ইংল্যান্ডের জয়ের মুহূর্ত। ছবি সোনিলিভ.কম।

ইংল্যান্ড: ২৮৭ এবং ১৮০

ভারত: ২৭৪ এবং ১৬২ (বিরাট ৫১, স্টোক্স ৪-৪০)

বার্মিংহাম: মোটামুটি সব কিছুই ঠিকঠাক চলছিল। দীনেশ কার্তিকের উইকেট হারালেও ক্রিজে জমে গিয়েছিলেন হার্দিক পাণ্ড্য। অন্য দিকে যখন বিরাট আছেন, তখন আর চিন্তা কী! কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ভারত। কিন্তু বেন স্টোক্সের একটা ওভারই যেন সব কিছু ওলটপালট করে দিয়ে গেল।

স্টোক্সের বলে বিরাট ফিরতেই ভারতের ভাগ্য মোটামুটি নির্ধারিত হয়ে গেল। বাকিটা ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। আসলে ভারতের এই ব্যাটিং লাইনআপে আশা-ভরসা একমাত্র বিরাট কোহলিই। তাঁকে কেন্দ্র করেই সব কিছু। নেহাত তিনি ব্যর্থ হননি। কিন্তু ভেবে দেখুন, দু’টো ইনিংসেই বিরাটের ব্যাট না চললে ভারতের জন্য কত লজ্জা অপেক্ষা করে থাকত।

আরও পড়ুন ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট দেখলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কিম জং উন?

একটা পরিসংখ্যান দেওয়া যাক। ভারত এই টেস্টে দু’ইনিংস মিলিয়ে করেছে ৪৩৬, এর মধ্যে বিরাটের ব্যাট থেকেই এসেছে ২০০, অর্থাৎ ৪৬ শতাংশ। কিন্তু রোজ রোজ বিরাটের ব্যাট যে চলবে এটা তো হতে পারে না। ‘ল অফ অ্যাভারেজ’ বলেও তো একটা ব্যাপার আছে!

অন্য দিকে হার্দিক পাণ্ড্যও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন এই দিন ব্যাট করার সময়। বারবার ইশান্তকে স্ট্রাইক দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। যদিও ভাগ্য সহায় থাকায় ইশান্ত টিকে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর দায়িত্ব তো ব্যাটিং-এর থেকে বেশি বোলিং।

আরও পড়ুন একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম জয় পেয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করল এই দেশ

যাই হোক, বাকি দলের কথায় আসা যাক। টেস্টটা যে ভারত হারল তার একমাত্র কারণ হতে পারে ব্যাটিং ব্যর্থতা। এই টেস্টে বিরাট ছাড়া কাউকেই দেখে মনে হয়নি ইংল্যান্ডের বোলারদের সামলাতে পারেন। কিছুটা অবশ্য প্রথম ইনিংসে মুরলী বিজয় এবং শিখর ধাওয়ান ভালো ব্যাট করেছেন, কিন্তু বাকি ছবিটা খুব খারাপ। বোলিং আক্রমণ নিয়ে বিশেষ করে কিছু বলার নেই যদিও। সব বোলাররই দুর্দান্ত বল করেছেন, বিশেষ করে ইশান্ত এবং অশ্বিন। বোলারদের এই পারফরম্যান্সের যোগ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হলেন ব্যাটসম্যানরা।

পাঁচ টেস্টের সিরিজে প্রথমটা হারার পরেই গেল গেল রব তোলার কিছু হয়নি যদিও, কিন্তু ব্যাটিং যদি উন্নত না হয়, এই সিরিজে ভারতের কপালে কিন্তু আরও দুর্ভাগ্য অপেক্ষা করছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় টেস্ট।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন