india vs englnd third odi

ভারত ২৫৬-৮ (বিরাট ৭১, ধাওয়ান ৪৪, উইলি ৩-৪০)

ইংল্যান্ড ২৬০-২ (রুট অপরাজিত ১০০, মর্গ্যান অপরাজিত ৮৮, শার্দুল ১-৫১)

হেডিংলে: টেস্টকে যতটা তারা গুরুত্ব দিত, একদিনের ক্রিকেটকে সে ভাবে দিত না। তাই একদিনের ক্রিকেটে খুব উল্লেখযোগ্য সাফল্য ইংল্যান্ডের নেইও। কিন্তু ছবিটা বদলে গেল ২০১৫-এর বিশ্বকাপের পরে। বাংলাদেশের কাছে হেরে গ্রুপ রাউন্ডেই বিদায় নিল ইংল্যান্ড। তার পর থেকেই ঘুরে দাঁড়াল দল। অধিনায়ক ওইন মর্গ্যানের হাত ধরে একদিনের ক্রিকেটে একটা বড়ো শক্তি হয়ে উঠল তারা। পরের পর সিরিজ জিতে নিয়ে এখন তারা একদিনের র‍্যাঙ্কিং-এর মগডালে উঠে রয়েছে। কেন তারা একদিনের ক্রিকেটে সেরা দল সেটা প্রমাণ করে দিল ইংল্যান্ড। তাদের গড়ে সিরিজ হেরে গেল একদিনের ক্রিকেটে অন্যতম সেরা দল ভারত।

ভারতের কাছে অনেক কিছু শিক্ষা দিয়ে গেল মঙ্গলবারের এই একদিনের ম্যাচ। টানা ন’খানা একদিনের সিরিজ জেতার পরে এই হার বিরাটবাহিনীর চোখ খুলে দিল। আর দশ মাস পরেই এ দেশে বিশ্বকাপ। তার আগে ভারতকে যে আরও বেশি করে প্রস্তুতি নিতে হবে সেটা জানান দিল। কোনো দলকে হালকা ভাবে নিলে চলবে না, সেটাও জানান দিল। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিয়ে গেল, খুব শীঘ্রই একটা স্থায়ী টিম তৈরি করতে হবে ভারতকে।

এই ভারতীয় দলে স্পিন বিভাগ মোটামুটি পাকা হয়ে গেলেও, এখনও পেস বিভাগ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। আগের দু’টো ম্যাচে খেলা উমেশ যাদব এবং সিদ্ধার্থ কৌলকে বসিয়ে ভুবনেশ্বর এবং শার্দুল ঠাকুরকে খেলানোর সিদ্ধান্ত আদৌ সঠিক ছিল কি না সেই প্রশ্ন উঠছে। মঙ্গলবার ভারতের বোলিং বিভাগ একদমই ক্লিক করেনি। যথেচ্ছ রান খরচ করেছিলেন ভুবনেশ্বর। কুলদীপ এবং চাহলও এ দিন ব্যর্থ। বোলারদের এই ব্যর্থতা, দু’হাত দিয়ে লুফে নিলেন ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা, বিশেষ করে জো রুট এবং মর্গ্যান। ভারতের যেটুকু যা আশা এই ম্যাচে ছিল রুট, মর্গ্যানের জুটিতে সেটাও ভঙ্গ হয়ে যায়।

india vs england third odi

দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচের মত এ দিনও শতরান করেন রুট। অন্য দিকে শতরান থেকে মাত্র ১২ রান দূরে শেষ করে মর্গ্যান। দু’জনের মধ্যে তৈরি হওয়া অপরাজিত ১৮৬ রানের জুটিই এই ম্যাচে ভারতের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

