alastair cook
শতরানের পরে কুক। ছবি: টুইটার (আইসিসি)

ইংল্যান্ড: ৩৩২ এবং ৪২৩-৮ (কুক ১৪৭, রুট ১২৫, বিহারী ৩-৩৭)

ভারত: ২৯২ এবং ৫৮-৩ (রাহুল ৪৬ অপরাজিত, অ্যান্ডারসন ২-২৩)

লন্ডন: এগারো বছর আগে যে ওভাল ভারতের ক্রিকেটে অন্যতম গর্বের মুহূর্ত এনে দিয়েছিল, সেই ওভালেই ভয়ংকর লজ্জার মুখে পড়তে চলেছে বিরাটবাহিনী। অবশ্য এ বারই প্রথম নয়। ২০০৭-এর সেই ওভালের পরের দু’বারও একই রকম ভাবে লজ্জার মুখে পড়েছিল ভারত। বিশেষ কোনো অঘটন না ঘটলে মঙ্গলবারও সে রকমই কিছু মুহূর্ত অপেক্ষা করে রয়েছে।

একটু খুলে বলা যাক। ২০০৭-এ এই ওভালেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ড্র করে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ভারত। সে বারই শেষ। তার পর ২০১১ এবং ২০১৪, দু’বার এই ওভালেই যথাক্রমে ০-৪ এবং ১-৩ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল ভারত। এ বার সম্ভবত ১-৪ হতে চলেছে।

অবশ্য একটা সময়ে এমনও মনে হচ্ছিল যে মঙ্গলবার পর্যন্ত খেলা হয়তো নাও গড়াতে পারে। শিখর ধাওয়ান তো বুঝিয়েই দিয়েছেন ইংল্যান্ডের মাঠে কোনো ভাবেই রান পাবেন না তিনি। কিন্তু পুজারাও এ দিন খাতা খুলতে পারলেন না। পরের ওভারেই প্যাভিলিয়নের পথ দেখলেন বিরাট। ভারতের স্কোর তখন তিন উইকেটে ২। এই অবস্থা হওয়ার পরেও পরের পনেরো ওভার ভারতের যা আর উইকেট পড়ল না সেটাই ভাগ্য।

তৃতীয় টেস্টে একটা ‘চেন রিঅ্যাকশন’ পদ্ধতি বলা হয়েছিল পাঠকের হয়তো খেয়াল রয়েছে। ব্যাটিং ভালো হলে, বোলিং ভালো হবে। বোলিং ভালো হলে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং আরও ভালো হবে। পঞ্চম টেস্টে তার উলটোটাই ঘটে গেল। দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং এতটাই ব্যর্থ হল যে তার প্রভাব পড়ল ব্যাটিং-এ।

আরও পড়ুন ২৯ রানের আপশোশ মিটিয়ে অনন্য এলিট ক্লাবে ঢুকে গেলেন কুক

এ দিন খেলা শুরু হওয়ার সময়ে পরিস্থিতি যে রকম ছিল তাতে বোলাররা যদি একটু ভালো করতেন তা হলে ইংল্যান্ডকে কম রানে আটকে দেওয়া যেতে পারত হয়তো। কিন্তু হল না তার দু’টো কারণ। এক, ইশান্ত শর্মার চোট পেয়ে যাওয়া, আর দুই অ্যালেস্টার কুকের শেষ ইনিংস যে!

ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে তিনি এত কিছু দিয়েছেন, সেই কুকের শেষ ইনিংসে স্বয়ং ক্রিকেটদেবতা তাঁর মাথার ওপরে ভর করেছিলেন। নইলে যে কুককে গোটা সিরিজে একবারের জন্যও সাবলীল মনে হয়নি, তিনি কি না সোমবার খেলে গেলেন এক স্মরণীয় ইনিংস। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে শতরান করলেন জো রুটও। বহু দিন পর টেস্ট ক্রিকেটে রুটের শতরান হল।

কুক এবং রুটের ২৫০ রানের জুটি যখন হনুমা বিহারীর হাতে ভাঙল, ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। রুট আউট হওয়ার পরের বলেই ফিরলেন কুক। শেষ বার ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে ব্যাট হাতে মাঠ ছাড়ার সময়ে গোটা মাঠ তাঁকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাল। এর পরে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল গতিতে রান করা। সেটা খুব ভালো ভাবে করে ফেললেন বাকি ব্যাটসম্যানরা।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন