উইন্ডিজ: ১৮১-৩ (পুরান ৫৩ অপরাজিত, ব্রাভো ৪৩ অপরাজিত, চাহল ২-২৮)

ভারত: ১৮২-৪ (ধাওয়ান ৯২, পন্থ ৫৮, পল ২-৩২) 

চেন্নাই: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একাধিপত্য বজায় রেখেই তৃতীয় টি২০ ম্যাচও জিতে নিল ভারত। তবে অন্য ম্যাচের থেকে পার্থক্য, উইন্ডিজের পালটা একটা লড়াই দেওয়ায় কিছুটা জমে উঠেছিল এই ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নামার আগে দুর্দান্ত একটা সিরিজ শেষ করল ভারত।

আড়াই বছর আগে এই ভারতের মাটিতেই একটি কীর্তি স্থাপন করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যার জন্য এখনও তাদের মুকুটে ‘বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’-এর তকমা লেগে রয়েছে। কিন্তু সেই দলের শিরদাঁড়াই ভেঙে ফেলা হয়েছে। ক্রিস গেল, মার্লন স্যামুয়েল্‌স, ডোয়েন ব্রাভো, ড্যারেন স্যামিরা কেউ নেই। ফলে সেই দল এখন কার্যত ভেঙে পড়েছে। এই সিরিজের প্রথম দু’টো ম্যাচই তার প্রমাণ।

যখন মনে করা হচ্ছিল তৃতীয় টি২০ ম্যাচটিও ভারতের কাছে অত্যন্ত সহজ একটা ম্যাচ হতে চলেছে, তখনই ঘুরে দাঁড়াল তারা। নবাগত এবং অভিজ্ঞর যুগলবন্দিতে অসাধারণ ব্যাটিং পারফরম্যান্স করল তারা। রবিবার টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে উইন্ডিজ। দুই ওপেনার শে হোপ এবং শিমরন হেটমায়ারের টি২০ কেরিয়ার দেখে প্রশ্ন জেগেছিল, এই দুই ক্রিকেটার কি টি২০-এর যোগ্য। দু’জনেরই গড় দশের আশেপাশে। কিন্তু এ দিন এই দু’জনই উইন্ডিজকে অসাধারণ একটা ভীত তৈরি করে দিলেন, যেই ভীতে অট্টালিকা তৈরি করলেন ড্যারেন ব্রাভো এবং নিকোলাস পুরান।

একটা সময় ছিল যখন ড্যারেন ব্রাভোর সঙ্গে তুলনা শুরু হয়েছিল ব্রায়ান লারার। দু’জনের ব্যাট করার ধরন এক তো বটেই, দেখতেও অনেকটা এক। আবার শুরুর দিকে দু’জনের কেরিয়ারে মিলও ছিল বিস্তর। কিন্তু তার পর ধীরে ধীরে প্রভাব কমতে শুরু করে ব্রাভোর। বাদ পড়েন দল থেকেও। আবার প্রত্যাবর্তন হয়েছে তাঁর। টি২০ ক্রিকেটে হলেও এ ভাবেই একদিন টেস্ট দলে ফিরবেন তিনি, এমনই আশা তাঁর। এক দিকে যখন নবাগত নিকোলাস পুরান ভারতীয় বোলারদের পেটাচ্ছেন, তখন উলটো দিকের স্ট্রাইকে থেকে দুর্দান্ত সংগত দিয়ে গেলেন ব্রাভো। ফলে দু’শো থেকে মাত্র ১৯ রান দূরে শেষ করল উইন্ডিজ।

ভারতের ব্যাটিং-এর শুরুতেই ধাক্কা। রোহিত শর্মা ফিরে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে যান কেএল রাহুলও। তার পরেই শুরু হয় তাণ্ডব। বলা যায় প্রত্যাবর্তনের একটা লড়াই। আসলে বিগত কয়েকটি ম্যাচেই রান নেই ধাওয়ানের। সেই সঙ্গে টি২০-তে এখনও সে ভাবে ব্যাট হাতে প্রভাব ফেলেননি ঋষভ পন্থ। এ দিন এই দু’জনের তাণ্ডব দেখল চিপক।

রোহিত-রাহুল ফিরে যাওয়ায় যে চাপের সৃষ্টি হয়েছিল সেটা নিমেষের মধ্যে উধাও হয়ে গেল। ধাওয়ানের তাণ্ডব দেখে তো একটা সময় মনে হচ্ছিল তিনি সম্ভবত শতরান করে ফেলবেন। কিন্তু সেটা হল না যদিও। তবে এক্কেবারে হঠাৎ করে ম্যাচ জমিয়ে দিয়েছিল উইন্ডিজ। জয়ের জন্য যখন দু’ বলে এক রান করতে হবে, তখনই আউট হয়ে গেলেন ধাওয়ান। একটুর জন্য ভারতীয় সমর্থকদের চিন্তা শুরু হলেও, অঘটন কিছু ঘটেনি। শেষ বলেই জয়ের রান তুলে নেন মনীশ পাণ্ডে।

এ বার অপেক্ষা আর দশ দিনের। তার পরেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একই ফরম্যাটে নামবে ভারত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here