শতরানের পড়ে পৃথ্বী। ছবি: আইসিসি

ভারত: ৩৬৪-৪ (পৃথ্বী ১৩৪, পুজারা ৮৬, গ্যাব্রিয়েল ১-৬৬)

রাজকোট: আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর আগে ছেলেটাকে প্রথম চিনেছিল বিশ্ব। তখন তাঁর বয়স ১৩। এইটুকু বয়সে কেউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে চর্চার বিষয় হচ্ছেন, এ রকম ঘটনা সচরাচর ঘটে না। কিন্তু পৃথ্বী শ’-এর ক্ষেত্রে হয়েছিল। কারণ মুম্বইয়ের বিখ্যাত হ্যারিস শিল্ড ক্রিকেটে রেকর্ড ৫৪৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

হ্যারিস শিল্ড বললে কার কথা প্রথমে মনে পড়ে? অবশ্যই সচিন তেন্ডুলকরের। কারণ এই হ্যারিস শিল্ড খেলে তাঁরও উঠে আসা। কিশোর বিনোদ কাম্বলির সঙ্গে নিজের স্কুলের হয়ে রেকর্ড জুটি। তার পর বাকিটা ইতিহাস।

তো সচিনের সঙ্গে পৃথ্বীর তুলনা করা সেই ২০১৩ থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। মুম্বইয়ের ময়দানে ‘বিস্ময় বালক’-এর তকমা জুটল তাঁর মুকুটে। পৃথ্বীর উত্থান কিন্তু থেমে থাকল না, যেমন থামেনি সচিনের। কিন্তু কখনও কি তিনি ভাবতে পেরেছিলেন, ছোট্ট একটা রেকর্ডের মধ্যে দিয়ে সচিনকে ছাপিয়ে যাবেন তিনি।

একটু খোলসা করা যাক। রঞ্জি ট্রফি, দলীপ ট্রফি এবং ইরানি ট্রফির অভিষেকে শতরান ছিল সচিনের। ঠিক একই রকম রেকর্ড রয়েছে পৃথ্বীরও। তফাৎ শুধু ইরানি ট্রফি, কারণ এই ম্যাচটি এখনও খেলার সুযোগ পাননি পৃথ্বী। আর বৃহস্পতিবার টেস্ট অভিষেকেও শতরান করে ফেললেন অষ্টাদশ এই কিশোর। এখানেই সচিনকে পেরিয়ে গেলেন তিনি, কারণ টেস্ট অভিষেকে সচিনের কিছু শতরান নেই।

হতে পারে পৃথ্বীর প্রতিপক্ষ, সচিনের সে দিনের প্রতিপক্ষের থেকে অনেকটাই দুর্বল। কিন্তু অভিষেক ম্যাচ সব সময়েই অন্য রকমের, বিশেষ করে যখন দেখা যায়, ওপেন করতে নেমে দিনের প্রথম ওভারেই অপর পার্টনার আউট হয়ে গেল। এ দিন প্রথম ওভারে শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে রাহুল ফিরে গেলেও, তাতে বিন্দুমাত্র দমানো যায়নি পৃথ্বীকে। স্বভাবসুলভ ভাবে তিনি আগ্রাসী। সেই আগ্রাসী ব্যাটিংটাই করে গেলেন তিনি। অভিষেক ম্যাচের চাপ তাঁকে ঘিরে রেখেছে কখনও সেটা মনে হয়নি। পৃথ্বীর এই ব্যাটিং দেখে নিজের রক্ষণাত্মক খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন পুজারাও। বিশাল জুটি তৈরি করে, তখনই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এই টেস্ট থেকে কার্যত ছিটকে দিলেন দু’জন। পুজারার নামের পাশেও শতরান বসত, যদি মুহূর্তের অসতর্কতার ফলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচটা না তুলে দিয়ে আসতেন তিনি।

পৃথ্বী আরও একটা বড়ো ইনিংস মাঠে রেখে দিয়ে এলেন। দেবেন্দ্র বিশুর বলটা একটু সামলে খেললেই কোনো সমস্যা হত না তাঁর। যাই হোক, তিনি যে লম্বা রেসের ঘোড়া, এই একটা ইনিংসেই বুঝিয়ে দিলেন পৃথ্বী।

এখন ক্রিজে রয়েছেন বিরাট এবং ঋষভ পন্থ। বিরাটও আবার নিজের চরিত্র বিরোধী ইনিংস খেলে চলেছেন। তাঁর সেই আগ্রাসী ব্যাটিং উধাও হয়ে গিয়েছে। কোন গুরুমন্ত্রে তিনি রক্ষণাত্মক ক্রিকেট খেলছেন সেটা কিন্তু ভাবার বিষয়। শুক্রবার হয়তো বিরাটের আরও একটা শতরান দেখবে রাজকোট। অর্ধশতরান হাতছাড়া করে ফিরে গিয়েছেন রাহানে।

এই সিরিজটাকে যদি অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে ভারত দেখে, তা হলে বলতেই হয় দুর্দান্ত ভাবেই সেই কাজটা শুরু করেছে ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কী ভাবে ভারতকে জবাব দেয়, সেটাই দেখার।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন