কোহলির উইকেট নেওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের উল্লাস। ছবি: আইসিসি

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৮৩-৯ (হোপ ৯৫, নার্স ৪০, বুমরাহ ৪-৩৫)

ভারত: ২৪০ (বিরাট ১০৭, পন্থ ২৪, স্যামুয়েলস ৩-১২)

পুনে: না, বিরাট পারলেন না! পারবেনই বা কী করে? তিনিও তো মানুষ। একার হাতে নিজের দলকে কত টানবেন? বাকিদেরও তো দায়িত্ব নিতে হবে দলকে জেতানোর।

ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের কাছে ২৮৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা খুব একটা বড়ো কিছু নয়। কিন্তু শুরুতেই যদি রোহিত এবং তার কিছু পরেই যদি ধাওয়ান আউট হয়ে যান তা হলে ভারতের ক্ষেত্রে সেটা চাপেরই হয়ে যায়। বিরাটের ওপরে দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।

বিরাটই ভারতকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন, এ দিন সেখান থেকেই ইনিংস শুরু করেন তিনি। ‘ল অফ অ্যাভারেজ’ তার ক্ষেত্রে যে কাজ করে না, সে তো আগেই জানা হয়ে গিয়েছে। বিরাট ব্যাট করতে নামলেই, বড়ো রান আসবে, সেটাই এখন স্বাভাবিক ব্যাপার। এ দিনও সে রকমই শুরু হয়েছিল।

কিন্তু বিরাট এক দিকে থাকলেও, উলটো দিকে কেউ দাঁড়াতে পারেননি। রায়ুড়ু, পন্থ এ দিন ব্যর্থ। অন্য দিকে ব্যর্থ হওয়ার ধারা অব্যাহত রেখে দিয়েছিলেন ধোনি। এ দিন তাঁর কাছে সুযোগ ছিল বড়ো ইনিংস খেলে নির্বাচকদের জবাব দেওয়ার, কিন্তু হল না।

এ দিকে রবীন্দ্র জাদেজা না খেলায় পঞ্চম উইকেট থেকেই বোলারদের হাতে চলে যায় ভারতীয় ব্যাটিং। যে উইকেটে বিরাট ছাড়া বাকি সব ব্যাটসম্যান ব্যর্থ, সেই উইকেটে বোলাররাই বা কী করতে পারতেন। ৪৩ রানে ম্যাচ হেরে গেল ভারত।

এ দিকে প্রথম দু’টি একদিনের ম্যাচে ভালোই খেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় একদিনের ম্যাচেও সেটাই বহাল রাখল তারা। এবং আগের দু’টি ম্যাচের মতোই এ দিনই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টেনে নিয়ে গেল নীচের দিকের ব্যাটসম্যানরাই।

টপ অর্ডার এ দিনও ব্যর্থ ক্যারিবিয়ানদের। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেট থেকেই ঘুরে দাঁড়াল তারা। প্রথমে অধিনায়ক জেসন হোল্ডারকে সঙ্গে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন আগের দিনের হিরো শে হোপ। শতরানের দোরগোড়ায় পৌঁছে শতরান হাতছাড়া করেন তিনি। তবে হোপ-হোল্ডাররা আউট হওয়ার পরে ভারতের কাছে সুযোগ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৩০-এর মধ্যে আটকে দেওয়ার, কিন্তু হল না সেটা। আট উইকেটে ২২৭, এই অবস্থা থেকে পালটা আক্রমণ হানলেন অ্যাশলে নার্স এবং কেমার রোচ। দু’জনের মধ্যে তৈরি হল ৫৩ রানের জুটি। তাঁদের সামনে ভোঁতা হয়ে গেলেন ভুবনেশ্বর কুমার-জসপ্রীত বুমরাহরা।

নবম উইকেটে এই পার্টনারশিপটাই ভারতের হারের যে অন্যতম কারণ সেটা বলাই বাহুল্য। অপেক্ষাকৃত দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এই হার ভারতের কাছে অনেক শিক্ষা দিয়ে গেল। ভুলে গেলে চলবে না, এশিয়া কাপ জিতলেও সেই টুর্নামেন্টেও যথেষ্ট বিপাকে পড়েছিল ভারত। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ হয়েছিল টাই, তার পর ফাইনালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শেষ বলে এসেছিল জয়।

সুতরাং অবিলম্বে অবস্থা না শোধরালে বিশ্বকাপে কপালে দুঃখ থাকতে পারে ভারতের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here