শতরানের পরে রোহিতকে আলিঙ্গন রায়ুড়ুর। ছবি: বিসিসিআই

ভারত: ৩৭৭-৫ (রোহিত ১৬২, রায়ুডু ১০০, রোচ ২-৭৪)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৫৩ (হোল্ডার ৫৪ অপরাজিত, পল ১৯, আহমেদ ৩-১৩)

মুম্বই: প্রথম তিনটে ম্যাচে যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দেখা গিয়েছিল চতুর্থ ম্যাচে সেই সেই দলকে দেখাই গেল না। ভারতীয় বোলারদের সামনে কোনো রকম প্রতিরোধ চোখে পড়ল না। পুরোপুরি নেতিয়ে পড়ল তারা।

অবশ্য এ ভাবে নেতিয়ে পড়ার কারণও ছিল। ম্যাচের প্রথম সাড়ে তিন ঘণ্টা যে জিনিসটাকে সহ্য করতে হয়েছে, তার পর আর কোনো রকম প্রতিরোধ দেওয়ার উপায়ই ছিল না তাদের। রোহিত শর্মা আর অম্বাতি রায়ুডুর হাতে বেদম মার খেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা।

মুম্বইয়ে খেলা হলে সাধারণত ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামেই খেলা হয়, কিন্তু এ দিন খেলা হল ব্রেবোর্ন স্টেডিয়ামে। ব্রেবোর্ন, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতে গৌরবময় কিছু ইতিহাসও। এই মাঠেই ২০০৯-এ টেস্ট র‍্যাঙ্কিং-এ শীর্ষ স্থানে উঠেছিল ভারত। সেই ব্রেবোর্নেই ভারতীয় ব্যাটিং-এর জন্য স্বস্তিদায়ক কিছু ঘটনাও ঘটে গেল।

রোহিত শর্মা শতরান করলেন, সেটা পেরিয়ে দেড়শো করলেন, ছক্কা মারার রেকর্ড করলেন। এ তো তিনি ইদানীং আকছার এই সব করছেন। কিন্তু স্বস্তি দেওয়ার ঘটনা যিনি ঘটালেন, তিনি অম্বাতি রায়ুড়ু।

গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় থেকেই দুই ওপেনার এবং তিন নম্বরে নামা বিরাট কোহলি ছাড়া কারও শতরান ছিল না। এই অবস্থায় চার নম্বর জায়গাটি নিয়েও একাধিক পরীক্ষানিরীক্ষা হয়েছে। রাহানে, রাহুল, রায়না, দীনেশ কার্তিক, শ্রেয়স আইয়ার – অনেককে দেখার পর অবশেষে রায়ুড়ুর ওপরেই আস্থা দেখিয়েছেন টিম। সেই আস্থা দেখিয়ে যে ভুল কিছু হয়নি এ দিন সেটাই প্রমাণ করে দিলেন রায়ুড়ু। এই সিরিজে ভালোই রান পাচ্ছেন তিনি। দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে ৮০-এর ওপরে রান ছিল তাঁর। এ দিন তাঁরও এক কাঠি ওপরে শতরান করে ফেললেন তিনি। চার নম্বর জায়গাটায় আপাতত নিজের নামেই পাকা করে দিলেন। বিশ্বকাপ পর্যন্ত যে হেতু ভারতের আর বেশি একদিনের ম্যাচ নেই, তাই ইংল্যান্ডে তিনি যে ব্যাট হাতে নামছেনই সেটা প্রমাণিত হয়ে গেল।

স্বস্তি দিল আরও একটা জিনিস। বিরাট কোহলি রান না পেলেও ভারত যে চারশোর কাছাকাছি রান তুলতে সক্ষম সেটা জানা গেল। আসলে এ দিন বিরাটের আউট হওয়া পর্যন্তই ম্যাচে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিখুঁত লাইন অ্যান্ড লেন্থে বল করছিলেন দলের বোলাররা। বিরাট আউট হওয়ার পর মনে হচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ পালটা লড়াই দিতে পারে, কিন্তু ঘটে গেল ঠিক উলটো ঘটনা। ক্রমশ আগ্রাসী রূপ ধারণ করলেন রোহিত এবং তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিলেন রায়ুড়ু।

আরও পড়ুন সচিনকে পেরোলেন, আর কী রেকর্ড করলেন রোহিত শর্মা?

শতরান পেরিয়ে গেলেই আরও বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠেন রোহিত। এ দিনও সে রকমই কিছু হল। যখন মনে হচ্ছিল এ দিনও দ্বিশতরান করে ফেলবেন রোহিত, তখনই ছন্দপতন। নার্সের বলে আউট হয়ে গেলেন তিনি। তবে সেই সঙ্গে যে রেকর্ডটা তিনি করলেন, সেটা অনবদ্য। ২০১৩ থেকে প্রতি বছর একদিনের ক্রিকেটে ভারতের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলার রেকর্ড।

অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকা হলে ম্যাচটা তাও জমতে পারত। কিন্তু এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সেটা কখনোই সম্ভব ছিল না। প্রথম তিন জনের মধ্যে দু’জনই যদি রান আউট হয়ে যান আর তার মধ্যে একজন যদি আগের দুই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী শে হোপ হন, তা হলে জয়ের সম্ভাবনা আরও বেশি করেই জলেই যাবে। সেটাই হল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভঙ্গুর ব্যাটিং লাইনআপকে পেয়ে ছেলেখেলা করে গেল ভারত। একমাত্র জেসন হোল্ডার ছাড়া কেউই দাঁড়াতে পারলেন না। আর এই সুযোগে নজর কাড়লেন খালিল আহমেদ। বিশ্বকাপের দলে তাঁর নামও প্রায় পাকা হয়ে গেল বলে দেওয়া যায়।

সব মিলিয়ে এটা বলা যায় যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯ রানে হারিয়ে দিয়ে গেলেন রোহিত শর্মা। সিরিজ অমীমাংসিত রেখে দেওয়ার সুযোগ এখনও ক্যারিবিয়ানদের কাছে রয়েছে। তবে চতুর্থ ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স দেখে বোঝা যাচ্ছে, পঞ্চমটাও জিততে চলেছে ভারত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here