অস্ট্রেলিয়া: ২৮৮-৫ (হ্যান্ড্‌সকম্ব ৭৩, খোয়াজা ৫৯, কুলদীপ ২-৫৪)

ভারত: ২৫৪-৯ (রোহিত ১৩৩, ধোনি ৫১, রিচার্ডসন ৪-২৬)

সিডনি: চল্লিশতম ওভারে শতরানের পর রোহিত শর্মার কোনো উদযাপন না করাই জানিয়ে দিল এই ম্যাচে বেশ চাপে রয়েছে ভারত। জেতার জন্য শেষ দশ ওভারে তখন করতে হবে ১১০ রান। সুতরাং কাজ এখন অনেক বাকি। রোহিতের অদম্য চেষ্টা সত্ত্বেও শেষরক্ষা হল না। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ম্যাচটা হেরেই গেল ভারত।

আসলে ভারতের জেতার চাবিকাঠি অস্ট্রেলিয়া ভেঙে দিয়েছিল ভারতের ইনিংসের প্রথম চার ওভারের মধ্যেই। শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি এবং অম্বতি রায়ুড়ুকে হারিয়ে ভারত তখন ধুঁকছে। অবস্থা এমন, যে ১০০-এর কমেও অল আউট হয়ে যেতে পারে ভারত। তবুও সেই অবস্থা থেকেও ভারত যে ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছল, তার একটা কৃতিত্ব যদি রোহিতের প্রাপ্য হয়, অন্যটা প্রাপ্য মহেন্দ্র সিংহ ধোনির।

দীর্ঘদিন পর শনিবারই ব্যাট থেকে বড়ো রান এল ধোনির। অর্ধশতরান করলেন তিনি। স্ট্রাইক রেট যদিও মোটেও ধোনিসুলভ ছিল না, তবুও ধীরে ধীরে রানের গতি বাড়াচ্ছিলেন তিনি। অসময়ে আউট না হয়ে গেলে হয়তো আরও বড়ো রানের দিকে এগোতে পারতেন। এ দিন একটা রেকর্ড করেন ধোনি। ভারতের হয়ে এক দিনের ক্রিকেটে এক হাজার রান হল তাঁর। তবে বছরের প্রথম এক দিনের ম্যাচেই ধোনি যে বড়ো রান পেলেন, সেটা ভারতের কাছে নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর।

ধোনি ফিরে যাওয়ার পরেও, একটা দিক ধরেই রেখে দিয়েছিলেন রোহিত। যতক্ষণ তিনি ক্রিজে ছিলেন, আস্কিং রেট বাড়লেও, ভারতের ভরসা ছিল। একার হাতেই অদম্য চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন তিনি। চার-ছয়ের সাহায্যে বোঝাতে চাইছিলেন, তিনি যতক্ষণ আছেন, ভারতের আশা তখনও আছে। কিন্তু ৪৬তম ওভারে তিনি ফিরতেই সব শেষ। বাকিটা ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা।

আরও পড়ুন হার্দিক-রাহুলকে চরম বার্তা দিলেন হরভজন

একটা সময়ে ছিল যখন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারত জিতলে সেটাকে অঘটন বলা হত। এখন পরিস্থিতি অন্য। উলটোটা  হলে তাকে অঘটন বলা যেতে পারে। সেই অঘটনই করে ফেলল অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট সিরিজে তা-ও হ্যাজেলউড-স্টার্ক-কামিন্সের মতো বিশ্বখ্যাত বোলার ছিলেন, এই দলের বোলিং লাইনআপটাই তো অনভিজ্ঞ। তাঁরা যে ভাবে ভারতকে রুখে দিলেন, তাঁর জন্য বাড়তি কৃতিত্ব দিতেই হয়।

ভালো পারফর্ম করেছেন অজি ব্যাটসম্যানরাও। প্রথমে ব্যাট করে চটজলদি দুই ওপেনারকে হারালেও কোনো ভাবেই ম্যাচ থেকে বেরিয়ে যায়নি অস্ট্রেলিয়া। বরং উসমান খোয়াজা, শন মার্শ, পিটার হ্যান্ড্‌সকম্ব এবং মার্কাস স্টয়নিসের দাপটে তিনশোর কাছাকাছি রান করে ফেলে তারা। শুরুর দিকে বড়ো রানের ভিতটা তৈরি করে দিয়েছিলেন খোয়াজা এবং মার্শ। তার ওপরেই দাপটে খেলে বড়ো রান করলেন হ্যান্ড্‌সকম্ব।

ভারতের বোলিং এ দিন আহামরি কিছুই হয়নি। কোনো উইকেট না পেলেও, সেরা বোলার ছিলেন মহম্মদ শামি। ১০ ওভারে মাত্র ৪৬ রান দিয়েছিলেন তিনি। অন্য দিকে দু’টি উইকেট পেলেও দশ করে ৬৬ রান দিয়েছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার।

তিন ম্যাচের সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় খুব কম। মঙ্গলবার যে ভাবেই হোক ভারতকে জিততেই হবে। না হলে, ইংল্যান্ড সিরিজের পর ফের বিদেশে একদিনের সিরিজ হারবে ভারত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here