india vs hongkong
শতরানের পর ধাওয়ান। ছবি: আইসিসি

ভারত: ২৮৫-৭ (ধাওয়ান ১২৭, রায়ুড়ু ৬০, কিঞ্চিৎ শাহ ৩-৩৯)

হংকং: ২৫৯-৮ (নিজাকত ৯২, রথ ৭৩, খলিল আহমেদ ৩-৪৭)

দুবাই: আর একটু হলেই শতাব্দীর সেরা অঘটনটা হয়ে যাচ্ছিল। ভারতকে কি না হারিয়ে দিতে বসেছিল হংকং। হল না, তার কারণ একটাই। অভিজ্ঞতার অভাব। দুই ওপেনার মিলে হংকংকে যে ভিত তৈরি করে দিয়েছিলেন সেটা কাজে লাগাতে পারলেন না বাকিরা। অন্য দিকে ভারতীয় বোলাররা, মাত্র একটা সুযোগ পেয়েই সদ্ব্যবহার করলেন। ভারত জিতল, কিন্তু এই জয় তাদের স্বস্তি দিল না।

হংকং-এর দলটার মধ্যমণি ভারত এবং পাকিস্তানজাত ক্রিকেটাররা। এ হেন ভারত-পাক জুটি অংশুমান রথ এবং নিজাকত খানের দাপটের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল ভারতীয় বোলিং আক্রমণ। কুলদীপ যাদব, অংশুমানকে না ফেরালে রবি শাস্ত্রী অ্যান্ড কোং-এর কপালে যে মঙ্গলবার কত দুঃখ অপেক্ষা করেছিল জন্য তা সহজেই অনুমেয়।

এই দুই ব্যাটসম্যানকে কখনোই দেখে মনে হয়নি তাঁরা আনকোরা। কুলদীপ যাদব এবং যজুবেন্দ্র চাহলের ঘূর্ণিকে তাঁরা যে ভাবে সামলেছেন তা যথেষ্ট প্রশংসাযোগ্য। কিন্তু কুলদীপের বলে অংশুমান ফিরে যেতেই ভেঙে পড়ল হংকং ব্যাটিং। শতরান থেকে মাত্র আট রান দূরে থেমে গেলেন নিজাকত।

শুরুতে অবশ্য কোনো ভাবেই মনে হয়নি যে হংকং-এর বিরুদ্ধে জিতেও স্বস্তি পাবে না ভারত। তাঁদের চিরাচরিত ঢঙেই শুরু করেছিলেন রোহিত শর্মা এবং শিখর ধাওয়ান। লাল বলে যতটা দুর্বল ধাওয়ান, সাদা বলে ঠিক ততটাই তিনি শক্তিশালী। এই ম্যাচেও তিনি তাঁর জাত পুনরায় চিনিয়ে দিলেন।

কিছুটা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জন্যই আউট হয়ে ফিরে যান রোহিত। তবে বিরাটের জায়গায় নেমে এ দিন তাঁর সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন অম্বাতি রায়ুড়ু। ধাওয়ান এবং রায়ুড়ু যখন ব্যাট করছিলেন তখন মনে হচ্ছিল হয়তো চারশোর কাছাকাছি গিয়ে শেষ করবে ভারত। তবে রায়ুড়ুর কাছে শতরানের সুযোগ থাকলেও, তিনি সেটা হাতছাড়া করেন। অন্য দিকে শতরান করতে ধাওয়ান কোনো ভুল করেননি।

তবে চল্লিশ ওভারের পরে ভারতীয় ব্যাটিং-এ ব্রেক লাগিয়ে দেন হংকং-এর বোলাররা। এর মধ্যে জীবনের সব থেকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন এহসান খান। ধোনিকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন তিনি। হংকং-এর মতো দুর্বল প্রতিপক্ষের  বিরুদ্ধে ধোনির রান না পাওয়া তাঁর একদিনের ক্রিকেট ভবিষ্যতের ওপরে প্রশ্ন তুলে দিয়ে যেতে পারে।

ভারত জিতলেও, স্বস্তি পেল না। কিন্তু একজন নতুন বোলার পেল ভারত, তিনি খলিল আহমেদ। অভিষেক ম্যাচেই অসাধারণ বল করলেন তিনি। বুধবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও হয়তো তাঁকে নামাবে ভারত। তবুও শেষে বলতে হয়, হংকং-এর বিরুদ্ধে যা পারফরম্যান্স, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এ রকম করলে কিন্তু ম্যাচ জিততে সমস্যা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন