বিরাট-কাব্যিক ইনিংসের পর প্রোটিয়াদের ভিত নাড়িয়ে দিলেন উমেশ-শামি

0

ভারত: ৬০১-৫ ডিঃ (বিরাট ২৫৪ অপরাজিত, ময়াঙ্ক ১০৮, রাবাদা ৩-৯৩)

সাউথ আফ্রিকা: ৩৬-৩ (ডি ব্রুইন ২০ অপরাজিত, বাভুমা ৮, উমেশ ২-১৬)

পুনে: এই পিচে সাত ব্যাটসম্যান খেলানোকে ‘বিলাসিতা’ বলে অভিহিত করেছিলেন অধিনায়ক বিরাট। সেই কারণে হনুমা বিহারীকে সরিয়ে উমেশ যাদবকে দলে নেওয়া হয়। শেষবেলায় প্রটিয়াদের ভিত নাড়িয়ে দেন সেই উমেশই।

ভারতের পাহাড়প্রমাণ রান তাড়া করতে নেমে সাউথ আফ্রিকার দরকার ছিল দুর্দান্ত একটা সূচনার। কিন্তু সেটা হতেই দিলেন না উমেশ যাদব। ফিরিয়ে দিলেন দুই ওপেনারকে।

কিছুক্ষণের মধ্যে ঋদ্ধিমানের সৌজন্যে শামিও একটা উইকেট পেয়ে গেলেন। সব মিলিয়ে এই টেস্ট সিরিজে ভারতের পক্ষে আরও একটা দিন গেল।

তবে শেষের ঘণ্টাখানেক বোলারদের দাপট নজর পড়লেও, তার আগে কার্যত গোটা দিনটা একজনই স্মরণীয় করে রাখলেন। তিনি বিরাট কোহলি।

বিরাট যে ধরনের ফর্মে থাকেন, সেই অনুযায়ী শতরানের খরার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। শেষ বার টেস্ট শতরান তিনি করেছিলেন, গত বছর অস্ট্রেলিয়া সফরে পার্‌থ টেস্টে। তার পর দশটা ইনিংসের পর শতরান এল তাঁর।

আর শতরান যখন এলই, তখন যাবতীয় রেকর্ড ভাঙতে ভাঙতে আড়াইশো পেরিয়ে গেলেন তিনি। কেরিয়ারের সপ্তম দ্বিশতরান তো তিনি করলেনই, সেই সঙ্গে ভারতীয় হিসেবে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের তালিকায় বীরেন্দ্র সহবাগের সঙ্গে যুগ্ম ভাবে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করলেন তিনি।

বিরাট যখন এই মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে চলেছেন তখন উলটো দিকে থাকা রবীন্দ্র জাদেজারই অবদানই বা কম কী!

আরও পড়ুন ২৬তম শতরানের মধ্যে দিয়ে গাওস্করকে পেরোলেন কোহলি, ছুঁলেন পন্টিংকে

বিহারী না থাকায় এই টেস্টে ছ’নম্বরে ব্যাট করতে নামেন তিনি। আর শুরুতে কয়েকটা বল দেখে খেলার পর টি২০ মোডে চলে যান জাদেজা। চা-বিরতির পর রানের গতি এমন বেড়ে যায় যে মাত্র ১২ ওভারে একশো রান ওঠে।

প্রথম দিনে তাও পিচ থেকে কিছুটা সাহায্য পেয়েছিলেন সাউথ আফ্রিকার বোলাররা। কিন্তু এ দিন পিচ পুরোপুরি ব্যাটিংয়ের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়।

সাউথ আফ্রিকার বোলারদের দিনভর ঘাম ছুটিয়ে শেষের এক ঘণ্টা ব্যাট করার আহ্বান জানান কোহলি। আর ক্লান্ত হয়ে যাওয়া প্রোটিয়া শিবিরে থরহরিকম্প ধরিয়ে দেন উমেশ।

এরই মধ্যে ছোট্ট একটা অবদান রেখে যান ঋদ্ধিমান সাহাও। বাভুমার আউটের সময়ে রিভিউ নেওয়ার জারিজুরি করেছিলেন ঋদ্ধিই, আর সেটাই খেটে যায়। সব মিলিয়ে আগের টেস্টের মতো তৃতীয় দিনে যদি দু’প্লেসিরা ব্যাটে দুর্দান্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, তা হলে আরও শোচনীয় হারই তাঁদের কপালে নাচছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here