chris woakes india vs england
শতরানের পর ওক্স। ছবি: টুইটার, আইসিসি

ভারত: ১০৭

ইংল্যান্ড: ৩৫৭-৬ (ওক্স অপরাজিত ১২০, বেয়ারস্টো ৯৩, শামি ৩-৭৪) 

লন্ডন: দুর্ধর্ষ ক্যাচে জনি বেয়ারস্টো দীনেশ কার্তিকের তালুবন্দি হতেই ভারতীয় দলের চোখমুখে হঠাৎ করে একটা স্বস্তি চোখে পড়ল। হবে না-ই বা কেন, গত কয়েক ঘণ্টা ক্রিস ওক্‌সকে সঙ্গী করে যে ভাবে শামি-ইশান্ত-অশ্বিনদের নিয়ে বেয়ারস্টো  ছেলেখেলা করে গিয়েছেন, তাতে একটা ব্যাপার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। এই টেস্টের শেষেও ভারতের ভাঁড়ার শূন্যই থাকবে।

অথচ মধ্যাহ্নভোজনের আগে পর্যন্ত খেলার মতিগতি দেখে কখনোই মনে হয়নি যে পুরো দিনটাই ইংল্যান্ডের হয়ে যাবে। এ দিন খেলা শুরু হওয়া থেকেই ভারতীয় বোলারদের এজবাস্টনের মহিমাতেই দেখা গিয়েছিল।

শুরু করেছিলেন শামি, কিটন জেনিংসকে ফিরিয়ে। জেনিংস তাঁর নিখুত লাইন এবং লেংথের শিকার হওয়ার কিছু পরেই ইশান্তের বলে কার্তিকের হাতে খোঁচা দিয়ে দেন কুক। ভারত তখন পুরোপুরি ম্যাচে ফিরে এসেছে। সেই মুহূর্তেই আরও দু’টো উইকেট তুলে নিলে ম্যাচের মোড় হয়তো ঘুরে যেত।

কিন্তু রুট এবং চার নম্বর নামা পোপের ছোট্ট একটা পার্টনারশিপের দৌলতে ভারত ব্যাকফুটে যেতে শুরু করে। আসলে এত কম রান রক্ষা করা বেশ চাপের। বিপক্ষকে একটা ছোট্ট পার্টনারশিপও করতে দেওয়া যাবে না কখনও। কিন্তু যখন ইংল্যান্ড আস্তে আস্তে ম্যাচের দখল নিতে শুরু করে দিয়েছিল, তখনই আঘাত হানলেন হার্দিক পাণ্ড্য, এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেন পোপ। এর কিছু পরেই শামির শিকার হলেন রুট। চার উইকেটে ৮৯, এই অবস্থায় কিছুটা স্বস্তিতে মধ্যাহ্নভোজনে গেল ভারত।

johny bairstow
সাত রানের জন্য শতরান পেলেন না বেয়ারস্টো। ছবি: টুইটার, আইসিসি

ফিরে আসার পরে আরও একটা উইকেট। ইংল্যান্ড তখন এগিয়ে গেলেও, ভারতের কাছে বড়ো সুযোগ তৈরি হয়ে গিয়েছে। কারণ এর পরেই শুরু হয়ে গেল টেল-এন্ডার। অর্থাৎ আর বড়জোর পঞ্চাশ রানের মধ্যেই ব্রিটিশ ব্যাটিংকে বান্ডিল করে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু হায়! এর পরেই যে ম্যাচের রূপ পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিল ইংল্যান্ড।

এর পরের কয়েক ঘণ্টায় যেটা ঘটল অধিনায়ক বিরাট এবং তাঁর বোলাররা তা ভুলে যেতে চাইবেন। শুরু হল ভারতীয় বোলারদের ঠেঙানো। সেই ঠেঙানোর দায়িত্বভার নিয়ে নিলেন জনি বেয়ারস্টো এবং ক্রিস ওক্স।

মূলত বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে খেলেন গত বছর আইপিএলে কলকাতা নাইটরাইডার্সের হয়ে খেলা ওক্স। তবে এই টেস্টের আগে পর্যন্ত পাঁচটি টেস্ট অর্ধশতরান ছিল তাঁর। এ বার অবশ্য অর্ধশতরানের পরেই থেমে যাওয়া নয়, গণ্ডি পেরিয়ে গেলেন শতরানও। দিনের শেষেও তাঁর ব্যাট চলছে। অন্য দিকে মাত্র ছ’রানের জন্য শতরান ফসকালেন বেয়ারস্টো।

সুতরাং পরিস্থিতি কী দাঁড়াল? ইংল্যান্ডের লিড এখনই আড়াইশো রান। ভারতকে এই টেস্ট বাঁচাতে হবে, কারণ টেস্ট না বাঁচালে হোয়াইটওয়াশ হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক ক্রমশ গ্রাস করতে শুরু করবে। ভারতকে তাই টেস্ট বাঁচাতে হলে তাকিয়ে থাকতে হবে দুই ‘ব’-এর দিকে – বৃষ্টি এবং ব্যাটসম্যান। তবে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস প্রথম ‘ব’-টির সম্ভাবনা ৯২ শতাংশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন