india wins england odi

ইংল্যান্ড: ২৬৮ (বাটলার ৫৩, স্টোক্স ৫০, কুলদীপ ৬/২৫)

ভারত: ২৬৯-২ (রোহিত ১৩৭ অপরাজিত বিরাট ৭৫, মঈন আলি ১/৫১) 

ট্রেন্টব্রিজ: একদমই বেশি দিনের নয়, এই তো দিন কুড়ি আগের কথা। এই মাঠে, এই পিচেই হয়েছিল ম্যাচটা। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচশোর কাছাকাছি রান তুলে রেকর্ড করে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার দুর্বলতার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের শক্তিও জানা গিয়েছিল। তাই তো চিন্তা ছিল, এই সিরিজের প্রথম ম্যাচটাই ট্রেন্টব্রিজে পড়ায় কী হবে! তবে ভারতীয় ক্রিকেটভক্তদের নিরাশ হতে হল না। ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে সিরিজ শুরু করল বিরাটবাহিনী।

ভারতের জয়ের পাশাপাশি একজনের শাপমুক্তিও হল। তিনি অধিনায়ক বিরাট কোহলি। চার বছর আগের ইংল্যান্ড সিরিজ থেকে দুঃসহ কিছু যন্ত্রণা নিয়ে ফিরেছিলেন তিনি। টেস্ট হোক বা একদিনের ম্যাচ, সব কিছুতেই ব্যর্থ। এ বার অবশ্য অন্য রকম বিরাট। আগের থেকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, শুরু থেকে সাবলীল। রান তাড়া করার সময়েই তাঁর সেরাটা বেরোয়, এ বারও তাই হল। তবে ইংল্যান্ডের পিচে সুইং নয়, স্পিনের শিকার হন বিরাট। স্টাম্পড্‌ আউট না হলে, আরও একটা শতরান তাঁর পাকা ছিল।

তবে বিরাট শতরান ফসকালেও তাঁর এই শাপমুক্তির মঞ্চে জ্বলজ্বল করলেন রোহিত। তৃতীয় টি২০ থেকেই ফর্মের চুড়োয় পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। সেই ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন এ দিন সেখান থেকেই শুরু করলেন। ব্যাট থেকে বেরোল ঝকঝকে আরও একটা শতরান। তাঁর আর বিরাটের দাপটে কোনো পাত্তাই পেল না ইংল্যান্ডের আক্রমণ বিভাগ।

rohit sharma

অথচ প্রেক্ষাপট কিন্তু অনেকটাই সেই অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের মতো ছিল। টসে হেরে (হ্যাঁ, সে দিনও টসে ইংল্যান্ড হেরেছিল) প্রথমে ব্যাট করছে ইংল্যান্ড। শুরুতেই ঝড় তুলেছেন তাদের দুই ওপেনার জেসন রয় এবং জনি বেয়ারস্টো। দশম ওভার পর্যন্ত ঠিকঠাকই চলছিল ইংল্যান্ডের জন্য। তার পরেই সব ছন্নছাড়া হয় গেল। আসরে নামলেন কুলদীপ যাদব। একে একে পটাপট তিনটে উইকেট তুলে নিলেন ইংল্যান্ডের। ব্যাস সেই যে রানের গতিতে ব্রেক লেগে গেল, আর ঠিক হল না।

মাঝে অবশ্য জস বাটলার এবং বেন স্টোক্স ইংল্যান্ডকে ঠিক রাস্তায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছিলেন। দু’জনের মধ্যে বড়ো জুটিও তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু ভারতের স্পিনধাঁধার সমাধানসূত্র কিছুতেই বের করতে পারছিলেন না তাঁরা। বাটলার যাও বা রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন স্টোক্স সে ভাবে কোনো দাগই কাটতে পারেননি। ৫০ রান তিনি করলেন বটে, কিন্তু তার জন্য খরচা করলেন ১০৩টা বল।

অন্য দিকে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে ছড়ি ঘুরিয়ে গেলেন কুলদীপ যাদব। টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তার পরেই তৃতীয় ম্যাচে তাঁকে বসিয়ে দেওয়ায় অনেক প্রশ্ন চিহ্ন উঠেছিল। ফের এই ম্যাচে সুযোগ পেলেন এবং সুযোগটা লুফে নিলেন দু’হাতে। ইংল্যান্ডের ছ’জন ব্যাটসম্যানকে নিজের শিকার বানালেন কুলদীপ।

kuldeep yadav

সব মিলিয়ে কী হল? তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজে অনেকটাই এগিয়ে থাকল ভারত। শাপমুক্তি ঘটল বিরাটের, নিজের জাত চেনালেন রোহিত, ঘূর্ণির জাদুতে মাত করলেন কুলদীপ। ও হ্যাঁ, আর একটা কথা তো বলাই হল না, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরও একটা ধাক্কা, ব্রিটিশ ক্রীড়াপ্রেমীদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে লেগে গেল যে!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here