kheladhula adda
মঞ্চে (বাঁ দিক থেকে) অভিষেক ডালমিয়া, স্নেহাশিস গাঙ্গুলি, দিব্যেন্দু বড়ুয়া, দেবাশিস দত্ত, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় ও কাঞ্চনা মৈত্র।
শ্রয়ণ সেন

“ভারতের খুব খারাপ দিন না গেলে পাকিস্তানের কাছে হেরে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।” স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখে এই কথাগুলো শোনার পরেই সমবত হাততালিতে ফেটে পড়ল আড্ডাঘর। হ্যাঁ, আড্ডাঘরই। কারণ মঙ্গলবারের সন্ধ্যায় গুরুগম্ভীর ‘বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্সে’-এর ‘উইলিয়ামসন মেগর হল’-এ যেটা হল, সেটাকে ফুরফুরে একটা আড্ডাই বলা চলে।

ভোটের মরশুম এখনও শেষ হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ বিশ্বকাপ জ্বরে আক্রান্ত হতে শুরু করেছেন। মানুষের এই মুড বুঝেই বিশেষ একটি ক্রিকেটমুখর সন্ধ্যার আয়োজন করেছিল ‘বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স।’ না কোনো রাশভারী আলোচনা নয়। এক জমাটি আড্ডামুখর সন্ধ্যা। এমন একটা অনুষ্ঠান, যা দেখে মানুষের কোনো রকম বিরক্তির সম্ভাবনা নেই।

‘খেলাধুলো আড্ডা’ নামক এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত। একটা কথায় বলা যায় আড্ডা মারতে এসেছিলেন সিএবির যুগ্ম সচিব অভিষেক ডালমিয়া, বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, গ্র্যান্ড মাস্টার দিব্যেন্দু বড়ুয়া। এ ছাড়াও বিনোদন জগত থেকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত শিল্পী তথা চন্দ্রবিন্দু ব্যান্ডের অন্যতম স্তম্ভ অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র।

আরও পড়ুন প্রচুর রানের সম্ভাবনা, নতুন করে ছাপতে হল বিশ্বকাপের স্কোরিং শিট

আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল এ বারে বিশ্বকাপে ভারতের সম্ভাবনা কতটা। ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে সবাই চায় বিশ্বকাপের ট্রফি তুলুক বিরাটবাহিনী। সেই স্বপ্নকে সত্যি করতে গেলে অনেক কাঠখড় ভারতকে পোহাতে হবে বলে উঠে এল বিশেষজ্ঞদের মতামতে। কারণ এ বার বিশ্বকাপের ফরম্যাট এমনই যেখানে সব দলকেই সবার বিরুদ্ধে খেলতে হবে। অর্থাৎ সেমিফাইনালে উঠতে গেলে ভারতের ন’জন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই দাপটের সঙ্গে খেলতে হবে। ফলে ৫ জুন থেকে পরবর্তী এক মাস, ভারতকে যে অসাধারণ ক্রিকেট খেলতে হবে সেই কথা মনে করিয়ে দেন দেবাশিসবাবু।

কথা প্রসঙ্গেই উঠে আসে পাকিস্তান। না কোনো উগ্র জাতীয়তাবাদীর মোড়ক ছিল না আলোচনায়। বরং বেশি করে ক্রিকেট ছিল। আর একজন ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমী চাইবেন, ভারত বিশ্বকাপ জিতুক না জিতুক, যে করেই হোক, পাকিস্তানকে হারাতেই হবে। অনেকটা মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলেরই মতো ব্যাপারটা।

আরও পড়ুন কোহলির ফিনিশিং সচিনের থেকে ভালো: প্রাক্তন বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার

এই প্রসঙ্গেই স্নেহাশিসবাবু বলেন, পাকিস্তানের কাছে হারতে গেলে ভারতকে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সব থেকে জঘন্য ক্রিকেট খেলতে হবে। উল্লেখ্য, ইদানীং কালে পাকিস্তান দলের ব্যাটিং খুব ভালো হচ্ছে। ইংল্যান্ডে একদিনের সিরিজে সব ক’টা ম্যাচ হারলেও, বেশির ভাগ ম্যাচে তাদের স্কোর সাড়ে তিনশো পেরিয়েছে বা তার কাছাকাছি গিয়েছে। কিন্তু বিপক্ষের রান তোলা আটকানোর জন্য কোনো ভালো বোলিং শক্তি পাকিস্তানের নেই। এই কথাই মনে করিয়ে দেন স্নেহাশিসবাবু। তিনি বলেন, “এই পাকিস্তানকে হারানোতে বিশেষ কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয় ভারতের। বিরাটরা অত্যন্ত জঘন্য ক্রিকেট না খেললে কোনো ভাবেই পাকিস্তান জিতবে না।”

তবে এই প্রসঙ্গে দিব্যেন্দুবাবুও একটা কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “তা বলে ভারতকে কোনো ভাবে আত্মতুষ্ট থাকলে চলবে না। কারণ ওই দিনে যে সেরা খেলা খেলবে সেই জিতবে।”

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here