ভারত ২২৯-৭ (যস্তিকা ভাটিয়া ৫০, শেফালি বর্মা ৪২, রিতু মণি ৩-৩৭)

বাংলাদেশ ১১৯ (৪০.৩ ওভারে) (সালমা খাতুন ৩২, লতা মণ্ডল ২৪, স্নেহ রানা ৪-১৫)

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: যস্তিকা ভাটিয়া

হ্যামিলটন (নিউজিল্যান্ড): মেয়েদের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেল। সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে এই জয় পেতেই হত মিতালি রাজদের। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেটাই করলেন মিতালিরা।

নিউজিল্যান্ডের হ্যামিলটনে আয়োজিত ম্যাচে বাংলাদেশকে ১১০ রানে হারাল ভারত। ভারতের জয়ের মূলে রয়েছে যস্তিকা ভাটিয়ার অর্ধশত রান, শেফালি বর্মার ৪২ বলে ৪২ রান এবং স্নেহ রানার দাপুটে বোলিং।

এই জয় নিয়ে গ্রুপ লিগে তিনটি ম্যাচে জয় পেল ভারত। ৬ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত লিগ টেবিলে তৃতীয় স্থানে রয়েছে তারা। নেট রান রেটের ভিত্তিতে তারা টপকে গিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

ভারতের শেষ ম্যাচ সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে রবিবার। সেমিফাইনালে যেতে হলে ভারতকে সেই ম্যাচ জিততে হবে। আপাতত ৫টি ম্যাচ থেকে ৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সাউথ আফ্রিকা রয়েছে লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে।

ভিত গড়লেন স্মৃতি-শেফালি

টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন মিতালি। স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি বর্মা শুরুটা ভালোই করেন। রানের গতিও ভাল ছিল। স্মৃতি ও শেফালির জুটি অবিচ্ছিন্ন থেকে ১৪ ওভারে ৭৪ রান তোলে। কিন্তু এর পরই দুর্যোগ ঘনিয়ে আসে। ১৫তম ওভারের শেষ বলে স্মৃতিকে আউট করেন নাহিদা আখতার। স্মৃতি করেন ৩০ রান। পরের ওভারের তৃতীয় বলে আউট হন শেফালি নিজস্ব ৪২ রানের মাথায় এবং পরের বলেই আউট হন অধিনায়ক মিতালি রাজ। ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৭৪। ক্রিকেট কেরিয়ারে দ্বিতীয় বার ‘গোল্ডেন ডাক’ (প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট) করলেন মিতালি।

পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেন যস্তিকা ভাটিয়া ও হরমনপ্রীত কৌর। ব্যক্তিগত ১৪ রান এবং দলের ১০৮ রানের মাথায় রান আউট হন হরমনপ্রীত। এর পর যস্তিকার সঙ্গে দলের হাল ধরেন উইকেটরক্ষক বাংলার রিচা ঘোষ। তাঁরা রান টেনে নিয়ে যান ১৬২ পর্যন্ত। ১৬২ রানে রিচা এবং ১৭৬ রানে যস্তিকা আউট হওয়ার পর মনে হচ্ছিল ভারতের রান ২০০ পৌঁছোবে না। কিন্তু পূজা বস্ত্রকর ও স্নেহ রানার জুটির দৌলতে ভারতের রান পৌঁছে যায় ২২৯-এ। স্নেহ ২৭ রান করেন। পূজা অপরাজিত থাকেন ৩০ রানে।

স্নেহ রানার স্পিনের জাদু  

২২৯ রান তাড়া করতে নেমে কখনোই স্বচ্ছন্দে খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। ভারতীয় বোলারদের দাপটে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যান বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ৩৫ রানের মধ্যে ৫টি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পর পর আউট হন শারমিন আখতার (৫), ফরগনা হক (০), অধিনায়ক নিগার সুলতানা (৩), মুর্শিদা খাতুন (১৯) ও রুমানা আহমেদ (২)। পূজার গতি এবং রাজেশ্বরী গায়কোয়াড়, স্নেহ রানা ও পুনম যাদবের স্পিনের মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেন সালমা খাতুন ও লতা মণ্ডল। কিন্তু সালমাকে তুলে নেন ঝুলন গোস্বামী। ২৮তম ওভারের চতুর্থ বলে বাংলাদেশ ষষ্ঠ উইকেটটি হারায়। ঝুলনের বল পিচে পড়ে বেশ খানিকটা লাফিয়ে সালমার ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষক রিচার কাছে। বাংলার দুই খেলোয়াড়ের যুগলবন্দিতে ৩২ রানে আউট হন সালমা। দলের রান তখন ৭৫।

দলের ৯৮ রানে বিদায় নেন আরও এক লড়াকু খেলোয়াড় লতা মণ্ডল। পূজার বলে হরমনপ্রীতের হাতে ক্যাচ দিয়ে নিজস্ব ২৪ রানের মাথায় প্যাভেলিয়নের পথ দেখেন লতা। এর পর আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি। স্নেহ রানার স্পিনের জাদুতে ৪০.৩ ওভারে ১১৯ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ভারত জেতে ১১০ রানে।  

আরও পড়তে পারেন

ধোনি থেকে কোহলি, আইপিএল ইতিহাসে যে ক্রিকেটারদের উপার্জন সবচেয়ে বেশি

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন