অস্ট্রেলিয়া: ২৩৬-৭ (খোয়াজা ৫০, ম্যাক্সওয়েল ৪০, শামি ২-৪৪)

ভারত: ২৪০-৪ (কেদার ৮১ অপরাজিত ধোনি ৫৯ অপরাজিত, কাউল্টার নাইল ২-৪৬)

হায়দরাবাদ: কঠিন পিচে মাথা ঠান্ডা রেখে দুর্দান্ত দু’টি ইনিংসের মধ্য দিয়ে ভারতকে জয়ে পৌঁছে দিলেন কেদার যাদব এবং মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ শুরু করল ভারত।

একদিনের ক্রিকেট সত্যি আজব একটা ব্যাপার। মাত্র দু’দিন আগে ইংল্যান্ডের খাড়া করা ৪১৮ রান প্রায় তাড়া করেই ফেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আবার শনিবার দেখা গেল মাত্র ২৩৬ তুলতেই কালঘাম ছুটে গেল। আসলে সব কেরামতিই থাকে পিচের। হায়দরাবাদের পিচ যে ব্যাটিং-এর পক্ষে যথেষ্ট শক্ত ছিল তা বোঝাই যাই।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০১৮-এর জুলাইয়ে ইংল্যান্ড সফরে কামব্যাকের পর মহম্মদ শামির বোলিং আরও তীক্ষ্ণ হয়েছে। নিউজিল্যান্ডে তার পারফরম্যান্সই সেই প্রমাণ করে। এ দিন সেই শামিই শুরু করলেন। টসে জিতে ব্যাটিং-এর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অজিরা। শামির বলে শুরুতেই ধোনিকে খোঁচা দিয়ে দেন ফিঞ্চ।

অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া মহলে উসমন খোয়াজাকে খুব উচ্চ দরের ব্যাটসম্যান হিসেবে দেখা হয়। মাস দুয়েক ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফর চলাকালীন, অনেক বিশেষজ্ঞই বলেছিলেন, টেস্ট সিরিজের সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট নন, খোয়াজা হবেন। তা সেই শিরোপা যে পুজারার ওপরে গেল সেটা অবশ্য পরের ব্যাপার। যা-ই হোক, সেই টেস্ট সিরিজে খোয়াজা জ্বলে উঠতে পারেননি বটে, কিন্তু তিনি যে কতটা প্রতিভাবান, এই সিরিজের শুরুতেই প্রমাণ দিয়ে দিলেন।

আরও পড়ুন আই লিগ জয়ের লড়াইয়ে ইস্টবেঙ্গলের সামনে বাধা দু’টি

শরীরে উপমহাদেশীয় রক্ত আছে বলে কি না জানা নেই, পাক্কা উপমহাদেশীয় ব্যাটসম্যানদের মতো খেলে গেলেন খোয়াজা। প্রয়োজনে কুলদীপকে স্টেপ আউট করে গ্যালারিতে পাঠাতেও পিছপা হলেন না তিনি। আবার এই কুলদীপকেই ছক্কা মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে নিজের ক্যাচটা দিয়ে এলেন খোয়াজা। ততক্ষণে অবশ্য তাঁর নামের পাশে ৫০ সংখ্যাটি বসে গিয়েছে।

আরও একজন হলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। দ্বিতীয় টি২০-তে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন কী রকম ফর্মে রয়েছেন তিনি। এ দিনও সে রকমই কিছু আশা নিয়ে শুরু করেছিলেন। এগিয়েও যাচ্ছিলেন তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। কিন্তু অর্ধশতর দশ রান আগে তাঁকে থামিয়ে দিলেন শামি। এ ভাবেই আরও বেশ কয়েক জন অজি ব্যাটসম্যান ভালো শুরু করেও বড়ো রান করতে ব্যর্থ। সব মিলিয়ে অজিদের ইনিংস যখন শেষ হল, তখন স্কোরবোর্ডে তাঁদের রান যথেষ্ট কমই মনে হচ্ছিল।

কিন্তু কে জানত, এই রান তুলতেও কালঘাম ছুটে যাবে ভারতের। সাধারণত দেশের মাঠে একদিনের ম্যাচে রান তাড়া করতে নামলে ধাওয়ান, রোহিত এবং বিরাট মিলেই কাজের কাজটা করে দেন। কিন্তু এ দিন সেটা হল না। ধাওয়ান তো ইনিংসের প্রথম বলেই ফিরলেন। কিন্তু রোহিত এবং বিরাটদেরও ভালো শুরু করেও বড়ো রানের আগে থেমে যেতে বিশেষ দেখা যায় না।

বিরাট আর রোহিতের সে অর্থে ব্যর্থতাই বুঝিয়ে দিল পিচ বেশ সুবিধার নয়। একশোর আগেই চার উইকেট হারিয়ে ভারত কার্যত ধুঁকছে। তখনই হাল ধরলেন কেদার যাদব এবং ধোনি। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের সহজাত ইনিংস খেলা যাওয়ার অসামান্য ক্ষমতা রাখেন কেদার। এ দিনও তার অন্যথা হল না।

ধোনি ছিলেন অ্যাংকর। এটা দিক ধরে রেখে কেদারকে অন্য দিকে মারকাটারি ইনিংস খেলার সাহস জুগিয়ে যাচ্ছিলেন। ধোনির পর নেমেও কেদারকে তাঁর থেকে এগিয়ে যেতে দেখতেও ধোনির কোনো সমস্যাই ছিল না। ধোনি-কেদারের জুটির সামনেই এক সময়ে জয়ের স্বাদ দেখা অস্ট্রেলিয়া ক্রমশ ম্যাচ থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করে।

শেষে ১০ বল বাকি থাকতেই ভারতকে জয়ে পৌঁছে দেন এই দু’জন।

গত বছরের মাঝামাঝি পর্যন্তও ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, প্রথম তিন জন ব্যাটসম্যানের ওপরে যেন তারা অনেক বেশি নির্ভরশীল। সেই মিথটা ক্রমশ ভাঙতে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে, যখন রানে ফেরেন ধোনি। এ দিনের ম্যাচ আবার বুঝিয়ে দিল, প্রথম তিন-চারজন ব্যাটসম্যান বড়ো রান না পেলেও জয়ের মুখ দেখতে পারে ভারত।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here