asia cup
জাদেজাকে মধ্যমণি করে ভারতীয় দল। ছবি: বিসিসিআই

বাংলাদেশ ১৭৩ (মেহেদি  ৪২, মাশরাফি ২৬, জাদেজা ৪-২৯)

ভারত ১৭৪-৩ (রোহিত ৮৩ অপরাজিত, ধাওয়ান ৪০, রুবেল ১-২১)

দুবাই: এরপরে এশিয়া কাপের সূচির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ক্ষোভ আরও যে বাড়বে সে ধরেই নেওয়া যায়। শুক্রবার দুবাইতে যে সময় ভারত-বাংলাদেশের ম্যাচ শেষ হল, বৃহস্পতিবার সেই সময়েই তার থেকে ১৪০ কিমি দূরের শহরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তখনও ম্যাচ খেলে চলেছে তারা। অর্থাৎ আবু ধাবিতে আফগানিস্তানের কাছে গো-হারা হেরে যাওয়ার ষোলো ঘণ্টার মধ্যে নতুন ম্যাচে নামতে হল ১৪০ কিমি দূরে দুবাই শহরে এসে। চল্লিশ ডিগ্রির গরমের আমিরশাহিতে, এ যাত্রা যে বাড়তি ধকল সেটা বাংলাদেশের অতিবড়ো সমালোচকও মেনে নেবেন।

আবু ধাবি থেকে দুবাই এসে ম্যাচ খেলা, তাও আবার ভারতের বিরুদ্ধে। ফলাফল যে কী হবে, সে তো ম্যাচ শুরুর আগেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশের ক্লান্ত ব্যাটসম্যানরা কোনো লড়াই-ই দিতে পারবে না ভারতের বিরুদ্ধে। সেটাই হল, বাংলাদেশকে উড়িয়ে ড্যাংড্যাং করে ম্যাচ জিতে নিল ভারত। ফাইনালে ওঠার পথ এখন অনেকটাই প্রশস্ত।

ম্যাচের কথায় আসা যাক এবার। হার্দিক পাণ্ড্যকে ঘুরিয়ে ধন্যবাদ দিতে পারেন রবীন্দ্র জাদেজা। কারণ হার্দিক চোট না পেলে এই ম্যাচে জাদেজা সুযোগই পেতেন না। একদিনের ক্রিকেটে তাঁর যে এখনও দম রয়েছে, সেটা এই ম্যাচে সুযোগ না পেলে বোঝাও যেত না। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের পর একদিনের ম্যাচ খেলছেন জাদেজা। কার্যত মহারাজকীয় প্রত্যাবর্তন। বাংলাদেশের চারজন ব্যাটসম্যানকে নিজের পকেটে পুরলেন তিনি।

তবে জাদেজা আসরে নামার আগে এ দিনও বিপক্ষ শিবিরে ধাক্কা দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। হংকং ম্যাচে তিনি পারফর্ম করতে পারেননি বলে অনেক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছিল। সেটা যে ভুবি হজম করতে পারেননি সেটা এখন বোঝা যাচ্ছে। পাকিস্তান ম্যাচ থেকেই সেই পুরনো ভুবি ফিরে এসেছেন। প্রথম উইকেটটি ছাড়াও তিনি বাংলাদেশের ষষ্ঠ এবং অষ্টম উইকেটটি তুলে নেন। এখন অনেকেই বলতে পারেন ষষ্ঠ এবং অষ্টম উইকেটের কী গুরুত্ব? না, মেহমুদুল্লাহকে (বাংলাদেশের ষষ্ঠ উইকেট) আউট করা গুরুত্বপূর্ণ কিছু না হলেও অধিনায়ক মাশরাফির (বাংলাদেশের অষ্টম উইকেট) উইকেটটা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ মেহদি হাসান মিরাজের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে ৬৬ রানের জুটিতে জমে গিয়েছিলেন মাশরাফি। এই পরিস্থিতিতে তাঁর উইকেটটা না পেলে হয়তো বাংলাদেশ দুশো পেরিয়ে যেতে পারত।

এক সময়ে সাত উইকেটে ১০১ হয়ে গেলেও বাংলাদেশ যে আগের দিনে পাকিস্তানের রানের থেকে বেশি করল, তার অন্যতম কারণ মেহদি হাসান মিরাজের দুর্ধর্ষ একটা ইনিংস। রান হিসেবে ৪২টা খুব বেশি কিছু নয়। কিন্তু ওই সময়ে তিনি এই ইনিংসটা না খেললে বাংলাদেশ ১৪০-এর নিচেই হয়তো আটকে যেত।

১৭৩-এর লক্ষ্যমাত্রা ভারতীয় ব্যাটিং-এর কিছুই নয়। তবুও বলতে হয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেমন শুরুতেই ঝড় তুলেছিলেন রোহিত এবং ধাওয়ান, এ দিন সেটা হয়নি। বাংলাদেশের বোলাররা কিছুটা চেপে বল করায় হাত খুলতে পারেননি ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা।

ঝোড়ো না হলেও, পাকিস্তান ম্যাচের পর এ দিনও দুর্ধর্ষ একটা ইনিংস খেললেন রোহিত। তবে এ দিন যাবতীয় নজরের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। অম্বাতি রায়ুড়ু আউট হয়ে যাওয়ার পরেই সবাইকে চমকে দিয়ে চার নম্বর নামতে দেখা যায় ধোনিকে। সেই সঙ্গে শুরু হয়ে যায় চর্চা। ধোনিকে চার নম্বরে পাঠিয়ে কি এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।

প্রথমত ইংল্যান্ড সফর থেকে ধোনির ব্যাটে সে ভাবে রান নেই। সেই জন্য এই ম্যাচে চাপমুক্ত অবস্থায় ব্যাট করতে পাঠিয়ে ধোনিকে রানে ফেরানোর একটা চেষ্টা করা হয়ছে। দ্বিতীয়ত, চার নম্বরে ধোনিকেই সেরা বাজি তৈরি করার চেষ্টা। বিশ্বকাপের আট মাস আগে এখনও ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে চার নম্বরে কেউ স্থায়ী জায়গা করতে পারেননি। এই অবস্থায় ধোনি যদি চার নম্বর জায়গাটা নিজের পাকা জায়গা করে নিতে পারেন তা হলে ভারতের বিশাল লাভ। ধোনি এ দিন রানও পেয়েছেন এবং তাঁকে যথেষ্ট ইতিবাচক দেখিয়েছে।

যাইহোক, আপাতত বাংলাদেশ বিজয়ের পরে নতুন ম্যাচের প্রস্তুতি ভারতীয় শিবিরে। রবিবার যে ফের ভারত-পাক মহারণ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন