ব্যাটের পর বোলিংয়ের কামাল, বিরাটদের তুখোড় অলরাউন্ড প্রদর্শনে উড়ে গেল ক্যাঙ্গারুরা

0

ভারত ৩৪০-৬ (ধাওয়ান ৯৬, রাহুল ৮০, রিচার্ডসন ২-৭৩)

অস্ট্রেলিয়া ৩০৪ (স্মিথ ৯৮, লাবুশানে ৪৬, শামি ৩-৭৭)

Loading videos...

রাজকোট: রবিবার বেঙ্গালুরুতে মহারন। কারণ রাজকোটে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে সিরিজে দুর্দান্ত ভাবে সমতা ফেরাল বিরাটবাহিনী। কোনো ব্যাটসম্যানের শতরান ছাড়াই সাড়ে তিনশোর কাছাকাছি পৌঁছে গেল ভারত। বলা যায়, তুখোড় অলরাউন্ড পারফরম্যান্সই সিরিজ বাঁচিয়ে রাখল ভারতের জন্য।

অল্পের জন্য শতরান হাতছাড়া করলেন শিখর ধাওয়ান। নিজের পছন্দের জায়গা ফিরে পেয়ে বড়ো রান করলেন বিরাট কোহলি। কিন্তু এ দিন ভারতীয় ইনিংসে সব থেকে বেশি চর্চিত নামটি হল কেএল রাহুল।

ভারতীয় একদিনের দলে জায়গা মোটামুটি পাকা করে ফেললেও ব্যাটিং অর্ডারে নিজের স্থান নির্দিষ্ট করতে পারেননি রাহুল। শিখর ধাওয়ান সুস্থ হয়ে যাওয়ায় পছন্দের ওপেনিং জায়গাটি তাঁকে ছেড়ে দিতে হয়েছে। মঙ্গলবার চার নম্বরে নেমে কোহলি ব্যর্থ হওয়ায় তিনি উঠলেন তিন নম্বরে। তা হলে রাহুলকে কোথায় নামানো হল?

চার নম্বর নয়, এ দিন তাঁকে নামানো হল পাঁচে। অর্থাৎ ওপেনার থেকে আচমকা ফিনিশারের দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হল রাহুলকে। অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি ব্যর্থ হবেন।

কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে রাহুলই এ দিন ভারতীয় ইনিংসের নায়ক। পাঁচ নম্বরে নেমে রাহুল যে ইনিংসটা খেললেন সেটা না খেললে ভারত তিনশোর আগেই থেমে যেতে পারত।

শুধু বড়ো রানের ইনিংস খেলাই নয়, রাহুলের সেই ইনিংস এল বিদ্যুৎগতিতে। ৮০ রান তিনি করলেন মাত্র ৫২ বলে। স্ট্রাইক রেট ১৫৩-এর ওপরে। রাহুলের এই ইনিংসের পর রবি শাস্ত্রী আর বিরাট কোহলিরা যদি তাঁকে ফিনিশার হিসেবেই ভাবতে শুরু করেন, তা হলে বিন্দুমাত্র অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

মঙ্গলবারের ম্যাচের সব ভুল শুধরে নিয়ে এ দিন ম্যাচে নামে ভারত। ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতীয় ব্যাটিং চনমনে। মুম্বইয়ে যেখানে শেষ করেছিলেন ধাওয়ান, এ দিন সেখান থেকেই শুরু করেন তিনি। আউটও হলেন কিছুটা আত্মতুষ্ট হয়ে, কোনো ভালো বলে পরাস্থ হয়েছেন এমনটা নয়।

শতরান শুধু নয়, আরও বড়ো রান এ দিন মাঠে ছেড়ে আসেন ধাওয়ান। ঠিক যেমন শতরান ছেড়ে এসেছেন বিরাট কোহলিও। নিজের পছন্দের তিন নম্বর জায়গাটি ফিরে পেয়েই এ দিন পুরনো ফর্মে ফিরে গেলেন ভারত অধিনায়ক।

রাহুলের জন্য ভারতের ইনিংস দুর্দান্ত ভাবে শেষ হয়, তা হলে বড়ো রানের ভীতটা এ দিন তৈরি হয়েছিল বিরাটের ওই ৭৮ রানের ইনিংসটার জন্যই।

