dinesh kartik

নিউজিল্যান্ড: ২৩০-৯ (নিকোল্‌স ৪২ দে গ্র্যান্ডহোম ৪১, ভুবনেশ্বর ৩-৪৫)

ভারত: ২৩২-৪ (ধাওয়ান ৬৮, কার্তিক ৬৪ অপরাজিত, মিলনে ১-২১)

পুনে: সিরিজে সমতা ফেরাল ভারত। প্রথমে বোলার এবং পরে ব্যাটসম্যানদের দাপটে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে পর্যুদস্ত করে দিল তারা।

নিজের স্বল্প অধিনায়কত্বের জীবনে এ রকম পরিস্থিতির আগে মুখোমুখি হননি বিরাট কোহলি, যেখানে সিরিজে পিছিয়ে থেকে মরণবাঁচন লড়াইয়ে নামছে ভারত। কিন্তু অধিনায়ক বিরাট এই ব্যাপারটা নিয়ে বিশেষ চিন্তিত ছিলেন না। বরং তিনি মনে করেন, এ রকম পরিস্থিতি থেকেই নিজেদের জাত চেনাতে পারেন ক্রিকেটাররা। বুধবার সত্যিই নিজেদের জাত চেনালেন ভারতের বোলাররা।

টসে জিতে কিউয়ি অধিনায়ক ব্যাটিং-এর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় খুশিই হয়েছিলেন বিরাট। লক্ষ্য তাড়া করতেই চেয়েছিলেন তিনি। এ বছর জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই মাঠেই একদিনের ম্যাচে সাড়ে তিনশো রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। বুধবার অবশ্য সে রকম কোনো সম্ভাবনা ছিল না। কারণ শুরু থেকেই দাপট দেখানো শুরু করেন বোলাররা। জসপ্রীত বুমরাহ এবং ভুবনেশ্বর কুমারের জুটির সামনে প্রথম সাত ওভারের মধ্যেই তিন উইকেট খোয়ায় নিউজিল্যান্ড।

চতুর্থ উইকেটে আগের দিনের দুই হিরো রস টেলর এবং টম ল্যাথাম জুটি বাঁধলেও, সেই জুটিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি পাণ্ড্যর বলে টেলর আউট হয়ে যাওয়ায়। তবে লড়াই চালাচ্ছিলেন ল্যাথাম। তাঁর সুইপাস্ত্রে ভোঁতা করে দিচ্ছিলেন ভারতীয় স্পিনারদের। তবে শেষে তিনি সেই স্পিনের শিকারই হলেন। তাঁকে তুলে নেন অক্ষর পটেল। তবে ব্যাট হাতে এ দিন নজর কাড়েন এ বছর আইপিএলে কেকেআরের হয়ে ইডেন কাঁপানো কলিন দে গ্র্যান্ডহোম। ৪০ বলের ঝোড়ো ইনিংসটা তিনি না খেললে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ভদ্রস্থ জায়গায় পৌঁছোত না।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত রোহিত শর্মাকে হারালেও বিরাট এবং ধাওয়ানের সৌজন্য ম্যাচে ফেরে ভারত। খুব সাবলীল ভাবে ভারতের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন বিরাট এবং ধাওয়ান। তবে ২৯-এর বেশি এগোতে পারেননি বিরাট। কিন্তু ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে আসেন দীনেশ কার্তিক।

শুরুতে অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে নিজের উইকেটটা মাঠেই ফেলে আসার উপক্রম করেছিলেন কার্তিক। তবে ধীরে ধীরে ক্রিজে জমে যান তিনি। অন্য দিকে শতরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ধাওয়ান। কিন্তু তাঁরও তাল কাটল। তিরিশতম ওভারে ধাওয়ানের উইকেট হারায় ভারত।

তবে প্রত্যাবর্তনটি ভালোই করলেন কার্তিক। বিশ্বকাপের আগে ভারতের চার নম্বর জায়গাটার জন্য নিরন্তর পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছে ভারত। যুবরাজ, রাহুলের পর ওই জায়গায় ব্যর্থ মনীশ পাণ্ডেও। কিন্তু সুযোগটা দু’হাতে লুফে নিয়েছেন কার্তিক। এর আগের ম্যাচেও ভালো খেলেছিলেন তিনি। এ দিন করলেন অর্ধশতরান। কার্তিকের অর্ধশতরান এবং ধোনির অপরাজিত ইনিংসের হাত ধরেই ওভার বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত। আগামী রবিবার তৃতীয় এবং সিরিজের শেষ একদিনের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।