দক্ষিণ আফ্রিকা- ২৮৬       ভারত-২৮/৩

কেপটাউন: গত বছর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিনটি ক্যাচ মিস করেছিলেন, এদিন আরও একটা ক্যাচ মিস করলেন শিখর ধাওয়ান। তা না হলে চা বিরতির আগেই ভুবলেশ্বর কুমারের ৫ উইকেট পাওয়া হয়ে যেত। দক্ষিণ আফ্রিকার ৮ উইকেট পড়ে যেত। কে বলতে পারে হয়তো তাদের সব কটি উইকেটই পড়ে যেত। কিন্তু তা হয়নি।

যেটা হয়েছে, তা হল, লাঞ্চ ও চা বিরতির মাঝে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারালেও ওভারে সাড়ে চারেরও বেশি করে রান তুলে নেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা। যদিও এই সেশনেই ঘটে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। জীবনের প্রথম টেস্ট ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হলেও বহুদিন পর টেস্ট খেলতে নেমে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে থাকা ডেফিলিয়ার্সের (৬৫)মূল্যবান উইকেটটা তুলে নেন বুমরা। অন্যদিকে বেশ কয়েক ওভার হার্দিক পাণ্ড্যকে দিয়ে বল করিয়েছেন কোহলি। উপায় ছিল না। কারণ রাহানেকে বাদ দিয়ে তিনি একজন অলরাউন্ডার নিয়েছেন। সে বল না করলে চলে কি করে! যাই হোক গোটা ইনিংসটা বেশ খারাপ বল করলেও ডু প্লেসিকে (৬০)আউট করলেন তিনি।

যাই হোক, এ সবের আগে অবশ্য ডেভিলিয়ার্স ও ডুপ্লেসি মিলে চতুর্থ উইকেটে ১১৪ রান করে ম্যাচের হাওয়া ঘুরিয়ে দিয়েছেন। যে হাওয়াটা খেলার শুরুতেই ভারতের দিকে নিয়ে এসেছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। প্রথম থেকে উইকেট নেওয়া শুরু করে। এক সময় ১২ রানে ত উইকেট হয়ে গেছিল ফিল্যান্ডারদের। ও হ্যাঁ। প্রায় গোটা ইনিংস জুড়ে লাইন খুঁজে না পাওয়া সামি ফিল্যান্ডারের উইকেটটা নিয়েছেন। সামি যদি এদিন ঠিকঠাক বল করতেন, তাহলে ম্যাচের শুরুতেই খেলা থেকে হারিয়ে যেত ডুপ্লেসির দল। কারণ ভুবি তখন আগুন ঝরাচ্ছিলেন।

বিপদ আবার এল অষ্টম উইকেটে। সব বোলাররা আউট করতে ব্যর্থ হওয়ার পর খামোকা রান আউট হয়ে গেলেন কেশব মহারাজ। শেষ পর্যন্ত ২৮৬ রান(শেষ দুই উইকেট নিলেন অশ্বিন)। কে না জানে, কেপ টাউনের এই সবুজ বাউন্সি উইকেটে এটা কত বড়ো স্কোর।

যদি কারও সন্দেহ হয়েও থাকে যে রানটা তত বড়ো নয়, তবে তা দ্রুতই মিটিয়ে দিলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। পরপর দিব্যি আউট হয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। বিজয় আর কোহলি আউট হলেন ঠিক সেই ভাবে, যেভাবে আমরা বিদেশের মাটিতে ভারতের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের আউট হতে দেখে আসছি ঐতিহাসিক কাল থেকে। আর ধাওয়ান তো মনে হয় ভুলেই গেছিলেন যে দেশ থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে এসেছেন। বাউন্স সম্পর্কে তাঁর কোনো প্ল্যানই ছিল না। এর ওপর কোহলি এদিন রাহানেকেও নেননি। ইনফর্ম রোহিতকে নিয়েছেন(পূজারার সঙ্গে তিনিই আপাতত ক্রিজে)। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং-এর সঙ্গে আগ্রাসী অধিনায়কত্বই মানায়। তবে কিনা এটা টেস্ট ম্যাচ, তাও আবার দক্ষিণ আফ্রিকায়। ব্যাপারটা বোঝানোর জন্য ফিল্যান্ডার-মরকেল-রাবাডারা তো ছিলেনই। সঙ্গে বছর দুয়েক পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে এসেছেন ডেল স্টেইন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here