চাহরের রেকর্ড স্পেলে কেঁপে গেল বাংলাদেশ, সিরিজ ভারতের

0

ভারত: ১৭৪-৫ (শ্রেয়স ৬২, রাহুল ৫২, সৌম্য ২-২৯)

বাংলাদেশ: ১৪৪ (নঈম ৮১, মিঠুন ২৮, চাহর ৬-৭)

নাগপুর: পুরোনো রোগ ফিরে এল বাংলাদেশে। জয়ের মুখ থেকে ম্যাচ হেরে আসা। আর সেই সুযোগেই তৃতীয় টি২০ ম্যাচটি জিতে সিরিজ জিতে গেল টিম ইন্ডিয়া। এই জয়ের পেছনে অবশ্য সব থেকে বড়ো অবদানটি রেখে গেলেন দীপক চাহর। চার ওভার হাত ঘুরিয়ে ছ’উইকেট নিয়ে ভারতের সেরা বোলিং করলেন তিনি।

রবিবার শুরুতেই ভারতকে মোক্ষম ধাক্কা দিয়েছিল বাংলাদেশ। সফিউল ইসলামের বলে বোল্ড রোহিত শর্মা। বিরাটহীন ভারতের শ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান নিঃসন্দেহে রোহিত। সেই রোহিতই যদি আগেভাগে ফিরে যান, তা হলে অনভিজ্ঞ এই ভারতীয় দলের কাছে ব্যাপারটা চাপের।

রোহিতের ধাক্কাটাই একমাত্র নয়, কিছুক্ষণ পর ভুলভাল চালাতে গিয়ে প্যাভিলিয়নমুখী হলেন শিখর ধাওয়ান। ঘাতক সেই সফিউল। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৩৫। মহমুদুল্লাহদের উল্লাস তখন দেখতে হয়। ভারতের ঘাড় মটকে দেওয়ার উল্লাস ধরা পড়ছে। কিন্তু আসল ব্যাটিং যে তখনই শুরু হল।

জুটি বাঁধলেন কেএল রাহুল এবং শ্রেয়স আইয়ার। দু’ জনের অনেক কিছু প্রমাণ করার ছিল। টেস্ট এবং একদিনের দল থেকে বাদ পড়ার পর একমাত্র টি২০ই রয়েছে, যেখানে রাহুল নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন। অন্য দিকে টি২০তে এখনও বড়ো রান নেই শ্রেয়সের।

দু’ জনের ব্যাট থেকে হইহই করে চার-ছক্কা বেরোতে থাকল এবং নিমেষের মধ্যে পালটা চাপে পড়ে গেল বাংলাদেশ। আউট হওয়ার আগে অর্ধশতরান করে ফেললেন রাহুল। তিনি ফিরে যাওয়ার পর শ্রেয়স আরও বেশি আগ্রাসী। আফিফ হোসেনের একটি ওভারের প্রথম তিনটে বলই মাঠের বাইরে পাঠালেন তিনি।

রান পেলেন না ঋষভ পন্থ। পন্থের ব্যাটিং দেখার জন্য যাঁরা উদগ্রীব হয়ে বসে থাকেন, তাঁদের তিনি ক্রমশ হতাশ করছেন। পন্থ এবং শ্রেয়সকে এক ওভারে ফিরিয়ে ভারতের রানের গতিতে কিছুটা লাগাম লাগান সৌম্য সরকার।

তবে শেষের দিকে মনীশ পাণ্ডের সংক্ষিপ্ত কিন্ত ঝোড়ো ইনিংসের সৌজন্য ১৭০-এর গণ্ডি পেরোয় ভারত।

বোলিংটাও দারুণ ভাবেই শুরু করে ভারত। প্রথম স্পেলেই সৌম্য সরকার এবং লিটন দাসকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ধাক্কা দেন তিনি। কিন্তু তার পর বাংলাদেশ যে ভাবে প্রত্যাবর্তন করল, সেটা কোনো ভাবেই রোহিতরা আন্দাজ করতে পারেননি।

ক্রিজে তখন মহম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে আগ্রাসী ঢঙে খেলা শুরু করলেন মহম্মদ নঈম। টি২০ ক্রিকেটে নঈমের তেমন কোনো অবদান ছিল না। কিন্তু এ দিন দারুণ ভাবে জ্বলে উঠল তাঁর ব্যাট।

এক দিকে নঈম যখন ব্যাট চালাচ্ছেন, তখন ঢিমেতালে খেলে তাঁকে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছিলেন মিঠুন। দু’ জনের জুটি ভারতের কপালে ঘাম ঝরিয়ে দিল। ১২ ওভারেই বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে উঠে গেল ১০৬। পড়েছে মাত্র ২ উইকেট।

এই পরিস্থিতিতে কিছুটা কামব্যাক করল ভারত। চাহরের বলে মিঠুন ফেরার ঠিক পরের বলেই মুশফিকুর রহিমকে ফিরিয়ে দেন শিবম দুবে। ১৬তম ওভারে আবার শিবমের চমক। ফিরিয়ে দেন সেট হয়ে যাওয়া নঈমকে। পরের বলে আফিফকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের কোমর ভেঙে দেন সেই দুবেই।

এক সময়ে জয়ের গন্ধ পেয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ইনিংসে আচমকা লাগাম লেগে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে মহমুদুল্লাহকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর ভারতের জয় ছাড়া আরও কোনো ফলাফল দেখা যাচ্ছিল না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.