india vs pakistan
পরপর দু'উইকেট নিয়ে পাক শিবিরে ধাক্কা দেন ভুবি। ছবি: আইসিসি

পাকিস্তান: ১৬২ (বাবর ৪৭, শোয়েব ৪৩, কেদার ৩-২৩)

ভারত: ১৬৪-২ (রোহিত ৫২, ধাওয়ান ৪৬, শাদাব ১-৬)

দুবাই: হংকং-এর বিরুদ্ধে কি ইচ্ছে করেই নিজেদের শক্তি লুকিয়ে রেখেছিল ভারত? না হলে কী করে মাত্র ষোলো ঘণ্টার মধ্যে আমূল বদলে গেল ভারতের বোলিং। যে দলটা মঙ্গলবার হংকং-এর দুই ওপেনারকে ফেরাতে কালঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিল, তারা যে ভাবে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে বুলডোজার চালিয়ে দিল, সেটা কিছুতেই ভেবে পাওয়া যাচ্ছে না।

ইদানীং ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচগুলো যেন বড্ড বেশি একপেশে হয়ে যাচ্ছে, সে ভারত জিতুক বা পাকিস্তান জিতুক! সেই ট্র্যাডিশন এ দিনও জারি থাকল। একপেশে ম্যাচে পাকিস্তানকে উড়িয়ে সুপার ফোরে জায়গা করে নিল ভারত।

মাত্র ষোলো ঘণ্টার ব্যবধানেই ভারতীয় বোলারদের রূপ এ ভাবে বদলে যাবে সেটা আগে থেকে আন্দাজ করাই যায়নি। অনেকের মনে হয়েছিল আগের দিন হংকং-এর বিরুদ্ধে চাপে পড়ে যাওয়া ভারতীয় পেসারদের হাতে পেয়ে ছেলেখেলা করবে পাকিস্তান। সেই আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় যখন মঙ্গলবারের হিরো খালিল আহমেদের বদলে ভুবনেশ্বরের ওপরেই ভরসা রাখে দল।

হংকং-এর বিরুদ্ধে সে ভাবে দাগ কাটতে পারেননি ভুবনেশ্বর। এ দিন তিনিই প্রাথমিক ধাক্কা দিলেন পাক শিবিরে। প্রথম পাঁচ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ছিল দুই উইকেটে চার রান। ততক্ষণে দুই ওপেনার ইমাম উল-হক এবং ফাকর জামানকে তুলে নিয়েছেন ভুবনেশ্বর। তবে এই দু’টো উইকেটই যতটা ভুবনেশ্বরের ভালো বোলিং-এর জন্য, তার থেকে অনেক বেশি ছিল নিজেদের ভুল শটের জন্য। ভুবনেশ্বরকে কেন স্টেপ আউট করার সিদ্ধান্ত ইমাম নিয়েছিলেন সেটা তিনিই বলতে পারবেন, অন্য দিকে ভারতের বিরুদ্ধে এক বছর আগের ম্যাচে শতরানকারী ফাকরও ছক্কা হাঁকাতে যান এবং ফিল্ডারের হাতে ধরা পড়ে যান।

এ দিন সম্ভবত ভুল শট খেলার রোগে ধরেছিল পাকিস্তানকে। কারণ একটা সময় শোয়েব মালিকের সঙ্গে দুর্দান্ত জুটি তৈরি করে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনা বাবর আজমও অহেতুক স্টেপ আউট করতে গিয়ে কুলদীপের বলে বোল্ড হয়ে যান। অধিনায়ক শরফরজ আহমেদও ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনের ধারে ধরা পড়ে যান। এই অবস্থায় যাঁর ওপরে পাকিস্তানের সব থেকে বেশি ভরসা ছিল, সেই শোয়েব মালিকও বোকার মতো রান আউট হয়ে যান। তার পর শুধু উইকেট পতনেরই পালা।

এরকম ছিল বুধবারের দুবাই।

শুরুটা ভুবনেশ্বর করলেও, এ দিন ভারতীয় বোলিং-এর মূল হিরো কেদার যাদব। মূলত ব্যাটসম্যান হয়েও তাঁর বোলিং ভারতকে অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত এনে দিয়েছে। এ দিনও তার ব্যতিক্রম হল না। ন’ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৩ রান দিয়ে তিন উইকেট তুলে নেন তিনি। তাঁর এই অসাধারণ বোলিং-এর জন্যই হার্দিক পাণ্ড্যর অভাব বুঝতে পারেনি ভারত।

১৬২ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কার্যত ছিনিমিনি খেলে গেল ভারতীয় ব্যাটিং। শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে শুরু করে দুর্দান্ত ভিতটা তৈরি করে দিয়ে যান রোহিত। বলা যেতে পারে, ভারতীয় ইনিংসের প্রথম পাঁচ ওভার ম্যাচে ছিল পাকিস্তান। মহম্মদ আমির, উসমান খানদের খেলতে তখন কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু উসমানের একটা ওভারে পর পর তিন বলে রোহিত ১৪ রান তুলতেই ম্যাচ পুরোপুরি ভাবেই ভারতের দিকে চলে এল।

মঙ্গলবার কিছুটা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জন্য বড়ো রান করতে পারেননি রোহিত। এ বার অবশ্য সেই ভুলটা তিনি করেননি। দুর্দান্ত অর্ধশতরান করে তিনি যখন প্যাভিলিয়নে ফেরেন তখন পাকিস্তানের যাবতীয় লড়াই শেষ হয়ে গিয়েছে।

শ্রীলঙ্কা বিদায় নেওয়ায় এই এশিয়া কাপে আরও দু’বার মুখোমুখি হতে পারে ভারত এবং পাকিস্তান। সুপার ফোরে মুখোমুখি তো হচ্ছেই। বিশেষ অঘটন না ঘটলে হয়তো ফাইনালেও ভারত-পাকিস্তান। সেই যুদ্ধে প্রথম ম্যাচ জিতে অনেকটাই এগিয়ে থাকল ভারত। কিন্তু সেই সঙ্গে একটা সতর্কবার্তা চলে এল ভারতীয় শিবিরে। পাকিস্তানকে কোনো ভাবেই যেন হালকা ভাবে না নেওয়া হয়, কারণ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের পুনরাবৃত্তি হোক, সেটা কিছুতেই চাইবে না ভারত।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন