ঝাপটা সামলে দিয়ে নায়ক রোহিত!

0
শতরানের পর রোহিত শর্মা।

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২২৭-৯ (মরিস ৪২, দু’প্লেসি ৩৮, চাহল ৪-৫১)

ভারত: ২৩০-৪ (রোহিত ১২২ অপরাজিত ধোনি ৩৪ রাবাদা ২-৩৯)

সাউদাম্পটন: বিরাট কোহলি কি খুব স্বস্তিতে থাকবেন? বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে জয় এল ঠিকই, কিন্তু অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শুরুতেই যে ভাবে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে ভারত পড়েছিল, সেটা কিন্তু খুব ভালো বিজ্ঞাপন নয়। তবুও টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জয়ের একটা আলাদা মাত্রা রয়েছে। আর সেই জয়ের পেছনে হাত রোহিত শর্মার। তাঁর শতরানে ভর করেই প্রাথমিক ঝাপটা সামলে জয় এল ভারতের ঘরে।

আইপিএলের সুবাদে কাগিসো রাবাদা এখন পরিচিত নাম। কিন্তু ক্রিকেট বিশ্ব তো তাঁকে বিধ্বংসী বোলার হিসেবেই জানে। সেই রাবাদা যে দক্ষ একজন ব্যাটসম্যান সেটা নিশ্চয় অনেকে খেয়ালই করেননি। সেই রাবাদা এ দিন যদি ব্যাট হাতে উল্লেখযোগ্য একটা ইনিংস না খেলতেন দক্ষিণ আফ্রিকার আরও লজ্জা অপেক্ষা করত। তবে শুধু রাবাদার কথা বললেন ভুল হবে, আসল নায়ক তো ক্রিস মরিস।

এ বার আইপিএলে বাঙালিদের কাছে অন্যতম প্রিয় দল ছিল দিল্লি। কারণটা না হয় না-ই বা উল্লেখ করা হল। এই মরিসও কিন্তু সেই দিল্লিরই। জাতীয় দল যখন ভারতীয় বোলারদের সামনে কাঁপছে, ঠিক তখনই জুটি বাঁধলেন এই ‘দিল্লি ডুয়ো!’ অষ্টম উইকেটে তাঁদের মধ্যে জুটি তৈরি হল ৬৬ রানের। কিছুটা সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছোল প্রোটিয়ারা। এই দু’জন জুটি না বাঁধলে আরও বেশি লজ্জা অপেক্ষা করছিল দক্ষিণ আফ্রিকার।

এই প্রথম বিশ্বকাপে ফেভারিট হিসেবে নামেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। কেন তাদের ফেভারিট ধরা হচ্ছে না, সেটা আগের দুটো ম্যাচ দেখেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়া তা-ও ঠিক আছে, কিন্তু এরা বাংলাদেশের কাছেও হেরেছে। এর পর এই দলের থেকে আর কী-ই বা আশা করা যেতে পারে। তবে ভাগ্য যাতে পরিবর্তন হয়, সে জন্য টসে জিতে একটু অন্য রকম পরিকল্পনা করেছিল তারা। বোলিংয়ের বদলে ফাফ দু’প্লেসি নিলেন ব্যাটিং। কিন্তু ভাগ্য আর ফিরল কই!

শুরুতেই তাঁদের ভিত নাড়িয়ে দিলেন যশপ্রীত বুমরাহ। দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভ এখন তিন জন। ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও হাশিম আমলা এবং ফাফ দু’প্লেসি। দুই ওপেনারকেই ফেরান বুমরাহ। আউটের ধরনটাও একই। স্লিপে খোঁচা। এর পর আসরে নামেন ভারতের বিখ্যাত সেই ‘কুলচা’ জুটি।

তবে ‘কুলচা’-এর ‘কুল’কে বেশি কিছু করতে হয়নি, চাপ বাড়ানো ছাড়া। যা করেছেন ‘চা’ই করেছেন। জীবনের প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার মিডল অর্ডারকে কাঁপিয়ে দিলেন তিনি। এক নয়, দুটো নয়, মোট চারটে উইকেট তাঁর দখলে। হঠাৎ করে দক্ষিণ আফ্রিকা দেখল ১৬০ ওঠার আগেই ৭ উইকেট চলে গিয়েছে তাদের। এই পরিস্থিতিতে দুর্দান্ত একটা জুটি তৈরি করে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোরকে ২৩০-এর কাছাকাছি নিয়ে যান রাবাদা-মরিস।

একটা চমক অবশ্য টসের সময়েই দিয়েছিলেন কোহলি। মহম্মদ শামিকে বাইরে রেখে দলের রেখেছিলেন ভুবনেশ্বর কুমারকে। হয়তো ভুবনেশ্বরের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার চাপে পড়ে যাওয়ার অতীত রেকর্ডের ভিত্তিতেই সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। ভুবনেশ্বর দুটি উইকেট নিলেন বটে কিন্তু সে ভাবে দাগ কাটতে পারেননি। তাঁর দুটো উইকেটই ছিল ইনিংসের শেষে।

কিন্তু চমক যে আরও ছিল। রান তাড়া করতে নেমে ভারতকে এ ভাবে অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হবে সেটা কি কেউ ভেবেছিল। যে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের রবিবার পিটিয়ে ছাতু করেছিল তারাই কী না এ ভাবে জ্বলে উঠলেন!

আরও পড়ুন অমরনাথ-স্টিভ ও’র লাল রুমাল, আজহারের তাবিজ!

প্রথম দশ-পনেরো ওভার দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতকে যে ভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছিল, তাতে অঘটনের আশঙ্কা ঢুকতে শুরু করে দিয়েছিল। মনেই হচ্ছিল না, অন্তত দু’জন মুখ্য বোলারকে মাঠের বাইরে রেখে নেমেছে তারা। রাবাদার বিষাক্ত ইয়র্কার হোক বা মরিসের শর্ট বল, বেশ নড়বড়ে লাগছিল ভারতীয় ব্যাটিংকে। ইনিংসের শুরুতেই ডি কককে খোঁচা দিয়ে ফিরে যান ধাওয়ান। রান পাননি বিরাট কোহলিও।

ভারতের নড়বড়ে ব্যাটিংকে সামলাতে ক্রিজে আসেন কেএল রাহুল। অন্য দিকে রোহিত শর্মা যথেষ্ট সাবলীলই ছিলেন। বিপদের মুখে পড়া ভারতীয় ব্যাটিংকে উদ্ধার করেন রাহুল এবং রোহিতই।

একটা সময় ছিল যখন রোহিতের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য ছিল একটি জোক। তাঁর প্রতিভার কোনো অভাব ছিল না। কিন্তু প্রতিভার সঙ্গে ন্যায়বিচার করতে পারতেন না তিনি। তার পরেই কেরিয়ারে একটা টার্ন আসে, যখন মিডল অর্ডার ছেড়ে ওপেনিংয়ে চলে যান রোহিত। তার পর থেকে তাঁর গ্রাফ উঠছে তো উঠছেই। এ দিনের পর তাঁর গ্রাফ যে আরও উঠবে তা বলাই বাহুল্য।

যে প্রবল চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করে শতরানের গণ্ডি তিনি পেরোলেন, তাঁর প্রশংসা করা হবে না তো কি হবে? অন্য দিকে রাহুলেরও বড়ো রান করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল। সব থেকে চাপের মুহূর্তে ব্যাটিংকে সামলে চাপ একটু হালকা হতেই ফিরে যান তিনি। অন্য দিকে চ্যালেঞ্জ ছিল ধোনির কাছেও। চাপের মুখে কেমন খেলেন তিনি, নজর ছিল সেই দিকেও।

আরও পড়ুন ‘ভিলেন’ নিয়মে সে দিন কূলে এসে তরী ডুবেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার

সাম্প্রতিক অতীতে দেখা গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে একটু বেশিই যেন ব্যর্থ হচ্ছিলেন ধোনি। এ দিন অবশ্য অন্য ধোনি। তাড়াহুড়ো না করে রোহিতকে যোগ্য সংগত করে যান। তবে গুরুত্বপূর্ণ জুটি তৈরি করে ভারতকে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েও আউট হয়ে যান ধোনি। রোহিতকে সঙ্গে নিয়ে হার্দিক পাণ্ড্যর বাকি কাজটা করতে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়নি ভারতকে।

তবে প্রথম ম্যাচে জয় এলেও, ব্যাটিং নিয়ে এখনও কিছুটা অস্বস্তি থাকবে বিরাট কোহলির। অনেক দিন হল রানের মধ্যে নেই শিখর ধাওয়ান। তাঁর এই খারাপ ফর্ম বেশি দিন চলতে দেওয়া যাবে না। যত দ্রুত শিখর ফর্মে ফিরবেন, তত মঙ্গল ভারতের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here