india vs new zeland

ভারত ২৮০-৮ (বিরাট ১২৫, কার্তিক ৩৭, বোল্ট ৪-৩৪)

নিউজিল্যান্ড ২৮৪-৪ (ল্যাথাম ১০৩ অপরাজিত, টেলর ৯৫, পাণ্ড্য ১-৪৬)

মুম্বই: অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিই কাল হল। অস্ট্রেলিয়াকে আগের সিরিজে হারিয়ে এসেই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই আকস্মিক হার ভারতের। পরিস্থিতি এমন জায়গায় যে পরের ম্যাচে প্রত্যাবর্তন না করতে পারলে সিরিজই খুইয়ে ফেলবে ভারত।

রবিবার দুপুরটা যদি বিরাট কোহলির হয়, তা হলে রাতটা থাকল টম ল্যাথামের। রবিবার দুপুরে যখন রিকি পন্টিংকে টপকে একদিনের ক্রিকেটে শতরানের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠলেন কোহলি তখনও জানতেন না মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই যাবতীয় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসবেন ল্যাথাম। রস টেলরকে সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় স্পিনারদের ওপরে রাজ করে গেলেন ল্যাথাম।

রবিবার ম্যাচের শুরুটা মোটেও সুখকর হয়নি ভারতের জন্য। টসে জিতে ব্যাটিং-এর সিদ্ধান্ত নিলেও, ট্রেন্ট বোল্টের গতির সামনে দ্রুত নিজেদের দুই ওপেনারকে হারায় ভারত।

তবে কোহলি থাকতে কার কী সমস্যা! সব ঝাপটা তিনি একাই সামলে নেবেন। তাই চার নম্বর কেদার যাদবকে আগলে রেখেই রানের গতি বাড়িয়ে দেন বিরাট। কেদার ফিরে গেলে ক্রিজে আসেন দীনেশ কার্তিক। শেষ বার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর চলাকালীন ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। এ দিন অবশ্য ভালো ফর্মের ঝলক দেখান কার্তিক।

কার্তিক ছাড়া ভারতীয় ইনিংসে ছোটোখাটো অবদান রেখে যান ধোনি এবং হার্দিক পাণ্ড্যও। তবে যাবতীয় আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলেন কোহলিই। যে মাঠে নিজের দু’শোতম টেস্ট ম্যাচ খেলে অবসর গ্রহণ করেছিলেন সচিন, সেই মাঠেই নিজের দু’শোতম একদিনের ম্যাচে নেমে শতরানের সংখ্যায় পৌঁছে গেলেন সচিনের আরও কাছে। ন’টা চার এবং দু’টো ছক্কায় সাজানো ছিল কোহলির ১২৫ বলে ইনিংসটি।

ভারতের রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুবই ভালো করেছিল কিউয়িরা। ভুবনেশ্বর এবং জসপ্রীত বুমরাহর বোলিং জুটি চাপে ফেলতে পারেনি দুই কিউয়ি ওপেনার গাপ্টিল এবং মুনরোকে। দশম ওভারে প্রথম উইকেটের মুখ দেখে ভারত। স্কোরবোর্ডে তখন ৪৮ উঠেছে। এর সাত ওভারের মধ্যেই আরও দু’টো উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড।

৮০ রানের মাথায় তিন উইকেট হারিয়ে তখন বেশ চাপে কিউয়িরা। কিন্তু সেই চাপ থেকে ক্রমে নিউজিল্যান্ডকে বের করে নিয়ে আসে লাথাম এবং টেলর জুটি। আস্কিং রেট বেশি থাকলেও, ক্রিজে জমে যান লাথাম এবং টেলর।

ল্যাথাম-টেলরের জুটিতে ক্রমে ম্যাচ থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করে ভারত। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফর্ম করা স্পিন জুটি কুলদীপ যাদব এবং যজুবেন্দ্র চহ্বলও বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেননি। এর পাশাপাশি মুম্বইয়ের আবহাওয়াও ব্যাটসম্যানদের কিছুটা সুবিধা করে দেয়। রাতের শিশিরে বোলাররা বল গ্রিপ করতে না পারায় বাড়তি সুবিধা পান ল্যাথাম-টেলর জুটি।

আটটা চার এবং দুটো ছয়ের সাহায্যে শতরানের গণ্ডি পেরিয়ে অপরাজিত থাকেন ল্যাথাম। মাত্র পাঁচ রানের জন্য শতরান ফস্কান টেলর। ৪৯ তম ওভারের শেষ বলে জয়ের টার্গেটে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here