-ধাওয়ান জুটির ক্ষেত্রেও এই ব্যাপারটাই হচ্ছে। ধাওয়ান আগ্রাসী ঢঙে শুরু করেন বলে ম্রিয়মাণ ছিলেন রোহিত।

একটা পরিসংখ্যান বলছে, ওভালের মাঠ ধাওয়ানের কাছে খুব পয়া। রবিবারের ম্যাচের আগে এখানে খান তিনেক ম্যাচে দু’টি শতরান করেছেন তিনি। সেই তালিকায় এ দিন আরও একটা সংযোজন হল।

আরও পড়ুন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একগুচ্ছ রেকর্ড রোহিত-ধাওয়ানের

গত কয়েক মাস ধরেই রানের মধ্যে ছিলেন না ধাওয়ান। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচেও রান আসেনি, প্রথম ম্যাচেও ব্যর্থ। এই পরিস্থিতিতে আরও একটা ব্যর্থতা মানে চাপ তৈরি হত তাঁর ওপরে। কিন্তু সেই চাপকে দূরে ঠেলে দেওয়ার জন্য নিজের পয়া মাঠকেই বেছে নিলেন তিনি।

নতুনত্ব কোনো ব্যাপার ছিল না তাঁর ইনিংসে। চিরাচরিত যেমন খেলেন, তেমনই খেলে গেলেন। তবে তাঁর মধ্যে একটা ব্যাপার আছে, সেটা হল শতরানের পরে, বেশি দূরে আর যেতে পারেন না তিনি। এ দিনও সে রকমই হল। ১২০-এর আগেই থেমে গেল তাঁর ইনিংস।

তবে নতুনত্ব ছিল অন্য জায়গায়। তা হল চার নম্বরে নামা ব্যাটসম্যানকে ঘিরে। ধাওয়ান যখন আউট হন, তখনও রান রেট ৬ ছোঁয়েনি। এই পরিস্থিতিতে চার নম্বরে হার্দিক পাণ্ড্যকে নামানোর মোক্ষম চাল চালল টিম ম্যানেজমেন্ট। আর সেটা যে কতটা সফল সেটা হার্দিক আর ভারতের রান দেখলেই বোঝা যায়। হার্দিক আসার আগে মনে হচ্ছিল কোনো রকমে তিনশো পেরোতে পারে ভারত। তিনি যখন আউট হলেন, সেই ৪৬তম ওভারেই ভারত তিনশো পেরিয়ে গিয়েছে।

অন্য দিকে বিরাট তখন ধীরে ধীরে জ্বলে উঠছেন। বিরাট যেন কিছুটা চরিত্রবিরোধী ইনিংস খেলেছেন। তাই যখন দেখা যায় মাত্র ১০৬-এর স্ট্রাইক রেটে ৮২ রান করেছেন তিনি, তখন বুঝতে হয় রবিবার তাঁর দিন ছিল না। আসলে শুরুর দিকে কিছুটা চাপেই ছিলেন বিরাট। টাইমিংয়ে সমস্যা হচ্ছিল। ডট বল খেলছিলেন বিস্তর। কিন্তু হার্দিক নামতে তিনিও গিয়ার পালটালেন। তবে ভারতকে সাড়ে তিনশো পার করিয়ে দেওয়ার জন্য ধোনির অবদানও কম কিছু নয়। শেষ দিকে ও রকম মারমার কাটকাট না করলে ৩৩০-এই আটকে যেতে পারত ভারত।

শক্তিশালী দলের কাছে সাড়ে তিনশো রান তাড়া করাটা এখন আর খুব সাংঘাতিক কোনো ব্যাপার নয়। আধুনিক ক্রিকেটে আকছার করছে। আর বিপক্ষ যদি ডেভিড ওয়ার্নার এবং অ্যারন ফিঞ্চের মতো ধ্বংসাত্মক ব্যাটসম্যানদের দিয়ে ওপেন করায়, তা হলে মনে করা যেতে পারে রান তাড়া করাটা জমবে। কিন্তু হল ঠিক উলটো। ডেভিড ওয়ার্নার প্রায় পঁচিশ ওভার ক্রিজে থেকেও এই রান তাড়া করার জন্য কোনো বাড়তি উদ্যোগই দেখাতে পারলেন না।

ক্রিজে পুরোপুরি আটকে গিয়েছিলেন ওয়ার্নার। তিন চারটে ডট বল খেলার পর খুচরো রান তুলছিলেন। তাই অর্ধশতরান করার পরেও বাড়তি কোনো উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি ওয়ার্নারের। একই ব্যাপার স্মিথের ক্ষেত্রেও। তিনি অবশ্য একশোর কাছাকাছি স্ট্রাইক রেট রেখে ব্যাট করেছেন, তা এই পাহাড়প্রমাণ রান তাড়া করার ক্ষেত্রে একদমই যথেষ্ট নয়।

আরও পড়ুন ধাওয়ানের সামনে এখন সৌরভ আর সচিন

বুমরাহ-ভুবনেশ্বরের পেস আর ‘কুলচা’ জুটির বিরুদ্ধে রান তুলতে কালঘাম ছুটে যায় অজিদের। শেষে ৩৫ ওভারের পর থেকে রান তোলার উদ্যোগ দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে। কিন্তু ততক্ষণে আস্কিং রেট আকাশ ছুঁয়েছে। ম্যাক্সওয়েল ক্রিজে এসেই যে মুডে ব্যাট করতে শুরু করলেন, তা দেখে মনে হচ্ছিল একটা চাল খেলতে ভুল করেছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাক্সিকে কোনো ভাবে যদি তিন নম্বরে নামানো যেত, তা হলে অস্ট্রেলিয়ার কাছে এই ম্যাচে কিছু আশা থাকত।

তবে শুধু ম্যাক্সওয়েলই না কেন, শেষে তো চেষ্টা করছিলেন উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারিও। বাঁ হাতি এই ব্যাটসম্যানের মধ্যে দিয়ে অস্ট্রেলিয়া কি তার দ্বিতীয় গিলক্রিস্ট পেয়ে গেল? এ দিন শেষ দিকে যে ভাবে তাণ্ডব তিনি শুরু করেছিলেন, তা দেখে এটাই মনে হয়। শুধু টেল এন্ডারদের ব্যাট করলেন বলেই কিছু হল না। নইলে ওই সময়ে ম্যাক্সওয়েল এবং ক্যারির জুটি তৈরি হলে অস্ট্রেলিয়া ভারতের স্কোরের কাছাকাছি পৌঁছে যেতেই পারত।

এই বিশ্বকাপের ফরম্যাট এমনই যে পর পর দু’টো ম্যাচ জিতেও স্বস্তিতে থাকা যায় না, আবার দু’টো ম্যাচ জিতে একটা হেরেও দুশ্চিন্তার কিছু নেই। পরের ম্যাচগুলি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ দিন শেষ দিকে ভারতের বোলিং বিরাটকে কিছুটা চিন্তায় রাখবে। বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামার আগে সেগুলো শুধরে নেওয়া প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.