শতরানের পর মহম্মদ শেহজাদ। ছবি: আইসিসি

আফগানিস্তান: ২৫২-৮ (শেহজাদ ১২৪, নবি ৬৪, জাদেজা ৩-৪৬)

ভারত: ২৫২ (রাহুল ৬০, রায়ুড়ু ৫৭, নবি ২-৪০)

দুবাই: অনেকেই মনে করছিলেন এ বারের এশিয়া কাপে বড্ড একপেশে ম্যাচ হচ্ছে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের বড্ড অভাব। মঙ্গলবার সেটাই হল। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ভারতকে আটকে দিল আফগান শিবির। সেই সঙ্গে প্রমাণ করে এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেরা দল তারাই।

মঙ্গলবারের এই ম্যাচের একজনই হিরো। আফগানিস্তানের ‘ইনজামাম’ মহম্মদ শেহজাদ। তার আগে অবশ্য ছোট্ট একটা চমক দেয় ভারত। রোহিত শর্মা বিশ্রাম নেওয়ায় এ দিন অধিনায়কত্ব করতে নামেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। এবং কী আশ্চর্য! দুশোতম একদিনের ম্যাচের অধিনায়কত্ব করলেন তিনি।  পাশাপাশি আগের ম্যাচের পাঁচ জনকে বিশ্রাম দিয়ে তুলনায় ‘দুর্বল’ দল নামায় ভারত।

যা-ই হোক, এ দিন শুরু থেকেই ভয়ডরহীন ভাবে শুরু করেছিলেন শেহজাদ। তাঁর সামনে যে ভারতের মতো ক্রিকেটের মহাশক্তিধর একটা দেশ নেমেছে দেখে মনেই হয়নি। ভারতীয় বোলাররা বল ফেলছেন, উড়ে যাচ্ছে মাঠের বাইরে। গত কয়েক ম্যাচে জাদেজা-কুলদীপদের মতো বাঘা বাঘা স্পিনারদের সামনে কুঁচকে গিয়েছে বিপক্ষের ব্যাটিং, কিন্তু সেই সবের তোয়াক্কাই করেননি শেহজাদ। শুরুর দিকে তিনি কতটা আধিপত্য দেখিয়েছেন, সেটা একটা তথ্য দিলেই বোঝা যাবে। শেহজাদ যখন শতরান পূর্ণ করেন তখন দলের স্কোর মাত্র ১৩১, প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন চার জন।

আফগানিস্তানের হয়ে একদিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের মালিক তিনি। এর আগে পর্যন্ত রয়েছে চারটি শতরান। কিন্তু এ দিনের শতরানটা শেহজাদের কাছে স্পেশাল। কারণ এটা যে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে করলেন।

দুর্বল বিপক্ষের যা একটা সমস্যা থাকে এখানে সেটা হতেও পারত, কিন্তু হল না মহম্মদ নবির জন্য। শেহজাদ আউট হয়ে যাওয়ার পর নবি যদি খেলাটা না ধরতেন তা হলে হয়তো দু’শোর মধ্যে শেষ হয়ে যেত আফগানিস্তান। হল না, কারণ নবি হতে দিলেন না। তাঁর দুর্দান্ত অর্ধশতরানের সৌজন্যে আড়াইশো রান পেরিয়ে গেল আফগানিস্তান।

ভারতের ওপেনিং ব্যাটসম্যানরা পালটে গেলেও ওপেনিং জুটিতে পাকিস্তান ম্যাচের রেশ থেকে গিয়েছিল। ধাওয়ান এবং রোহিতের মতোই এ দিন ঝোড়ো শুরু করেন কেএল রাহুল এবং অম্বাতি রায়ুড়ু। দু’জনেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, একদিনের দলে নিয়মিত হওয়া এখন তাঁদের অধিকার। দ্রুত একশো রান পেরিয়ে যায় এই জুটি। কিন্তু যখন মনে হচ্ছিল, একার হাতেই এই দু’জন ম্যাচ বের করে নেবেন, তখনই জুটি ভাঙেন মহম্মদ নবি।

এর পরে একমাত্র দীনেশ কার্তিক ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই দাঁড়াতে পারেননি। উল্লেখ করতে হয় মনীশ পাণ্ডের নাম। দীর্ঘদিন পরে একদিনের দলে ঢুকে তাঁর কাছে সুযোগ ছিল কিছু করে দেখানোর, কিন্তু সেই সুযোগ হেলায় হারিয়েছেন তিনি।

এই ম্যাচ প্রশ্ন তুলে দিল, তা হলে কি অতিরক্ত আত্মবিশ্বাসেই ডুবল ভারত? প্রশ্ন তুলল রোহিত, ধাওয়ান এবং বিরাট ছাড়া একদিনের দলে ভারতের কোনো ভালো ক্রিকেটারই নেই? ফাইনালের আগে এই অপ্রত্যাশিত হার ভারতের মনোবলে আঘাত দেয় কি না, সেটাও দেখতে হবে।

ম্যাচ শুরুর আগে ধারাভাষ্যকার হরভজন সিংহ বলছিলেন, ফলে বোঝা না গেলেও এই টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সেরা দল আফগানিস্তান। হরভজন যে ভুল কিছু বলেননি, এ দিন তাদের পারফরমান্সে প্রমাণিত। শুধু তাদের ভাগ্য যদি ভালো হত, তা হলে শুক্রবার ফাইনালে এটারই ‘রি-ম্যাচ’ হত।