শুধু কী বোলিং, প্রশ্ন উঠবে ব্যাটিং নিয়েও। ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের অবস্থাটা এখন এমন হয়ে গিয়েছে যেন মনে হচ্ছে, প্রথম তিনজন ব্যাটসম্যানের মধ্যে দু’জনের ব্যাট না চললে বড়ো রানের দিকে কোনো ভাবেই এগোতে পারবে না দল। এ দিনও তাই হল, বিরাটের ব্যাট থেকে সাবলীল ৭১ বেরোলেও, বাকি দুই ওপেনার রান না পাওয়ায় বিশেষ এগোতে পারল না তারা।

ইংল্যান্ডের পিচে পেস নয়, স্পিনের জালে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা জড়িয়ে যাচ্ছে এটা খুব একটা ভাবা যায় না। কিন্তু মঙ্গলবাসরীয় হেডিংলেতে সেটাই হল। আদিল রশিদ এবং মঈন আলির ঘূর্ণির সামনে বিপাকে পড়েন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা।

তবে শুধু স্পিনাররা নন, এ দিন শুরুতেই ইংল্যান্ডের পেসাররা দাপট দেখিয়েছিলেন। মার্ক উড এবং ডেভিড উইলির বোলিং জুটির সামনে কিছুতেই ছন্দ পাচ্ছিলেন না রোহিত। ষষ্ঠ ওভারেই প্যাভিলিয়নেই ফিরে যান তিনি। তার পর অবশ্য বিরাট এবং শিখর ধাওয়ানের মধ্যে ভালো জুটি তৈরি হয়। বিরাট এ দিন তাঁর চিরাচরিত ছন্দে ছিলেন। দু’জনের জুটির সামনে কিছুটা সমস্যায় পড়েন ইংল্যান্ডের বোলাররা। কিন্তু ধাওয়ান রান আউট হয়ে যাওয়ার পর কিছুটা ব্রেক লেগে যায় ভারতের রানের গতির সামনে।

এখানেই আসরে নামেন ইংল্যান্ডের স্পিনাররা। দুই স্পিনারের দাপটে খুব অল্প ব্যবধানের মধ্যেই ফিরে যান কার্তিক এবং রায়না। আরও একটা শতরানের দিকে এগোলেও রশিদের স্পিনের শিকার হন বিরাটও। এই পরিস্থিতিতে ভরসা ছিলেন ধোনি। তাঁর ব্যাট থেকে রান এলেও, এ দিনও ছিলেন মন্থর।

india vs england third odi

ধোনির মন্থর গতির ইনিংসের জন্য এ দিনও ভারতীয় সমর্থকরা যে অধৈর্য হয়ে পড়েছিলেন তা বলাই বাহুল্য। তবে ইংল্যান্ড যে গতিতে রান তুলেছে, তাতে ধোনি তাঁর নিজস্ব ঢঙে খেললেও ভারত ম্যাচ বার করতে পারত কি না সেই প্রশ্ন থেকে যায়। তবে ইনিংসের একদম শেষ দিকে শার্দূল ঠাকুরের ঝোড়ো ইনিংসটা না থাকলে ভারত কোনো ভাবেই আড়াইশো পেরোতে পারত না।

অগত্যা, প্রথম ম্যাচ জিতে উঠেও পরের দু’ম্যাচ হেরে যাওয়ায় সিরিজ হারল ভারত। ন’টা সিরিজ জিতে ২০১৬ থেকে ভারতের যে অশ্বমেধের ঘোড়া দৌড়োচ্ছিল, তার পা-টা যেন এ দিন হঠাৎ কাদায় আটকে গেল। তবুও সব কিছুর মধ্যেই যেমন ইতিবাচক ব্যাপার থাকে, এই সিরিজ হারেও রয়েছে। বিশ্বকাপের দশ মাস আগে বিশ্বকাপের দেশে হারল ভারত। সুতরাং এখন থেকে অনেক বেশি সতর্ক হবে বিরাটবাহিনী। এ বার অদলবদল কম করে স্থায়ী দল তৈরি করার দিকেই এগোবে ভারত।

তবে আপাতত আর বিশ্বকাপ নয়। নতুন উদ্যমে সামনের দিকে তাকাতে হবে। ১ আগস্ট থেকেই যে টেস্ট সিরিজ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here