বিরাট কীর্তির দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আশার আলো দেখালেন হোপ

0

ভারত: ৩২১-৬ (বিরাট ১৫৭, রায়ুড়ু ৭৩, নার্স ২-৪৬)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩২১-৭ (হোপ ১২৩ অপরাজিত, হেটমায়ার ৯৪, কুলদীপ ৩-৬৭)

বিশাখাপত্তনম: রেকর্ড ভাঙার খেলায় বিরাটের কীর্তিকে ম্লান করে একটি রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ টাই করে ফেলল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যে ম্যাচে দ্রুততম দশ হাজারি হওয়ার রেকর্ড করলেন বিরাট, সেই ম্যাচেই নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে রেকর্ড রান তাড়া করে ম্যাচ  জিতে নেওয়ার মুখেই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ৪৮ এবং ৪৯তম ওভারে যজুবেন্দ্র চাহল এবং মহম্মদ শামির চাপা বোলিং-এর ফলে অমীমাংসিত ভাবে শেষ হল ম্যাচ।

‘এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায়!’ বাংলার এই প্রবাদটাই সত্যি করে দিচ্ছেন বিরাট কোহলি এবং শিমরন হেটমায়ার। এক দিন হেটমায়ারের পালটা দিচ্ছেন বিরাট, তো অন্য দিন বিরাটের পালটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন হেটমায়ার। বুধবার বিরাটের দুর্ধর্ষ শতরানের পর হেটমায়ারও সে দিকেই এগোচ্ছিলেন। তবে ছ’রানের জন্য হেটমায়ার শতরান ফসকালেও শতরান করতে কোনো ভুল করেননি শে হোপ।

অবসর যখন নেবেন, তখন ঠিক কোথায় গিয়ে থামবেন বিরাট কোহলি? যে ভাবে একের পর এক রেকর্ড তিনি করে চলেছেন এবং অন্যের রেকর্ড ভেঙে চলেছেন তাতে তো মনে হচ্ছে সচিনেরও রেকর্ডগুলোও তিনি ভেঙে দেবেন। একটা রেকর্ড তো তিনি বুধবারের বিশাখাপত্তনমেই ভেঙে দিলেন।

এতদিন পর্যন্ত সচিনই ছিলেন একদিনের ক্রিকেটে দ্রুততম দশ হাজারির মালিক। সেই রেকর্ডে এ বার নাম লিখিয়ে দিলেন বিরাট। ০ থেকে ১০,০০০ রানের গণ্ডি পেরোতে তিনি নিলেন মাত্র ২০৫টা ইনিংস।

বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো তুলনামূলক দুর্বল বোলিং লাইনআপ ছিল বলে বোঝা যায়নি, কিন্তু বিশাখাপত্তনমের পিচটা গুয়াহাটির থেকে অন্য রকম ছিল। এখানে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করা কিছুটা চাপের ছিল। কিন্তু ক্রিজে যখন বিরাট থাকেন কোনো চাপকেই আর চাপ মন হয় না। গুয়াহাটিতে যেখানে শেষ করেছিলেন, এ দিন সেখান থেকেই শুরু করেছিলেন তিনি। তবে সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়। এ দিন বড়ো রানের মুখ দেখার আগেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরে ফেলেন শিখর ধাওয়ান এবং রোহিত শর্মা।

ইদানীং এক দিনের দলের ব্যাটিং লাইনআপের চতুর্থ জায়গাটি নিয়ে বেশ সমস্যা হচ্ছে। রাহুল, দীনেশ কার্তিকের মতো অনেকের ওপরে পরীক্ষানিরীক্ষা করার পরে অবশেষে অম্বাতি রায়ুড়ুর ওপরে ভরসা দেখিয়েছেন টিম ম্যানেজমেন্ট। তাঁর এ দিনের ইনিংসে নিজের এবং দলকে বাড়তি ভরসা জোগাবেই। রায়ুড়ুকে সঙ্গে নিয়েই রানের পাহাড় গড়তে উদ্যত হয়েছিলেন বিরাট। একশোর পরে তিনি পেরিয়ে গেলেন দেড়শোর গণ্ডিও।

ভারতের যদি বিরাট থাকেন, তা হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রয়েছে শিমরন হেটমায়ার। টেস্ট সিরিজে যাচ্ছেতাই ভাবে হেরে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে এ ভাবে একদিনের সিরিজে ঘুরে দাঁড়াবে সেটা আন্দাজই করা যায়নি। গুয়াহাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেটা করতে পারেনি, সেটাই এইদিন করে ফেলল।

বিরাটের মতো হেটমায়ারও এ দিন ফের জ্বলে উঠেছিলেন। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এ দিনের নায়ক শে হোপ। এক দিকে যখন হেটমায়ার মারমার কাটকাট ছিলেন, অন্য দিকে তখন ইনিংস ধরে রাখার দিকেই বেশি নজর ছিল হোপের। একশো রানের আগেই তিন উইকেট হারালেও, হেটমায়ার এবং হোপের জুটিতেই ম্যাচে ফেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে প্রয়োজনীয় রানরেট সব সময়েই নিজেদের আয়ত্তের মধ্যেই রেখে দিয়েছিলেন এই দু’জন। তাই হেটমায়ার আউট হয়ে গেলেও, বেশি চাপে পড়তে হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

তবে শেষের কয়েকটি ওভারে ভারতের চাপা বোলিং-এর ফলে কিছুটা হতাশ হয়েই থাকতে হচ্ছে জেসন হোল্ডারের দলকে। ম্যাচ না জিততে পারলেও ভারত তথা ক্রিকেট-বিশ্বের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বুঝিয়ে দিল যে তাদের একদিনের দলকে কোনো ভাবেই হালকা ভাবে নিলে চলবে না বিপক্ষদের। দরকারের সময়ে জ্বলে উঠতে তারাও পারে।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.