ভারত: ৩১৪-৯ (রোহিত ১০৪, রাহুল ৭৭, মুস্তাফিজুর ৫-৫৯)

বাংলাদেশ: ২৮৬ (শাকিব ৬৬, সৈফুদ্দিন ৫১, বুমরাহ ৪-৫৫)

Loading videos...

বার্মিংহাম: তামিম ইকবাল কি বাংলাদেশে জাতীয় খলনায়কের আখ্যা পাচ্ছেন এখন? এই ধারণাটা কিন্তু খুব একটা অমূলক নয়। কারণ আজকের ম্যাচের ফলাফল থেকেই পরিষ্কার, খেলার শুরুতে তামিম রোহিত শর্মার ওই লোপ্পা ক্যাচটা না ফেললে হয়তো সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য আরও একটা ম্যাচ অপেক্ষা করতে হত ভারতকে। ফলে রোহিতের শতরানের দিনেও এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তরা যে তামিমের মুণ্ডছেদ করছেন তা বলাই বাহুল্য।

খেলা চলাকালীন টিভির স্ক্রিনের তলায় ‘স্কোর প্রেডিক্টর’ দেখায়, সেটা খেয়াল করেছেন নিশ্চয়। ভারতের ইনিংসের ২৫ ওভারের কাছাকাছি ওই ‘স্কোর প্রেডিক্টর’-এ দেখাচ্ছিল ভারত ৫০ ওভারে পৌঁছোতে পারে ৩৭০-এ। ঠিক সেই মুহূর্তে রোহিত এবং রাহুল যে ভাবে খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, ৩৭০ কেন, মনে হচ্ছিল ৪০০-ও হয়ে যেতে পারে। তা সেই স্কোরটা যে শেষমেশ ৩১৪-তে আটকে গেল, সেই দেখেই বুঝতে হয় কেন এই মুহূর্তে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচকে ‘এশিয়ান ডার্বি’ বলা হয়।

না, কোনো সন্দেহ নেই বাংলাদেশের থেকে যজনখানেক এগিয়ে ভারত। কিন্তু এশিয়ার দলগুলির তুল্যমূল্য বিচার করলে দেখা যাবে সাম্প্রতিক ইতিহাসে বাংলাদেশই এমন এক দল, যারা ভারতকে কিছুটা হলেও বেগ দিয়েছে। গত বছর এশিয়া কাপের ফাইনালটাই মনে করুন। ভারত জিতল ঠিকই, কিন্তু বাংলাদেশ ঠিক কতটা বেগ দিয়েছিল ভারতকে।

এ দিনও মাশরাফিরা যে প্রথমার্ধে বেদম মার খেয়ে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ভাবে ফিরে এল, তার ক্রেডিট দিতে হবে তাঁদের আত্মবিশ্বাসকে। ভারতের ইনিংসটাকে পুরোপুরি দু’ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথম ভাগে বাংলাদেশের বোলারদের ঠেঙিয়ে গেলেন রোহিত এবং রাহুল। আর দ্বিতীয় ভাগে বাঙালি বোলারদের সামলাতে হিমশিম খেলেন ব্যাটসম্যানরা।

বিশ্বকাপে চতুর্থ শতরানের মধ্যে দিয়ে সৌরভকে পেরিয়ে গেলেন রোহিত শর্মা। ২০০৩ বিশ্বকাপে তিনটে শতরান ছিল সৌরভের। সেটাই ছিল কোনো ভারতীয়ের একটা বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ শতরানের রেকর্ড। তবে এ দিন তিনি যে দাপটের সঙ্গে খেলেছিলেন তাতে তাঁর আরও একটি দ্বিশতরান পাকা ছিল। শতরানের পর কিছুটা হালকা ভাবে খেলতে গিয়েই উইকেটটা দিয়ে এলেন তিনি। অন্য দিকে শতরান করে ফেলার কথা ছিল রাহুলেরও। রোহিত আউট হয়ে যাওয়ার পর তাঁরও মনঃসংযোগ নষ্ট হল এবং কার্যত ওয়াইড বলে উইকেটকিপারের হাতে খোঁচা তুললেন তিনি।

তখন থেকেই বাংলাদেশি বোলাররা কিছুটা দাপট দেখাতে শুরু করেছেন। তিন বলের মধ্যে বিরাট কোহলি এবং হার্দিক পাণ্ড্যকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন মুস্তাফিজুর। আটকে রাখা হল ধোনিকেও। হ্যাঁ, এ দিন ধোনি একশোর বেশি স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ঠিকই। কিন্তু ইনিংসের শেষ মুহূর্তে ৩৫ রান করতে ৩২ বল খরচ করার কোনো মানে নেই। তবে এরই মধ্যে নজর কাড়লেন ঋষভ পন্থ। চার নম্বরে নেমে ঝোড়ো ইনিংস খেলে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে মিডিয়ার প্রচার একটুও বাড়াবাড়ি নয়। তবে একটা অর্ধশতরান করতে পারলে আরও ভালো হত তাঁর।

আরও পড়ুন সৌরভকে টপকে প্রথম ভারতীয় হিসেবে অনন্য নজির রোহিত শর্মার

ক্যাচ ফসকানোর বদলা তামিম তাঁর ব্যাটের সাহায্যেই তুলতে পারতেন। এই বিশ্বকাপেই অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে রান তাড়া করে ৩৩০-এর কাছাকাছি গিয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে ৩১৫-এর লক্ষ্যমাত্রা তাদের কাছে খুব একটা অসুবিধার ছিল না। কিন্তু ব্যাট হাতেও ব্যর্থ তামিম। আর তাই আবারও দলকে জেতানোর দায়িত্ব এসে গিয়েছিল শাকিব আল হাসানের কাঁধে।

এই বিশ্বকাপে যে ধরনের ইনিংস খেলে চলেছেন শাকিব, এ দিনও ওমন ইনিংসই উপহার দেন তিনি। কিন্তু উলটো দিকে সঙ্গীর বড্ড অভাব ছিল। সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাসরা কেউ তাঁকে সঙ্গ দিতে পারেননি। আর তাই দুর্দান্ত একটা অর্ধশতরান করার একটু পরেই হার্দিকের বলে ফিরে যান শাকিব। ম্যাচের ভাগ্য তখনই মোটামুটি নির্ধারিত হয়ে যায়। যদিও সপ্তম উইকেটে বড়ো জুটি তৈরি করেন সব্বির রহমান এবং মহম্মদ সৈফুদ্দিন, কিন্তু তার ফলে ভারতের জেতার সময় কিছুটা পিছিয়ে যাওয়া ছাড়া আর বড়ো কিছু ঘটেনি। চূড়ান্ত পেশাদারি ঢঙে ম্যাচ পকেটে পুরে নেয় ভারত।

হালফিলে সব থেকে উত্তেজনার ম্যাচ হয় ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক যতই মধুর হোক, ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে সম্পর্ক ততটাই তলানিতে। আর গত কয়েকটি ম্যাচ ধরেই দেখা গিয়েছে এই রকম ম্যাচে ভারত জিতলেই বাংলাদেশের ভক্তরা চেষ্টা করেন, ভারত চোট্টামি করে জিতেছে এটা প্রমাণ করার। কিন্তু এ দিন তামিমের ক্যাচ ফেলার পর সেই অভিযোগটি থাকে কি না, সেটাই দেখার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.