মঙ্গলবার যে দাপটের সঙ্গে দুই অজি ওপেনার ব্যাট করেছিলেন, তাতে এ দিনের ৩৪০ রানের পরেও স্বস্তি ছিল না বিরাটদের। শুরুতে বিধ্বংসী মেজাজের ঝলক দেখাচ্ছিলেন ওয়ার্নার। কিন্তু দুর্ধর্ষ ব্যাটসম্যানদের ফেরাতে মাঠে দুর্ধর্ষ কিছু কাণ্ড ঘটাতে হয়, সেটাই এ দিন করলেন মনীশ পাণ্ডে।

স্কোরবোর্ডে দেখাবে ‘ওয়ার্নার কট মনীশ বোল্ড শামি।’ কিন্তু যেটা দেখাবে না, সেটা হল ওই জায়গায় পাণ্ডে না থাকলে, কোনো ভাবেই প্যাভিলিয়নের পথ দেখতেন না ওয়ার্নার। হাওয়ায় নিজের শরীরটাকে ছুড়ে দিয়ে এক হাতে ওয়ার্নারের সেই ক্যাচ তালুবন্দি করেন পাণ্ডে।

কিন্তু ওয়ার্নার ফিরলেও যে স্বস্তি ছিল না ভারতীয় শিবিরে। সৌজন্যে স্টিভ স্মিথ ও মার্নাস লাবুশানে। একজন গত চার-পাঁচ বছর ধরে বিশ্বক্রিকেট দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন আর অন্য জন সাম্প্রতিককালে টেস্টে ভয়ংকর সব ইনিংস খেলে একদিনের কেরিয়ার শুরু করছেন।

এ হেন স্মিথ আর লাবুশানে শেয়ানে শেয়ানে টক্কর দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের ক্রিজে থাকাকালীন ভারতের স্কোর কোনো অর্থেই নিরাপদ ছিল না।

কিন্তু ৩১ থেকে ৩৮ ওভারের মধ্যে কামাল করলেন ভারতীয় স্পিনাররা। ৩১তম ওভারে সেট হয়ে যাওয়া লাবুশানেকে ফেরালেন জাদেজা। আর ৩৮ ওভারে দু’বলের ব্যবধানে অ্যালেক্স ক্যারি আর স্মিথকে ফেরালেন কুলদীপ। ধাওয়ানের মতোই শতরান হাতছাড়া করে প্যাভিলিয়নমুখী হলেন স্মিথ।

আরও পড়ুন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শুরুতেই অঘটন, আফগান তরুণের ঘূর্ণিতে ধূলিসাৎ সাউথ আফ্রিকা

২২১ রানের মাথায় পাঁচ উইকেট পড়ে গেলেও কিন্তু ভারত নিরাপদ ছিল না। কারণ ক্রিজে তখন ছিলেন অ্যাশটন টার্নার। অনামী এই অস্ট্রেলীয় কিন্তু গত বছর মার্চেই ভারতের বিরুদ্ধে দুর্ধর্ষ একটা ইনিংস খেলেছিলেন।

সেই ম্যাচে ৪৩ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলে সাড়ে তিনশোর ওপরে রান তাড়া করে অস্ট্রেলিয়াকে জিতিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এ দিন আর পারলেন না। শামির নিখুঁত ইয়র্কার ছিটকে দিল তাঁর স্টাম্প। পরের বলে প্যাট কামিন্সকে ফেরালেন সেই শামিই। ব্যাস, ম্যাচ চলে এল ভারতের পকেটে।

বাকিটুকু ছিল শুধুমাত্র নিয়মরক্ষার। সেখানে আবার নিজের উপস্থিতি বুঝিয়ে দিলেন নবদীপ সাইনি, দুটো উইকেট তুলে নিয়ে।

শেষে বলা যায়, বেশ সহজেই ম্যাচটি পকেটে পুড়ে ফেলল ভারত, ৪০ ওভার পর্যন্তও যে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার দাবি ছিল। রবিবার বিরাটদের কাছে এখন অগ্নিপরীক্ষা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.