ইনিংসে হারতে হল না, এটাই যা সান্ত্বনার

0

ভারত: ১৬৫ ও ১৯১ (অগ্রবাল ৫৮, রাহানে ৩৯, সাউথি ৫-৬১)

নিউজিল্যান্ড: ৩৪৮ ও ৯-০ (ল্যাথাম ৯ অপরাজিত)

ওয়েলিংটন: ‘বল যেখানে নড়ে, ভারতীয় ব্যাটিং সেখানে ভেঙে পড়ে’। আজকের নয়, এই প্রবাদটা বহু দিনের। বল যেখানে সুইং করবে, ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দুঃস্বপ্ন সেখানে আসতে বাধ্য। এই ওয়েলিংটন টেস্টেও সেটাই হল।

ওয়েলিংটন টেস্টের আগে পর্যন্ত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে যে ক’টা টেস্ট ভারত খেলেছিল, সব জিতেছিল। সাতে সাত। এই টেস্ট শুরুর আগে তাই ফলাও করে প্রচার করা হয়েছিল যে নিউজিল্যান্ডকে প্রথম টেস্টে হারালেই রেকর্ড বইয়ে ঢুকে যাবে বিরাটবাহিনী। টানা আটটা টেস্ট জয়ের রেকর্ড।

রেকর্ডের হাতছানি থাকলেও, অনেকের যেটা মাথাতেই আসেনি, তা হল ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভের হাওয়া আর সুইং-আদর্শ পরিস্থিতি। কিন্তু সেই পরিস্থিতি যে ভারতের পক্ষে মোকাবিলা করা কষ্টকর হতে পারে তার আন্দাজ কি গত বছর নভেম্বরে পাওয়া যায়নি?

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গোলাপি বলের টেস্টে একবার ফিরে যান তো সবাই। টেস্টে বাংলাদেশ এত হতশ্রী পারফরম্যান্স করেছিল, যে ভারতের ব্যাটিং ব্যর্থতা অনেকটাই ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ওই টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের বিরুদ্ধে সাড়ে তিনশো রানও পেরোতে পারেনি ভারত। বিরাটের শতরান আর রাহানে-পুজারার অর্ধশতরান ছাড়া কেউ দাঁড়াতেই পারেননি।

ভারতীয় ব্যাটিংয়ের ফাঁকফোকর তো তখনই বোঝা গিয়েছিল। সেই গলদ যে রাতারাতি শুধরে যাবে, সেই আশা করাটাও ছিল মুর্খামি।

অন্যান্য দিনে ভারতীয় ব্যাটিং ধসে পড়লে হাল ধরেন বিরাট। কিন্তু এই সিরিজে তিনি নজিরবিহীন অফ-ফর্মে। চারটে টি-২০, তিনটে একদিনের ম্যাচ আর এই টেস্টের দুটো ইনিংস মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মাত্র এক বার ৫০-এর মুখ দেখেছেন তিনি।

এই টেস্টে কিছুটা দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন মাত্র দু’জন। ওপেনার ময়াঙ্ক অগ্রবাল আর অজিঙ্ক রাহানে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট করে অগ্রবাল বুঝিয়ে দিয়েছেন, সেরা ওপেনার হওয়ার যাবতীয় গুণ তাঁর মধ্যে রয়েছে। আর রাহানে বোঝাচ্ছেন, বিদেশের মাঠে তিনিই ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম সেরা বাজি।

ভারতের কপালে যে হারের খাঁড়া ঝুলছে সে তো তৃতীয় দিনই বোঝা গিয়েছিল। দেখার ছিল যে ইনিংসে হারের সম্মুখীন হয় কি না তারা। সেটা যে হয়নি, সেটাই ভারতের কাছে একমাত্র সান্ত্বনার। নয়তো বিশ্বের সেরা টেস্ট দলের এ ভাবে ইনিংসে হার, তা-ও কি না অপেক্ষাকৃত দুর্বল নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে, এটা মেনে নাওয়া কষ্টকর হত।

ভারতীয় ব্যাটিং তো ডুবেছেই, বোলিংয়ের অবস্থাও ভালো নয়। যে উইকেটে নিউজিল্যান্ডের পেসাররা ভারতকে দু’ বার দুশোর নীচে অলআউট করতে পারেন, সে পিচে ভারতীয় বোলাররা কার্যত ব্যর্থ। ইশান্ত শর্মা ছাড়া বাকি দুই পেসার বিশেষ কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। অথচ এটাই না কি ভারতের সর্বকালের সেরা পেস আক্রমণ। তবে স্বস্তির খবর এই যে, কঠিন পরিস্থিতিতেও ভালো বল করেছেন অশ্বিন।

যা-ই হোক, সাউথ আফ্রিকা, ইংল্যান্ডের পর এ বার নিউজিল্যান্ডেও টেস্ট সিরিজ জেতা হচ্ছে না ভারতের। দ্বিতীয় টেস্টটা জিতে সিরিজ অমীমাংসিত রাখা যেতে পারে। সেটাই চাইবেন বিরাট কোহলি।

তবে একটা কথা বলে দেওয়া যাক, ক্রাইসচার্চের হ্যাগলে ওভালেও কিন্তু অসম্ভব হাওয়া চলে।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.