বিরাটবাহিনীর গোল্ডেন ডবল, অস্ট্রেলিয়ায় উদিত নতুন ধোনি

0

অস্ট্রেলিয়া: ২৩১ (হ্যান্ডস্‌কম্ব ৫৮, মার্শ ৩৮, চাহল ৬-৪২)

ভারত: ২৩৪-৩ (ধোনি ৮৭ অপরাজিত যাদব ৬১ অপরাজিত, রিচার্ডসন ১-২৭)

মেলবোর্ন: নতুন বছরে নতুন রূপে উদয় হলেন প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। আগের ম্যাচেই ফিনিশার ধোনিকে দেখা গিয়েছিল, এই ম্যাচে দেখা গেল অ্যাংকর ধোনিকে। ধোনির এই নবরূপ এবং যজুবেন্দ্র চাহলের ঘূর্ণিকে সঙ্গে নিয়েই অস্ট্রেলিয়ায় গোল্ডেন ডবল করল বিরাট বাহিনী।

গোল্ডেন ডবলটা গোল্ডেন ট্রিপলও হতে পারত যদি নভেম্বরে এই মেলবোর্নেই আয়োজিত টি২০ ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে না যেত। টি২০ সিরিজ অমীমাংসিত হওয়ার পর টেস্ট সিরিজ জিতে নেয় ভারত। তার পর এই একদিনের সিরিজ। অস্ট্রেলিয়া থেকে মাথা উঁচু করেই টাসমান সাগর পেরোতে চলেছে ভারত।

গত বছরটা এক কথায় ভীষণ খারাপ গিয়েছিল তাঁর। কথা উঠে গিয়েছিল বিশ্বকাপের আগেই তাঁর অবসর নিয়ে। কিন্তু ২০১৯ পড়তেই যেন অন্য ধোনি। প্রথম ম্যাচ ভারত হারলেও ৫০ করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে দেখা গিয়েছিল সেই ফিনিশার ধোনিকে। এ দিন দেখা গেল নতুন ধোনিকে।

এ দিন ভারত একাধিক পরিবর্তন করে মাঠে নামে। অম্বাতি রায়ুড়ু, কুলদীপ যাদব, মহম্মদ সিরাজদের বদলে দলে আসেন কেদার যাদব, বিজয় শঙ্কর এবং যজুবেন্দ্র চহল। রায়ুড়ুর বদলে চার নম্বরে নামানো হয় ধোনিকে। সেই পরীক্ষা যে এক্কেবারে সফল সেটাই ধোনি নিজেই বুঝিয়ে দিলেন। দলে ধোনির ভূমিকা হয়তো এ দিন থেকেই পালটে গেল। ফিনিশার থেকে হয়ে গেলেন অ্যাংকর ধোনি। যার মূল কাজ হল একটা দিক ধরে রাখা। তবুও এর মধ্যে ভাগ্যকে ধন্যবাদ দেবেন ধোনি। কারণ প্রথম বলেই ক্যাচ পড়েছিল তাঁর।

ধোনি ছাড়া কেদার যাদবের কথা না বললে অপরাধ হয়ে যাবে। বিরাট কোহলি আউট হয়ে যাওয়ার পরে কিছুটা আটকে গিয়েছিলেন ধোনি। রানের গতি বাড়াতে পারছিলেন না। এই পরিস্থিতিতে খেলা ধরেন যাদব। অদ্ভুত ব্যাটিং স্টান্সের যাদব দুর্ধর্ষ একটা অর্ধশতরানের মধ্যে দিয়ে ধোনিকে যোগ্য সংগত দিয়ে যান।

বৃষ্টিভেজা স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়াকে সঙ্গী করে এ দিন টস জিতে ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। এই সিদ্ধান্তটি এক্কেবারেই ভুল ছিল না সেটাই বুঝিয়ে দেন দলের বোলাররা।

উইকেট তোলার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার রানের গতিতেও ব্রেক লাগিয়ে দেন বোলাররা। এক দিনের ক্রিকেটে ভুবনেশ্বর এবং শামির জুটিটা বেশ জমে উঠেছে, এ দিন সেটা প্রমাণ হয়ে গেল। বিশ্বকাপেই সম্ভবত এটাই ভারতের ওপেনিং বোলিং জুটি। ভুবি এবং শামি দু’টো করে উইকেট নিলেও, এ দিন ভারতীয় বোলিং-এর তারকা চহল। এই সিরিজে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই ছ’টা উইকেট তুলে নেন তিনি। স্যাঁতস্যাঁতে পিচে যেখানে পেসারদের তাণ্ডব করার কথা, সেখানে যে ভাবে একজন স্পিনার ঘূর্ণিতে মাত করলেন, সেটা ভারতকে যথেষ্ট স্বস্তি দেবে বিশ্বকাপের আগে।

এ দিন বেশ কয়েক জন অজি ব্যাটসম্যান তাঁদের ইনিংস মোটামুটি শুরু করলেও একমাত্র পিটার হ্যান্ডস্‌কম্ব ছাড়া কেউ ৫০-এর গণ্ডি পেরোননি। বোলারদের কৃপণতার জন্য ২৩১-এই শেষ হয়ে যায় ভারত।

অস্ট্রেলিয়া থেকে সিরিজ জিতে নিয়ে ভারতের গন্তব্য এ বার নিউজিল্যান্ড। সে দেশে পাঁচটা একদিনের ম্যাচের পর দেশের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আরও পাঁচটা একদিনের ম্যাচ খেলবে ভারত। সুতরাং বিশ্বকাপের আগে আর দশটা ম্যাচ পাবে ভারত। তাই এই সিরিজ জয় ভারতের কাছে নিঃসন্দেহে একটা স্বস্তির ব্যাপারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here