বিরাটেই ভরসা ভারতের। ছবি: বিসিসিআই টুইটার

ইংল্যান্ড: ২৮৭ এবং ১৮০ (কুর‍্যান ৬৩, ইশান্ত ৫-৫১)

ভারত: ২৭৪ এবং ১১০-৫ (বিরাট ৪৩ অপরাজিত, ব্রড ২-২৯)

বার্মিংহাম: টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ ইনিংসে টার্গেট তাড়া করা সব সময় চাপের ব্যাপার। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, তিনশো রান তাড়া করতে গিয়ে কোনো দল বিশেষ চাপে পড়ে না, যতটা চাপ আসে দুশোর কম রান তাড়া করতে গিয়ে। এমনটাই হল এই টেস্টেও। ১৯৪ রান তাড়া করতে নেমে বেশ চাপে পড়েছে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ।

সেই চাপ কাটিয়ে ভারতকে জয়ের আশা যিনি দেখাচ্ছেন তিনি সেই বিরাট কোহলিই। দীনেশ কার্তিকের সঙ্গে শেষ বেলার জুটিটা বেশ ভালোই তৈরি হয়েছে তাঁর। ভারতবাসীর স্বপ্ন, এই দু’জনই শনিবার ভারতকে কাঙ্খিত জয় এনে দিক এই টেস্টে।

প্রথমে অশ্বিন এবং পরে ইশান্ত মিলে যেটা শুরু করেছিলেন, সেটা বহাল থাকলে ইংল্যান্ড কোনো ভাবেই ১৮০-তে পৌঁছোত না। দেড়শোর অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত। তা হলে ভারতের টার্গেটটা আরও কম হত।

দ্বিতীয় দিনের শেষেই কুককে তুলে নিয়ে ইংল্যান্ড শিবিরে ধাক্কা দিয়েছিলেন অশ্বিন। সেই ধারা বজায় রেখেই এ দিন খেলা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই জেনিংস এবং রুটকে তুলে নেন তিনি। অশ্বিনের দাপট দেখে এক এক সময় তো মনে হচ্ছিল উপমহাদেশের কোনো উইকেটে খেলা হচ্ছে। কিন্তু টানা স্পেলের ক্লান্তি যখন অশ্বিনের ওপরে চেপে বসতে শুরু করে ঠিক তখনই দায়িত্ব নিয়ে দেন ইশান্ত।

চার বছর আগে লর্ডসের সেই ভয়ংকর স্পেলের কথা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন ইশান্ত। তাঁকে সামলাতে জবুথবু অবস্থা হয়ে যায় ইংল্যান্ডের। নিমেষের মধ্যে তিন উইকেট থেকে সাত উইকেট হয়ে যায় ইংল্যান্ডের। একশোর আগেই সাত উইকেট পড়ে যাওয়ায় যখন মনে হচ্ছিল এই বুঝি ইংল্যান্ড শেষ হয়ে গেল, ঠিক তখনই খেলা ধরে নেন আগের দিন বল হাতে হিরো বনে যাওয়া স্যাম কুর‍্যান। প্রথমে রশিদ এবং পরে ব্রড আর অ্যান্ডারসনকে নিয়ে পালটা লড়াই দেন কুর‍্যান। পূর্ণ করেন তাঁর অর্ধশতরান।

তখন আগুন ঝরাচ্ছেন ইশান্ত। ছবি: বিসিসিআই টুইটার

এ দিকে পাঁচ উইকেট নিয়ে ইশান্ত ফের একবার প্রমাণ করলেন তাঁর মধ্যে এখনও মশলা রয়েছে।

১৯৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে কেমন যেন সব কিছু ওলটপালট হয়ে গেল। আগের ইনিংসে তাও প্রথম উইকেটে ৫০ উঠেছিল, এ বার তো কুড়িও পেরোল না। তার আগেই আউট বিজয়। ধাওয়ান এবং রাহুলও ফিরলেন পর পর। যত দিন যাচ্ছে রাহানে যেন বোঝা হয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার তাঁর কাছে সুযোগ ছিল, প্রবল চাপে কিছু করে দেখানোর। কিন্তু তিনি ব্যর্থ।

কিছুক্ষণ পর ফিরলেন অশ্বিন। স্কোরবোর্ডের তখন ৮০ ওঠেনি। এই আবহে প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হওয়া কার্তিকের ওপরে আর কতটাই বা ভরসা করা যায়! কিন্তু দিনের শেষে ঝাপটা খুব ভালো ভাবেই সামলে দিয়েছেন তিনি। এখন তাকাতে হবে শনিবারের দিকেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন