mohali odi

ভারত ৩৯২-৪ (রোহিত ২০৮ অপরাজিত, আয়ার ৮৮, পেরেরা ৩-৮০)

শ্রীলঙ্কা ২৫১-৮ (ম্যাথিউজ ১১১ অপরাজিত, গুণরত্নে ৩৪, চহ্বল ৩-৬০)

মোহালি: দুর্বল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়া যে শুধুমাত্র একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল, সেটা প্রমাণের দায় ছিল ভারতের। প্রমাণ করার ছিল বিরাট কোহলি ছাড়াও ভারত ম্যাচ জিততে পারে। সব কিছুই প্রমাণ করে দিয়ে দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে পিষে দিল ভারত।

প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়াটা ভারত যে ভালো ভাবে নেয়নি, সেটা বোঝা গেল এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর ধরন দেখে। লঙ্কাবাহিনীকে উড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব এ দিন নিজের কাঁধে তুলে নেন রোহিত। প্রতিপক্ষ হিসেবে শ্রীলঙ্কাকে বিশেষ পছন্দ তাঁর। কেরিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোরটাও এসেছে শ্রীলঙ্কারই বিরুদ্ধে। সেই প্রিয় প্রতিপক্ষকে পেয়েই তাদের সংহার করেন রোহিত।

আরও পড়ুন মোহালিতে ইতিহাসে ঢুকে পড়লেন ‘হিট ম্যান’

স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় এ দিনও টস জেতে শ্রীলঙ্কা। আগের দিনের সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ পরিস্থিতি আগের ম্যাচের মতোই। কিন্তু শুরুতেই এ দিন শ্রীলঙ্কার বোলারদের ভোঁতা করে দেন ধাওয়ান-রোহিত জুটি। শুরুতে রোহিত কিছুটা নিঃস্পৃহ ছিলেন, চালিয়ে খেলেন ধাওয়ান। প্রথম উইকেটে দু’জনের মধ্যে ১১৫ রানের জুটি তৈরি হয়। ধাওয়ান ফিরে যাওয়ার পর তিন নম্বরে নামেন শ্রেয়স আয়ার।

নিজেকে প্রমাণ করার অনেক বেশি দায় ছিল শ্রেয়স আয়ারের। এমন নয় যে তিনি রান পেলে বিরাটের জায়গাটি তিনি পেয়ে যাবেন। কিন্তু তিনি রান পেলে চাপে পড়ে যাবেন চার নম্বরে নামা দীনেশ কার্তিক। নিজেকে ভালো ভাবেই প্রমাণ করলেন শ্রেয়স। উলটো দিকে যখন ধীরে ধীরে নিজের শতরানের দিকে রোহিত এগিয়ে যাচ্ছিলেন তখন অনেক আগ্রাসী ঢঙে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান আয়ার।

তবে মাত্র বারো রানের জন্য নিজের শতরানটা মাঠে ফেলে আসেন আয়ার। অন্য দিকে শতরানের পর যেন আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে যান রোহিত। শতরানের পরে রোহিত ঠিক কতটা আগ্রাসী হয়েছিলেন, একটা পরিসংখ্যানে তা প্রমাণিত হিয়ে যাবে। শতরান করতে রোহিত নিয়েছিলেন ১১৫ বল, দ্বিশতরান করতে তিনি নিলেন ১৫১। অর্থাৎ শেষ একশো রান ৩৬ বলে এসেছে রোহিতের ব্যাট থেকে।

আরও পড়ুন ভারত-শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচের পরেই অবসর নিচ্ছেন ধোনি

স্কোরবোর্ডে ৩৯২ তোলার পর ভারত যে জিতবেই সে ব্যাপারে কারও কোনো দ্বিমত ছিল না। তখন দেখার ছিল কেমন পারফর্ম করেন ভারতের বোলাররা। বলতেই হয় বোলাররাও পুরোপুরি সফল। বোলাররা অনবরত উইকেট নিতে থাকায় ম্যাচে কোনো চ্যালেঞ্জই তৈরি করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা।

একা কুম্ভ হয়ে লড়ে যান শুধু অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ। এই শ্রীলঙ্কা টিমে তিনিই যে একমাত্র ব্যাটিং স্তম্ভ সেটা বারবার বোঝাচ্ছেন ম্যাথিউজ। ইডেনে অর্ধশতরানের পরে দিল্লিতে শতরান করেছিলেন। প্রথম একদিনের ম্যাচেও অপরাজিত ছিলেন তিনি। তার পর এ দিনের শতরান। তবে অ্যাঞ্জেলোর ইনিংসও শ্রীলঙ্কাকে বেশি আনন্দ দিতে পারেনি।

দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা ফেরাল ভারত। এখন দেখার রবিবার তৃতীয় একদিনের ম্যাচে কী হয়?

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here